Sonam Wangchuk Latest Update: অনশন চালিয়েই যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক, শারীরিক অবস্থায় উদ্বেগ; কড়া নজরে চিকিৎসকরা
সফদরজং হাসপাতাল এবং বর্ধমান মহাবীর মেডিক্যাল কলেজ (VMMC)-এর চিকিৎসকদের বুলেটিন অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের রক্তে শর্করার মাত্রা এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে। এছাড়া রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রাও কমে ৩.২ mEq/L-এ নেমে এসেছে।
লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াংচুকের শারীরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচক আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও, দীর্ঘদিনের অনশনের প্রভাব তাঁর শরীরে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, তাঁর অবস্থা এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সফদরজং হাসপাতাল এবং বর্ধমান মহাবীর মেডিক্যাল কলেজ (VMMC)-এর চিকিৎসকদের বুলেটিন অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের রক্তে শর্করার মাত্রা এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে। এছাড়া রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রাও কমে ৩.২ mEq/L-এ নেমে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং নিয়মিত পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, ওয়াংচুক এখনও প্যানসাইটোপেনিয়া-য় ভুগছেন। অর্থাৎ তাঁর শরীরে লোহিত রক্তকণিকা এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াংচুককে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) এবং মুখে খাওয়ার পটাশিয়াম দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের বারবার পরামর্শ সত্ত্বেও তিনি শিরায় স্যালাইন বা গ্লুকোজ নিতে রাজি হননি। ফলে শরীরে এখনও হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার জলশূন্যতা রয়েছে। দীর্ঘদিনের অনশনের কারণে শরীরে যে শারীরবৃত্তীয় চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও চিকিৎসকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ।
মেডিক্যাল বুলেটিনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াংচুকের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন। ভবিষ্যতে কোনও জটিলতা তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসা তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং ধারাবাহিক রক্ত পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলনের সমর্থনে অনশন করছিলেন সোনম ওয়াংচুক। অনশন চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেও তিনি অনশন চালিয়ে যেতে চান এবং আন্দোলনস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছেন।
এদিকে, সোমবার দিল্লিতে সিজেপির 'চলো সংসদ' কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। হাজার হাজার সমর্থক সংসদের দিকে মিছিল করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। রাজধানীর একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ, যান চলাচলে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়।
এই ঘটনার জেরে দিল্লি পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন কনট প্লেস এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় পুলিশ ও সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর করা হয়েছে, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছে এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের জ্যাকেট ও হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে, একদিকে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে তাঁর সমর্থনে চলা আন্দোলনও রাজধানীতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


