Kerala: ভোটার নাকি বিধায়কদের সমর্থন? কেরলের মসনদে কে? তিন নেতার নাম ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে
Kerala: কংগ্রেস সূত্রেই জানা যাচ্ছে, কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন কে সি বেণুগোপাল। তিনি রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ নেতা বলেই পরিচিত।
Kerala: দীর্ঘ দশ বছর পর ফের ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এর হাত ধরে কেরলে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস শিবির। তবে এই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সবার নজর কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন, সেই লড়াইয়ের দিকে। উঠে এসেছে তিন দাবিদারের নাম। তাঁরা হলেন- কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল, বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন এবং প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালা। দলীয় সূত্রে খবর, এই নিয়ে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে 'অভ্যন্তরীণ সমর্থন' এবং 'জনমত সমর্থন'-এর মধ্যে দোটানা হিসেবে দেখা হচ্ছে দলের অন্দরে।

সূত্রের খবর, বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন, রমেশ চেন্নিথালা এবং কে সি বেণুগোপাল ছাড়াও রাজ্য সভাপতি সানি জোসেফকে নিয়েও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁরা আরও জানান, কেরল সরকারের প্রধান কে হবেন, সে বিষয়ে রবিবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কংগ্রেস সূত্রে খবর, নব-নির্বাচিত বিধায়ক-সহ রাজ্যের দলীয় নেতা, সাধারণ মানুষ ও জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলার পর দিল্লি ফিরেছেন পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা দুই নেতা অজয় মাকেন ও মুকুল ওয়াসনিক। তাঁরা রিপোর্ট পেশ করেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে। অন্যদিকে, কেরলের বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর খাড়গের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ের পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তাঁর মতামত জানিয়েছেন।
কংগ্রেস সূত্রেই জানা যাচ্ছে, কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন বেণুগোপাল। তিনি রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ নেতা বলেই পরিচিত। নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে সংখ্যগরিষ্ঠের সমর্থন রাহুল ঘনিষ্ঠ বেণুগোপালের পাশেই রয়েছে বলে খবর। তবে সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কংগ্রেসকে নেতাদের বিষয়ে 'জনমত' বিবেচনা করতে হবে। কারণ, জনগণের মধ্যে থেকে সাধারণ যে মতামত উঠে আসছে, তাতে এগিয়ে রয়েছেন সতীশন। গত পাঁচ বছর তিনি বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও কংগ্রেস সংগঠনকে ধরে রাখা এবং শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বেই গত লোকসভা নির্বাচনে কেরলে ২০টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পায় ইউডিএফ। পাশাপাশি, পুরসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচনেও ভালো ফল করেছিল জোট। সংগঠন মজবুত করার পাশাপাশি এলডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সরব ছিলেন সতীশন।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের নামও জোরালোভাবে উঠে আসছে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের ৬৩ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে বড় অংশই বেণুগোপালের পক্ষেই রয়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি লোকসভার সাংসদ। মুখ্যমন্ত্রী হলে তাঁকে সাংসদ পদ ছাড়তে হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। এই বিষয়টি তাঁর ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া অভিজ্ঞ নেতা রমেশ চেন্নিতালার নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা ছিলেন। এর আগে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। ছয়বারের বিধায়ক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দৌড়ে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে। জানা গেছে, এআইসিসি পর্যবেক্ষকরা হাইকমান্ডকে জানিয়েছেন যে কেরলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাঁরা শরিকদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। যদিও কংগ্রেস হাইকমান্ড এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। দলীয় নেতৃত্ব কর্মী-সমর্থকদের ধৈর্য ধরার বার্তা দিলেও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
E-Paper

