Success Story: একাদশে ৩৪% নম্বর, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সময় ২৪ বার ব্যাকলগ, সেই সমীরই হলেন IPS অফিসার

Success Story: একাদশ শ্রেণিতে মাত্র ৩৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। বিটেক করার সময় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৪ বার ব্যাকলগ পেয়েছিলেন। সেই সমীর শর্মাই হলেন আইপিএস অফিসার। তিনি এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন অসংখ্য যুবক-যুবতীর কাছে।

Published on: Jul 6, 2026, 19:46:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Success Story: অনেকেই ভাবেন যে স্কুল বা কলেজের পরীক্ষার রেজাল্ট আহামরি না হলে জীবন তছনছ হয়ে যায়। জীবনে বড় কিছু করা হয় না। যারা স্কুল বা কলেজের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে, তারা জীবনে বড় কিছু করতে পারে না। বিশেষ করে পরীক্ষায় কম নম্বর বা 'ফেল' শব্দটিকে অনেকেই জীবনের শেষ বলে ধরে নেন। কিন্তু কেউ-কেউ এমনও থাকেন, যাঁরা নিজেদের কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সমাজের এই চেনা চিন্তাভাবনাকে এক লহমায় বদলে দেন। এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ক নাম হল আইপিএস অফিসার সমীর শর্মা। একসময় যে ছাত্রের রেজাল্ট দেখে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, আজ তিনিই দেশের লাখ-লাখ পরীক্ষার্থীর কাছে এক নতুন আশার আলো।

আইপিএস সমীর শর্মা। (ফাইল ছবি)
আইপিএস সমীর শর্মা। (ফাইল ছবি)

স্কুল ও কলেজের সেই দিনগুলো

দশম শ্রেণির পরীক্ষায় সমীর ৫৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। তারপর একাদশ শ্রেণিতে পেয়েছিলেন মাত্র ৩৪ শতাংশ নম্বর। এরপর দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় তিনি কিছুটা উন্নতি করে ৬০ শতাংশ নম্বর পান। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে সমীর যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর জীবনের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। ২৪টি বার 'ব্যাকলগ' ছিল।

আরও পড়ুন: UPSC Success Story IAS Tripti Kalhans: টানা ৪ বার UPSC পরীক্ষার 'ফেল', তাও কোন কৌশলে IAS হলেন তৃপ্তি? শেয়ার করলেন টিপসও

লোকদের কটাক্ষই হয়ে উঠল এগিয়ে যাওয়ার শক্তি

সেই আবহে চারিদিক থেকে ধেয়ে আসা তীব্র কটাক্ষ এবং উপহাস সমীরকে ভতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই ব্যর্থতার পরিচয় নিয়ে তিনি বাকি জীবন কাটাতে চান না। সমীর নিজের পুরনো ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি শুরু করেন।

আরও পড়ুন: IIT Kharagpur alumni cracks UPSC: মেগা সিরিয়ালে লক্ষ্মণের 'ভাই' হন, মাইক্রোসফট ছেড়ে IPS হলেন IIT খড়্গপুরের অভয়

মাত্র ১৮ মাসের প্রস্তুতি এবং অভূতপূর্ব সাফল্য

তাঁর ১৮ মাসের অবিরাম তপস্যা সফল হয়। ২০১১ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ১৮২ তম স্থান অর্জন করে সবাইকে চমকে দেন তিনি। ২৪টি ব্যাকলগ পাওয়া সেই 'অ্যাভারেজ' ছাত্রটি এজিএমইউটি (AGMUT) ক্যাডারের অধীনে আইপিএস (IPS) অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের লাখ-লাখ যুব প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More