Monsoon: অবশেষে স্বস্তি! চলতি সপ্তাহেই ঢুকছে বর্ষা, দক্ষিণ ভারত-সহ একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস IMD-র
Monsoon: আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হবে। বিশেষ করে কেরলে বর্ষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে।
Monsoon: প্যাচপ্যাচে গরমের মাঝে অবশেষে স্বস্তির খবর। চলতি বছরে নির্ধারিত সময়ে বর্ষা আসেনি। তবে বেশিদিন দেরিও হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর শোনাল ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আগামী ৪ জুন কেরলে প্রবেশ করতে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ ভারতে বর্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

আবহাওয়া দফতর প্রথমে জানিয়েছিল, ২৬ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। পরে জানানো হয়, ২৮ মে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ঢুকতে পারে। এরপরই ঘোষণা করা হয়, ১ জুনে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। চলতি মরশুমে তিনবার বর্ষার সম্ভাব্য আগমনের তারিখ সংশোধন করতে হয়েছে। তবে পয়লা জুনেও বর্ষা প্রবেশ করেনি। তবে এ বছর আন্দামানে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৫ দিন আগেই বর্ষা পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও অনুকূল পরিস্থিতির অভাবে ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার প্রবেশ কিছুটা দেরি হচ্ছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই কেরল ও তামিলনাড়ুর বেশ কিছু অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করতে পারে।
আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হবে। বিশেষ করে কেরলে বর্ষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে। আগামী ছয় থেকে সাত দিন রাজ্যের বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন এলাকায় ৭ সেন্টিমিটার থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কেরলের পাশাপাশি তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ আরব সাগরে আর্দ্রতা বহনকারী মৌসুমী বায়ুর গতি প্রকৃতি উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ উপদ্বীপের অনেক জায়গায় আগামী কয়েকদিন মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা বিদ্যুৎ পরিষেবা, অস্থায়ী কাঠামো এবং কৃষিকাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
দিল্লি-এনসিআর, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার ফলে তীব্র দাবদাহ থেকে কিছুটা মুক্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা যাবে মধ্য ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে। এছাড়া পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও বজ্রপাত সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। গত কয়েকদিনের প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টির ফলে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
কেন দেরি মৌসুমি বায়ুর প্রবেশে?
২০০৫ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত একবার মাত্র মৌসম ভবনের পূর্বাভাস মেলেনি। ২০১৫-এ পূর্বাভাস ছিল ৩০ মের। কিন্তু সেবার বর্ষা এসেছিল ছ’দিন পরে, ৫ জুন। ২০২৬-এ এসে পূর্বাভাস ঘোষণার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বার ব্যর্থ হলেন ভারতীয় আবহবিদরা। এ বছরে মৌসম ভবন তার প্রথম পূর্বাভাসে জানিয়েছিল বর্ষা ঢুকতে চলেছে ২৬ মে। সেই পূর্বাভাস মেলেনি। এরপরে তাঁরা জানান, বর্ষা প্রবেশের সম্ভাব্য তারিখ ২৮ মে। সেই পূর্বাভাসও মেলেনি। এরপরের সম্ভাব্য তারিখ ১ জুন দেওয়া হয়। কিন্তু, সোমবার রাত পর্যন্ত দেখা মেলেনি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর। গোটা দেশের কাছে তাই আপাতত একটাই প্রশ্ন-কেন দেরি হচ্ছে বর্ষার আগমনে?
মৌসম ভবনের মতে, দেশে বর্ষার আগমন ঘোষণা করার জন্য একসঙ্গে তিনটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। এর মধ্যে রয়েছে, কেরলে নির্ধারিত ১৪টি ওয়েদার স্টেশনের ৬০ শতাংশতে টানা তিন দিন অন্তত ২.৫ মিমি বৃষ্টি। আরব সাগরের উপরে নির্দিষ্ট গতিবেগের পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ এবং উপগ্রহ চিত্রে পর্যাপ্ত মেঘাচ্ছন্নতা। মৌসম ভবন জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে বর্ষা প্রবেশের পথে মূল সমস্যা হলো বায়ুপ্রবাহ। কেরল উপকূলের উপরে পশ্চিমা বায়ু এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। যদিও আর্দ্রতা পর্যাপ্ত রয়েছে এবং কেরল ও লক্ষদ্বীপের বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি ঘূর্ণাবর্ত এই পরিস্থিতিকে শুরুতেই জটিল করে তুলেছিল। সাধারণত ঘূর্ণিঝড় এবং ঘূর্ণাবর্তর মতো আবহাওয়া-ব্যবস্থা মৌসুমি বায়ুর জন্য প্রয়োজনীয় সুসংগঠিত বায়ুপ্রবাহকে ব্যাহত ও দুর্বল করে দেয়, ফলে বর্ষার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েকদিন মৌসুমী বায়ু কেরল থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে কতটা দ্রুত অগ্রসর হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। দেশের কোটি কোটি মানুষের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
E-Paper

