Repo Rate: ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ!’ রেপো রেট নিয়ে বড় ঘোষণা RBI-র, ইএমআই বাড়বে না কমবে?

RBI on Repo Rate: আরবিআই গভর্নর বলেন, গত মুদ্রানীতি বৈঠকের পর থেকে রাজনৈতিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।

Published on: Apr 8, 2026, 14:06:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Repo Rate: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার আবহে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। বুধবার আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণা করেছেন, ছয় সদস্যের মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি) সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের পর থেকে এই হার আর পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থাৎ, উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের ঋণের ইএমআই কমার কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই।

রেপো রেট নিয়ে বড় ঘোষণা RBI-র (REUTERS)
রেপো রেট নিয়ে বড় ঘোষণা RBI-র (REUTERS)

মার্কিন-ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই আরবিআই রেপো রেট অপরিবর্তি রাখার ঘোষণা করল। এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই বৈশ্বিক বাজারে উন্নতি হয়েছে। ভারতের শেয়ার বাজারেও বেশ ভাল উত্থান হয়েছে। বলে রাখা ভালো, প্রতি ত্রৈমাসিকেই বৈঠকে বসে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি কমিটি বা মনিটারি পলিসি কমিটি। দেশের আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে এই কমিটির সদস্যরা রেপো রেট বাড়ানো বা কমানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এবারের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কারণ নতুন অর্থবর্ষের শুরুতে এটাই প্রথম বৈঠক ছিল। পাশাপাশি ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে যে টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই দেশের আর্থিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় আরবিআই। আরবিআই গভর্নর জানান, এই মুহূর্তে সুদের হার পরিবর্তনের বদলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছে এমপিসি। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি রেট ৫ শতাংশ এবং মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি ও ব্যাঙ্ক রেট ৫.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আরবিআই তাদের ‘নিউট্রাল’ নীতিগত অবস্থানও বজায় রেখেছে।

কেন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হল?

আরবিআই গভর্নর বলেন, গত মুদ্রানীতি বৈঠকের পর থেকে রাজনৈতিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সতর্কভাবে এগোনোই শ্রেয় বলে মনে করছে আরবিআই। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত কারণে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর কথায়, 'হেডলাইন ইনফ্লেশন এখনও লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি বেড়েছে।' আরবিআই জানিয়েছে, কোর ইনফ্লেশন আপাতত নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং দ্বিতীয় দফার মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ, এখনকার চাপ ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে। এই কারণেই মনিটারি পলিসি কমিটি আপাতত ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি গ্রহণ করেছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত, আরবিআই রেপো রেট মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। আরবিআই-এর পূর্ববর্তী মুদ্রানীতিতে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রেপো রেটের ক্ষেত্রে স্থিতিশিলতা বজায় রেখেছিল। আরবিআই আশা করছে যে, ২০২৭ অর্থবর্ষে অর্থনৈতিক স্থিরতার গতি ভালোই থাকবে। এর পাশাপাশি তারা ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬.৯ শতাংশ করেছে এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের পূর্বাভাস ৬.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে সেটা থাকতে পারে ৭.২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসের নীতি ঘোষণায়, এমপিসি ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের মুদ্রাস্ফীতির গতি বাড়িয়ে ৪.০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের গতি বাড়িয়ে ৪.২ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল।