Mount Sharat Arctic: উত্তর মেরুর কাছে একটি শৃঙ্গ এক বাঙালির নামে! কে ছিলেন এই বৈজ্ঞানিক, শুনলে চমকে যাবেন
Sharat Kumar Roy geologist: কানাডার কাছে একটি শৃঙ্গের নাম এক বাঙালির বৈজ্ঞানিকের নামে। অথচ বহু বাঙালিই আজ আর তাঁর কথা মনে রাখেননি। কে ছিলেন এই শরৎকুমার রায়? আজ ফিরে দেখা যাক।
Indian scientist Baffin Island: সুদূর উত্তর মেরু সংলগ্ন বাফিন আইল্যান্ডে একটি বরফাবৃত শৃঙ্গ সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে, যার নাম ‘মাউন্ট শরৎ’ (Mount Sharat)। ভারত থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে, আর্কটিক সাগরের নির্জনতায় এক বাঙালির নামে এই শৃঙ্গ কেন? কে ছিলেন এই শরৎকুমার রায়? আজ জেনে নেওয়া যাক।

বাঙালি মানেই ভ্রমণপিপাসু, কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতে একজন বাঙালি পৃথিবীর দুর্গমতম প্রান্ত আর্কটিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন—এ তথ্য অনেকেরই অজানা। ১৯২৭ সালের কথা। বাফিন আইল্যান্ডের এক নামহীন শৃঙ্গের নাম রাখা হয় ‘মাউন্ট শরৎ’। এই নামকরণের পেছনে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞান, সাহস এবং অদম্য কৌতূহলের এক মহাকাব্যিক গল্প।
কে ছিলেন শরৎকুমার রায়?
শরৎকুমার রায়ের জন্ম ১৮৯৭ সালে, অবিভক্ত বাংলার বীরভূম জেলায়। শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি আমেরিকা পাড়ি দেন এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব ও প্যালিওন্টোলজিতে ডক্টরেট লাভ করেন। এরপর তিনি শিকাগোর বিখ্যাত ‘ফিল্ড মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি’-তে কিউরেটর হিসেবে যোগ দেন। তিনিই ছিলেন এই মিউজিয়ামের প্রথম ভারতীয় কিউরেটর।
আর্কটিক অভিযানের প্রেক্ষাপট
১৯২৭ সালে বিখ্যাত নৌ-সেনাপতি ডোনাল্ড বি. ম্যাকমিলানের নেতৃত্বে ‘রসন-ম্যাকমিলান সাবআর্কটিক এক্সপেডিশন’ (Rawson-MacMillan Subarctic Expedition) আয়োজিত হয়। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল উত্তর মেরুর কাছে ল্যাব্রাডর এবং বাফিন আইল্যান্ড অঞ্চলের ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করা।
শরৎকুমার রায় এই অভিযানে একজন মুখ্য ভূতাত্ত্বিক (Geologist) হিসেবে মনোনীত হন। তিনিই ছিলেন এই অভিযানে অংশ নেওয়া একমাত্র অ-শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি। প্রচণ্ড ঠান্ডা, তুষারঝড় আর প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবিলা করে তিনি মাসের পর মাস সেখানে গবেষণা চালান।
কেন তাঁর নামে এই শৃঙ্গ?
বাফিন আইল্যান্ডের কাছে ফ্রবিশার বে (Frobisher Bay) অঞ্চলে গবেষণা চালানোর সময় শরৎকুমার রায় ওই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর অসাধারণ মেধা এবং সাহসিকতার প্রতি সম্মান জানিয়ে অভিযাত্রী দল সেখানে একটি পর্বতশৃঙ্গের নাম রাখেন ‘মাউন্ট শরৎ’। এটি কেবল একজন বিজ্ঞানীর সম্মান নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণায় এক বাঙালির শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি।
শরৎকুমারের বৈজ্ঞানিক অবদান
শরৎকুমার রায় কেবল মাউন্ট শরতের জন্যই বিখ্যাত নন। তিনি উল্কাপাত নিয়ে গবেষণায় (Meteoritics) বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন। তাঁর গবেষণার ফসল হিসেবে শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামে উল্কাপিণ্ডের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ওঠে। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, উত্তর মেরুর প্রতিকূল পরিবেশেও বিজ্ঞানসাধনা সম্ভব। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে তিনি আমেরিকার ‘মেটিওরিটিক্যাল সোসাইটি’-র কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
আজকের যুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা অ্যাডভেঞ্চারের কথা ভাবি, তখন শরৎকুমার রায়ের এই কীর্তি আমাদের অনুপ্রাণিত করে। সুদূর আর্কটিকের নির্জনতায় ‘মাউন্ট শরৎ’ আজও দাঁড়িয়ে আছে এক অকুতোভয় বাঙালির জয়গান গেয়ে। বাঙালি কেবল ঘরে বসে স্বপ্ন দেখে না, বরফশুভ্র উত্তরমেরুর চূড়াতেও নিজের নাম খোদাই করতে জানে—শরৎকুমার রায় তার জীবন্ত প্রমাণ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


