Sonam Wangchuk Update: ভাঙলেন ২৬ দিনের অনশন, কীভাবে সোনম ওয়াংচুককে রাজি করাল কেন্দ্র?
টানা ২৬ দিন অনশনের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস পাওয়ার পর অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন সোনম ওয়াংচুক। সরকারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আশ্বাসপত্র ওয়াংচুকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
Sonam Wangchuk Update: প্রায় এক মাসের টানা অনশনের পর অবশেষে আন্দোলন স্থগিত করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন তিনি। টানা ২৬ দিন অনশনের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে ভর্তি ওয়াংচুককে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং সাক্ষাৎ করেন। পরে তাঁদের হাত থেকেই স্যুপ পান করে অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক। সেই সময় তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রের খবর, সরকারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আশ্বাসপত্র ওয়াংচুকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই চিঠিতে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনকারী এবং ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সংসদে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের স্থায়ী সমাধান এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, সাম্প্রতিক নিট কেলেঙ্কারির জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানানো হয়েছে।
এই আশ্বাসগুলির পরই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনা এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তাঁর সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে যে কোনও ধরনের হিংসা থেকে দূরে থাকার আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থনে ২৮ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। শুরুতে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি তোলা হয়েছিল। পরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর ওয়াংচুক তাঁর দাবিতে কিছু পরিবর্তন আনেন। তিনি জানিয়েছিলেন, যদি সরকার সংসদে এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনায় রাজি হয় এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার আশ্বাস দেয়, তাহলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।
অন্যদিকে, ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থেকে সরে আসেনি ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর-মন্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান-বিক্ষোভ চলবে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে সোনম ওয়াংচুকের সাহস ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর এই লড়াই গোটা দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তবে আন্দোলনের মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি।
সব মিলিয়ে, ২৬ দিনের অনশনের অবসান হলেও নিট কেলেঙ্কারি এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের অধ্যায় এখনও শেষ হয়নি। এখন নজর থাকবে, সরকার সংসদে দেওয়া আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত করতে পারে এবং আন্দোলনকারীদের দাবি কতটা পূরণ হয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


