আরও একটা মহাসাগরের সন্ধান! রয়েছে আমাদের পায়ের নীচেই, বিরাট আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের

আরও একটা মহাসাগর! একেবারে আমাদের ‘নাগালের মধ্যে’ই। এতদিন লুকিয়ে ছিল এটি। অবশেষে সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। 

Published on: Apr 6, 2026, 10:15:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পৃথিবীর গভীরে লুকানো রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমরা এতদিন জানতাম পৃথিবীর জলভাগ বলতে কেবল মহাসাগর, নদ-নদী আর ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে বোঝায়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের পায়ের কয়েকশো কিলোমিটার নিচে লুকিয়ে আছে এক বিশাল 'জলভাণ্ডার', যা পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের মিলিত জলের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

আরও একটা মহাসাগরের সন্ধান! রয়েছে আমাদের পায়ের নীচেই, বিরাট আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের
আরও একটা মহাসাগরের সন্ধান! রয়েছে আমাদের পায়ের নীচেই, বিরাট আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিনের গবেষণার পর নিশ্চিত করেছেন যে, পৃথিবীর পৃষ্ঠতল থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৬৬০ কিলোমিটার নিচে, অর্থাৎ 'ট্রানজিশন জোন' (Transition Zone)-এ একটি বিশাল জলের ভাণ্ডার রয়েছে। এই আবিষ্কারটি কেবল চমকপ্রদই নয়, এটি পৃথিবীর জলচক্র এবং গ্রহের উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

(আরও পড়ুন: আলোর গতি তো জানেন, অন্ধকারের গতি কত জানেন কি? নতুন আবিষ্কার চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের! বদলে যেতে পারে অনেক হিসাব)

রিংউডাইট: জলের ধারক নীল খনিজ

এই জলভাণ্ডারটি কিন্তু আমাদের পরিচিত তরল সমুদ্রের মতো নয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই জল 'রিংউডাইট' (Ringwoodite) নামক একটি বিশেষ নীল খনিজের মধ্যে আটকে আছে। উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার কারণে এই খনিজটি স্পঞ্জের মতো জল শুষে রাখতে পারে। ভূতত্ত্ববিদ স্টিভ জ্যাকবসেনের মতে, এই খনিজটি পৃথিবীর ম্যান্টলের গভীরে এক বিশাল আর্দ্র অঞ্চল তৈরি করেছে।

(আরও পড়ুন: আমরা নাকি মোটে ‘৮০ শতাংশ’ মানুষ! বাকি ২০ শতাংশ জুড়ে কারা? DNA-এর ভিতর থেকে ভূতুড়ে সংকেত পেলেন বিজ্ঞানীরা)

কীভাবে মিলল এই রহস্যের সন্ধান?

গবেষকরা উত্তর আমেরিকা জুড়ে স্থাপিত কয়েক হাজার সিসমোমিটার (Seismometer) থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ভূমিকম্পের তরঙ্গ যখন পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন যে, নির্দিষ্ট একটি গভীরতায় শিলাগুলো ভিজে বা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় রয়েছে। তরঙ্গের এই মন্থর গতিই নিশ্চিত করেছে যে সেখানে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রক্সিল আয়ন (জলের উপাদান) বিদ্যমান।

(আরও পড়ুন: আগে নীল বলে কোনও রংই ছিল না, সমুদ্রের জলও ছিল ‘ওয়াইনের মতো লাল’! কোথা থেকে এল এই নীল? জানলে চমকে যাবেন)

পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর উৎস কী?

বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক ছিল যে, পৃথিবীতে জল কি ধূমকেতুর আছড়ে পড়ার মাধ্যমে এসেছিল, নাকি এটি পৃথিবীর জন্মের সময় থেকেই ভেতরে ছিল? এই নতুন আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মহাসাগরের জল হয়তো পৃথিবীর ভেতর থেকেই চুঁইয়ে উপরে উঠে এসেছে। যদি এই গভীর জলভাণ্ডারটি না থাকত, তবে পৃথিবীর ওপরের জলস্তর হয়তো অনেক বেশি হতো এবং আজ আমরা ডাঙ্গায় বসবাসের পরিবর্তে কেবল জলমগ্ন এক গ্রহে বাস করতাম।

(আরও পড়ুন: কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা রান্না করতে পারে! অন্য কেউ পারল না কেন?)

ভূ-তাত্ত্বিক প্রভাব

পৃথিবীর গভীরে এই জলের উপস্থিতি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এবং টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জল শিলাগুলোকে কিছুটা পিচ্ছিল বা নমনীয় রাখে, যার ফলে প্লেটগুলোর নড়াচড়া সহজ হয়। এই আবিষ্কারটি আগামীর ভূমিকম্প গবেষণা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

(আরও পড়ুন: পুরুষের পেটে ‘সন্তান’! নাগপুরের সঞ্জু ভগতের ঘটনা এখনও এক বিস্ময়, Fetus-in-Fetu-র বিরল উদাহরণ)

প্রকৃতি তার রহস্যের ঝুলি নিয়ে আমাদের সবসময়ই অবাক করে। যেখানে মানুষের পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব, সেই গভীর ম্যান্টলে লুকিয়ে থাকা এই 'লুকানো মহাসাগর' আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনও কতটা সীমিত। এই আবিষ্কার কেবল ভূ-বিজ্ঞানের সাফল্য নয়, এটি আমাদের নীল গ্রহের টিকে থাকার এক অদৃশ্য চালিকাশক্তি হিসেবেও প্রমাণিত হতে পারে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More