Success Story: সাইকেল চালিয়ে করতেন ডেলিভারি, দুর্ঘটনার পরে পালটায় ছবি, লাখ-লাখ টাকা আয় যুবকের
Success Story: ভয়ংকর দুর্ঘটনার পরও থেমে থাকেননি অজিত কুমার। ডেলিভারি বয় থেকে আজ তিনি দেশের বিখ্যাত অডিয়ো প্ল্যাটফর্মের সেরা গল্পকার। কীভাবে ১০০ কিলোমিটার সাইকেল টানার কষ্ট থেকে লাখ টাকার চুক্তিতে পৌঁছালেন অজিত?
Success Story: কঠিন লড়াই, ভাঙা শরীর আর পেটের টান- এই তিনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সহজ। কিন্তু জয়ী হওয়া সহজ নয়। জীবন যখন চারপাশ থেকে আঘাত হানে, তখন সাধারণ মানুষ হয় ভেঙে পড়ে, নয়তো অদম্য জেদ নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ে। বিহার থেকে উঠে আসা তরুণ অজিত কুমারের কাহিনী কোনও মহাকাব্যের থেকে কম নয়। একসময় মারাত্মক পথ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ভাঙা শরীর নিয়ে টানা ১০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়েছিলেন তিনি, শুধুমাত্র নিজের ও পরিবারের বেঁচে থাকার সামান্য উপার্জনের তাগিদ ধরে রাখতে। অথচ সেই ডেলিভারি বয়-ই আজ নিজের মেধা, ধৈর্য আর সৃজনশীলতাকে সম্বল করে অডিয়ো গল্পের জগতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন। আজ তিনি কোটি টাকার মালিক, ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল অডিয়ো প্ল্যাটফর্মের সর্বোচ্চ আয়কারী কাহিনীকার একজন।

সংগ্রামের দিনগুলো ও মারাত্মক দুর্ঘটনা
অজিতের জীবনের সূচনা মোটেই মসৃণ ছিল না। চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে নিত্য লড়াই করে তাঁকে বড় হতে হয়েছিল। কাজের খোঁজে বাড়ি ছাড়ার পর পেটের ভাত জোগাতে তিনি কুরিয়ার ও খাবারের ডেলিভারি বয়ের কাজ শুরু করেন। দিনভর প্রচণ্ড রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি-বাড়ি পার্সেল পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর দৈনন্দিন রুটিন।
একদিন কাজ শেষ করে ফেরার পথে ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মারাত্মকভাবে আহত হন। কিন্তু তিনি যে চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন, তা শিউরে ওঠার মতো। রক্তভেজা শরীর আর তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করে তিনি টানা ১০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে নিজের গন্তব্যে পৌঁছান। সেই ১০০ কিলোমিটারের সাইকেল চালনা কেবল একটি পথ অতিক্রম ছিল না, তা ছিল তাঁর আত্মশক্তি ও জীবনযুদ্ধের চরম পরীক্ষা।
আরও পড়ুন: Success Story: ১৪ বার চাকরির পরীক্ষায় 'ফেল' করেও হার মানেননি, PSC দিয়ে SDM হলেন আস্থা
দুর্ঘটনার পর শারীরিক ক্ষতির কারণে ভারী কাজ বা দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালানো অজিতের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাজের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন তিনি। কিন্তু কথাতেই আছে, যেখানে একটি দরজা বন্ধ হয়, সেখানে অন্য কোনও সম্ভাবনার জানালা খুলে যায়।
ছোটোবেলার ভালোবাসাই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়
অজিত ছোটোবেলা থেকেই বই পড়তে, নতুন গল্প ভাবতে এবং কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে ভালোবাসতেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সুযোগে পরিণত করে তিনি ঘরে বসেই নিজের মোবাইল ফোনে গল্প লিখতে শুরু করেন। সেই সময় ভারতে ডিজিটাল অডিয়ো সিরিজের জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়ছিল। অনলাইন অডিয়ো প্ল্যাটফর্মগুলো তরুণ ও প্রতিভাবান লেখকদের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছিল। অজিত তাঁর জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা, সামাজিক নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ এবং গ্রামীণ বাস্তবতা মিশিয়ে অডিয়ো ড্রামার চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করেন।
কোটি-কোটি টাকা উপার্জন
অজিতের লেখা অডিয়ো নাটক ও ধারাবাহিক গল্পগুলো প্রকাশ পাওয়ার পরই শ্রোতাদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে নেয়। ডিজিটাল অডিয়ো প্ল্যাটফর্মে কোনও গল্প যত বেশি জনপ্রিয় হয়, লেখকরাও রয়্যালটি ও পারিশ্রমিক হিসেবে তত বেশি আয় করেন। অজিতের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। একের পর এক সুপারহিট অডিয়ো সিরিজের দৌলতে তিনি কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


