Cricket Unique Record: ৪২ ছক্কায় ১৩৭ বলে অপরাজিত ৪০২ রান- বাবার সঙ্গে ৫৯০ রানের জুটি গড়লেন ছেলে!
৪২ ছক্কায় ১৩৭ বলে অপরাজিত ৪০২ রান- বাবার সঙ্গে ৫৯০ রানের জুটি গড়লেন ছেলে। এমনই অবিস্মরণীয় নজির তৈরি হল ক্রিকেটে। তার ফলে ৪০ ওভারে এক উইকেটে ৬১৩ রান তুলে ফেলে বাবা-ছেলের দল। কোথায় এমন দুর্দান্ত রেকর্ড তৈরি হল?
ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, আর এই খেলায় মাঝে-মাঝে এমন কিছু ঘটে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ক্রিকেটে ঘটে গেল তেমনই এক অলৌকিক ঘটনা। ২২ গজের ক্রিজে যখন বাবা এবং ছেলে একসঙ্গে ব্যাট করতে নামেন, তখন আবেগ আর লড়াইয়ের এক অনন্য মিশেল তৈরি হয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন রিজিয়নাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (WRCA) আয়োজিত একটি ম্যাচে যা ঘটল, তা কেবল আবেগ নয়, রীতিমতো রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো বাবা ও ছেলে মিলে ৫৯০ রানের এক অবিস্মরণীয় পার্টনারশিপ গড়লেন। সিডনহ্যাম হিলসাইড ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে এই কীর্তি গড়েছেন বাবা অ্যান্ড্রু ক্যাসেল এবং তাঁর ছেলে জোশুয়া ক্যাসেল। ভিক্টোরিয়ার এই দুই ব্যাটার প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করেছেন। তাঁদের ব্যাটিং তাণ্ডবে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে দশকের পর দশক ধরে টিকে থাকা বহু রেকর্ড।

ছেলের বিধ্বংসী ৪০২ রান ও ৪২টি ছক্কা
এই ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন তরুণ জোশুয়া ক্যাসেল। তিনি যখন ক্রিজে আসেন, তখন থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর 'চড়াও' হন। ব্যক্তিগতভাবে জোশুয়া ১৩৭ বলে ৪০২ রান করেন। তাঁর এই অতিমানবীয় ইনিংসে ছিল অবিশ্বাস্য ৪২টি ছক্কা এবং ২৬টি চার। অর্থাৎ, কেবল বাউন্ডারি থেকেই তিনি ৩২০ রান সংগ্রহ করেছেন। জোশুয়ার ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল এটি কোনও পেশাদার ক্রিকেট ম্যাচ নয়, বরং ভিডিয়ো গেমের কোনও দৃশ্য।
যোগ্যসঙ্গত বাবার
একদিকে যখন ছেলে চার-ছক্কার বৃষ্টি বইয়ে দিচ্ছিলেন, তখন অন্য প্রান্তে পাহাড়ের মতো অটল ছিলেন বাবা অ্যান্ড্রু ক্যাসেল। তিনি ১২৫ বলে ১২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাবার মূল লক্ষ্য ছিল ছেলেকে সাহস দেওয়া এবং উইকেট ধরে রেখে স্ট্রাইক রোটেট করা। অ্যান্ড্রু জানিয়েছেন, ছেলের সঙ্গে মাঠে দাঁড়িয়ে এই ধরনের ব্যাটিং দেখা তাঁর জীবনের সেরা প্রাপ্তি। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু চেয়েছিলাম জশ যেন ওর স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যেতে পারে। ওর মারকুটে মেজাজ দেখে আমি স্রেফ অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম।’
রেকর্ডের পাতায় নাম
ক্লাব ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ৫৯০ রানের জুটি সম্ভবত সব ফর্ম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ। সিডনহ্যাম হিলসাইড নির্ধারিত ৪০ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৬১৩ রান সংগ্রহ তোলে। জোশুয়ার ৪০২ রান ক্লাব ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকার প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই স্কোরকার্ড শেয়ার হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা বলছেন, বাবা-ছেলের এমন যুগলবন্দী ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল।
প্রতিপক্ষ শিবিরের দশা
জোশুয়া এবং অ্যান্ড্রুর এই ব্যাটিং তান্ডবে প্রতিপক্ষ দলের বোলারদের অবস্থা ছিল শোচনীয়। কোনও বোলারই তাঁদের থামাতে পারেননি। একের পর এক বল মাঠের বাইরে আছড়ে পড়ছিল। এই রান পাহাড় তাড়া করতে নেমে প্রতিপক্ষ দল মানসিকভাবে শুরুতেই হেরে যায়।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper











