India's Russian energy purchases: 'ভারতকে আক্রমণ…,' রুশ তেল ইস্যুতে ইউরোপকে তুলোধোনা করে কড়া বার্তা বিদেশমন্ত্রীর
India's Russian energy purchases: এস জয়শঙ্কর বলেন, 'প্রথমে রুশ তেল কেনার জন্য শুল্ক চাপানো হল। তারপর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলেও নেওয়া হল। তাই তেল কেনাবেচার সঙ্গে নৈতিকতা বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলি অহেতুক জড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।'
India's Russian energy purchases: ভারতের রাশিয়া নীতি নিয়ে ইউরোপীয় সমালোচনার পাল্টা জবাব দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিক্রি করা অস্ত্র বছরের পর বছর ধরে ভারতের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে, অথচ তারাই নয়াদিল্লির রুশ তেল ক্রয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রুশ তেল আমদানি ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুলোধোনা করলেন বিদেশমন্ত্রী। ফিনল্যান্ডের সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির মধ্যে কোনও উদারতা নেই। তাই ভারত যদি রুশ তেল কেনে, সেটাকে রাশিয়ার প্রতি পক্ষপাতিত্ব হিসাবে ধরে নেওয়া যায় না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের খামখেয়ালিপনাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন এস জয়শঙ্কর।

বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডের এক সম্মেলনে ভারতের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোতে ইউরোপের ঐতিহাসিক ও নৈতিক দ্বিচারিতা বা অসঙ্গতিকে তুলে ধরেন এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, 'কোনও ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় অস্ত্রে আক্রান্ত হয়নি। আমি যদি ইউরোপের অস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারতের ব্যাপারে একই কথা বলতে পারতাম।' এই বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলে, বিদেশমন্ত্রী ইউরোপের অস্ত্র রপ্তানি নীতি নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, 'ইউরোপ অস্ত্র বিক্রি করে, যা ভারতকে আক্রমণ করতে ব্যবহৃত হয়। শুধু এখন নয়, বহু বছর ধরে। আমরা ভারতীয়রা ইউরোপকে বিপদের মধ্যে ফেলার মতো কিছুই কখনও করিনি। আমি মনে করি এটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত বিষয়।' পাশাপাশি, ২০২২ থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমের একাধিক দেশ রুশ তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। সে সময়ে কম দামে রুশ তেল কেনা শুরু করে ভারত। হুহু করে রুশ তেল আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। প্রথম থেকেই এই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু নয়া দিল্লির স্পষ্ট অবস্থান ছিল, জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে যেখান থেকে তেল আমদানি লাভজনক, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে। একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই কথা বারবার বলেছেন জয়শঙ্কর থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এদিনও সেই একই কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
এই গোটা বিষয়ে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনাই প্রমাণ হয় বলে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেছেন এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, 'প্রথমে রুশ তেল কেনার জন্য শুল্ক চাপানো হল। তারপর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলেও নেওয়া হল। তাই তেল কেনাবেচার সঙ্গে নৈতিকতা বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলি অহেতুক জড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।' নাম না করে বিদেশমন্ত্রী খোঁচা, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেভাবে নৈতিকতাকে ব্যবহার করছেন, সেটা না করাই উচিত। তিনি আরও বলেছেন, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন, তখন রুশ তেল কিনতে বারণ করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি পালটালে রুশ তেল কিনতে বলা হয়। পুরোটাই নির্ভর করছে মার্কিন সুবিধা-অসুবিধার উপর। বলে রাখা ভালো, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর থেকে ছবিটা পাল্টাতে থাকে। গত বছর আগস্ট মাসে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প, রুশ তেল কেনার 'অপরাধে।' তারপরই তিনি স্পষ্ট জানান, তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে ইউক্রেনে হত্যালীলা চালাচ্ছে রাশিয়া। সে কারণেই রুশ তেল আমদানিকারী দেশগুলিকে 'শাস্তি' দেওয়া হবে। ভারতকে 'নির্দেশ' দেন ট্রাম্প, রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যুদ্ধ। তেলের বাজার একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে সময়ে ভারতকে রুশ তেল কেনার 'অনুমতি'ও দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
E-Paper

