Saudi Arabia: অবরোধে ক্ষুব্ধ ইরান আটকাতে পারে নয়া জলপথ, সিদ্ধান্ত বদলাতে US-কে চাপ সৌদির

Saudi Arabia: মূলত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে তেহরান দেখিয়েছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোয় হামলা চালাতে সক্ষম ও প্রস্তুত। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ঝুঁকির হিসাব বদলে গেছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল হুমকির মুখে পড়েছে।

Published on: Apr 14, 2026 9:10 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Saudi Arabia: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরব আশঙ্কা করছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বন্দর 'অবরোধের' সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে।

US-কে চাপ সৌদি আরব-র (সৌজন্যে টুইটার)
US-কে চাপ সৌদি আরব-র (সৌজন্যে টুইটার)

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ তুলে নিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য 'চাপ দিচ্ছে।' আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বন্দর অবরোধ করলে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নৌপথেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই 'অবরোধ' পরিকল্পনার লক্ষ্য হল ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা। তবে সৌদি আরব সতর্ক করে দিয়েছে, এর জবাবে ইরান বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। এটি লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং সৌদি আরবের বাকি তেল রপ্তানির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপসাগরীয় উদ্বেগ

মূলত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে তেহরান দেখিয়েছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোয় হামলা চালাতে সক্ষম ও প্রস্তুত। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ঝুঁকির হিসাব বদলে গেছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল হুমকির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের মাঝেও সৌদি আরব মরুভূমি পেরিয়ে লোহিত সাগরে তেল পাঠিয়ে দৈনিক প্রায় ৭০ লক্ষ ব্যারেল রপ্তানি আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। তবে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ চলতে থাকায় তারা বিকল্প পথে নির্ভর করছে। রিয়াদের আশঙ্কা, বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে এই রপ্তানিও ঝুঁকিতে পড়বে। ইয়ামেনের একটি বড় উপকূলীয় এলাকা ইরানের মিত্র হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা গাজা যুদ্ধের সময় এই নৌপথে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছিল। আরব কর্মকর্তাদের মতে, ইরান এখন হুথিদের ওপর চাপ দিচ্ছে যেন তারা আবারও এই চোকপয়েন্টটি বন্ধ করে দেয়। নিউ আমেরিকা পলিসি ইনস্টিটিউটের ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম ব্যারন জানিয়েছেন, ইরান যদি বাব এল-মান্দেব বন্ধ করতে চায়, তবে হুথিরাই তাদের জন্য উপযুক্ত অংশীদার, কারণ গাজা সংকটের সময় তারা তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

বাব এল-মান্দেব প্রণালী

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকারী ইরানি আধা-সামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডের ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, অবরোধের কারণে ইরান লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারটিও বন্ধ করে দিতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো চায় না এই যুদ্ধের শেষেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাক। কিন্তু সৌদি আরব-সহ অনেক দেশই এখন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে জোর দিচ্ছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষই নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিদেশ নীতি উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি গত ৫ এপ্রিল সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, ইরান বাব এল-মান্দেবকে হরমুজ প্রণালীর মতোই দেখে। হোয়াইট হাউস যদি তাদের ভুলের পুনরাবৃত্তি করে, তবে তারা দেখবে এক সংকেতেই বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি প্রবাহ থমকে যেতে পারে। সোমবারই ইরান পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বন্দরগুলোতেও হুমকি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি নিউজে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, যদি পারস্য উপসাগরে ইরানের কোনও বন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তবে এই অঞ্চলের অন্য কোনও বন্দরও নিরাপদ থাকবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা

যুদ্ধের শুরুতে হরমুজ প্রণালীতে হামলা চালিয়ে ইরান এই পথটি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি আটকে গেছে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার যে মার্কিন প্রচেষ্টা, সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থান মূলত তার সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকিরই বহিঃপ্রকাশ। গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্পের বোমাবর্ষণ আর আলোচনার হুমকি যখন ইরানকে দমাতে ব্যর্থ হয়, তখন সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে চেয়েছেন জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালী যেন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে... প্রশাসন নিয়মিতভাবে উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও দেশকে জোরাজুরি করতে না পারে।’

ইরানের সমস্যা

উপসাগরীয় দেশগুলো চায় না, এই যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকুক। কারণ এটি তাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরব-সহ অনেক দেশই এই সমস্যার সমাধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ফেরার চাপ দিচ্ছে। তারা আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রকাশ্যে দুই পক্ষ কঠোর অবস্থান নিলেও তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। যথেষ্ট নমনীয়তা দেখালে তারা আলোচনায় বসতেও রাজি।