IPL 2026: তিন বলে ক্ষতি ৮৯ লক্ষ!ইতিহাস গড়ে দিল্লি জিতল শ্রেয়সের PBKS,মাসুল দিল রাহুলরা
IPL 2026: শনিবার আগে ব্যাট করতে নেমে ৬৭ বলে ১৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের লোকেশ রাহুল। দলের সংগ্রহটাও এবারের আসরের সর্বোচ্চ ২৬৪ রান।
IPL 2026: একটা সময় দিল্লি-পাঞ্জাব ম্যাচটা ছিল একেবারেই সমানে-সমানে। লোকেশ রাহুলের ১৫২ ও নীতীশ রানার ৯১ রানের সৌজন্যে দিল্লি ক্যাপিটালস তুলেছিল ২৬৪ রান। সেই রানও যে অতিক্রম করা যায় তা দেখিয়ে দিল শ্রেয়স আইয়ারের পাঞ্জাব কিংস। ২৬৪ রান তাড়া করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় পাঞ্জাব কিংস। দিল্লি ক্যাপিটালসের পরাজয়ের সম্ভবত সবথেকে বড় কারণ দলের জঘন্য ফিল্ডিং। পরপর দুই ওভারে অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের সহজ দুটি ক্যাচ মিস করেন বদলি ফিল্ডার করুণ নায়ার। তখন এই জীবন ফিরে পাওয়া ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে যায়। আর পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে করুণ নায়ারের জোড়া ক্যাচ মিসের কারণে দিল্লি ক্যাপিটালসের আনুমানিক ৮৯.৩৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
দিল্লি ক্যাপিটালসের ৮৯ লক্ষ টাকা ক্ষতি
শনিবার আগে ব্যাট করতে নেমে ৬৭ বলে ১৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের লোকেশ রাহুল। দলের সংগ্রহটাও এবারের আসরের সর্বোচ্চ ২৬৪ রান। ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটাও নিজের নামে করেন রাহুল। সব মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ, শীর্ষে ক্রিস গেইলের ১৭৫, এরপর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ১৫৮। তবে পাঞ্জাব কিংসের কাছে যে এই লক্ষ্য ছেলেখেলা হবে তা কে জানত! ২৬৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারের দল। সেই সঙ্গে আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ডেও নিজেদের নামটা লেখাল পাঞ্জাব। তবে ১৪.৫ ওভার শেষে পাঞ্জাবের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২০২ রান, তখনও ৩১ বলে ৬৩ রান প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় রান রেট ছিল ১২-এর বেশি। শ্রেয়াস তখন ২০ বলে ২৮ রানে ব্যাট করছিলেন। বিপরাজ নিগমের বলে নেহাল ওয়াধেরা আউট হওয়ার পরে কুলদীপ যাদবের ওভারে দুই দুই বার ক্যাচ তোলেন শ্রেয়স আইয়ার। পাঞ্জাব অধিনায়ককে সাজঘরে ফেরালে দিল্লির জয়ের আশা বাড়তই।
কিন্তু দুইবারই করুণ নায়ার ক্যাচ মিস করেন। এর আগে কুপার কনোলিরও ক্যাচ ধরে মুকেশ কুমার খানিকটা অদ্ভুতভাবে স্লিপ করে বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করেন। প্রিয়াংশের ক্যাচ মিস তো আছেই। এই ক্যাচ মিসগুলিই ভোগাল দিল্লিকে। শেষমেশ শ্রেয়াস আইয়ার ৩৬ বলে ৭১ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং পাঞ্জাব কিংস আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে (২৬৫ রান) ম্যাচটি জিতে নেয়। এদিকে, পরপর দুটি ক্যাচ মিস করার জেরে ম্যাচের ফলাফল অনুযায়ী দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রায় ৮৯.৩৮ লক্ষ টাকার 'ব্যাটিং-কনসিকোয়েন্স' বা রান-সংক্রান্ত ক্ষতি হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। পরিসংখ্যানগত মডেল অনুযায়ী, দ্বিতীয়বার সুযোগ নষ্ট করার মূল্য ছিল প্রায় ৪০.৫২ লক্ষ টাকা। এবং প্রথমবার ক্যাচ মিস করার জন্য মূল্য দিতে হবে ৪৮.৮৬ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে দুটি ড্রপ করা ক্যাচের সম্মিলিত 'ব্যাটিং-কনসিকোয়েন্স ভ্যালু' ৮৯.৩৮ লক্ষ টাকা।
যেহেতু শ্রেয়াস আইয়ার একজন সেট ব্যাটসম্যান ছিলেন, তাই তাঁকে আউট করতে না পারার খেসারত হিসেবে দিল্লির যে অতিরিক্ত রান হজম করতে হয়েছে বা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়েছে, তার সম্মিলিত আর্থিক মূল্য ওই ৮৯.৩৮ লক্ষ টাকা। সরাসরি ফিল্ডিং পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ক্যাচ মিসের জন্য যে নির্দিষ্ট পয়েন্ট (৭ পয়েন্ট) কাটা হয়, তার ভিত্তিতে ৩২.০৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি সরাসরি করুণের নামের পাশে বসেছে। সহজ কথায়, ৩২ লক্ষ টাকা হলো ক্যাচ মিসের মাসুল, আর ৮৯ লক্ষ টাকা হলো সেই ক্যাচ মিসের ফলে শ্রেয়াস আইয়ার উইকেটে থেকে দিল্লির যে ক্ষতিটা করেছেন তার মূল্যায়ন। ২৬৪ রান করার পরেও দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য এই ছোট ছোট ভুলগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
E-Paper

