Success Story: রেললাইন দেখভাল করতেন, PSC পরীক্ষায় ৭২ তম স্থানে সেই ছেলে, হলেন সরকারি অফিসার
Success Story: রেললাইন দেখভাল করতেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) পরীক্ষায় ৭২ তম স্থানে অধিকার করলেন সেই ছেলে। হলেন সরকারি অফিসার। ছোটোবেলায় বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। ফলে কম বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল।
Success Story: একেবারে ছোটোবেলায় বাবাকে হারান। বাবার মৃত্যুর পরে মা কোনওক্রমে সংসার চালাতেন। সেই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি চাকরির প্রয়োজন ছিল। সেজন্য রেলওয়ের গ্রুপ ডি'র পরীক্ষা দেন। সেই পরীক্ষায় সফল হয়ে পয়েন্টসম্যান হন। তারপর বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) পরীক্ষা দিয়ে ডিএসপি হলেন রাজু কুমার।

১২ বছরেই বাবার মৃত্যু, রেলের চাকরিতে যোগ
ছোটোবেলা থেকেই লড়াই করে বড় হতে হয়েছে রাজুকে। ১২ বছরেই মৃত্যু হয় বাবার। অকালে বাবার মৃত্যুর পর চরম আর্থিক অনটন ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেইসময় সন্তানদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রাজুর মা। শতকষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা হতে দেননি।
সেইসঙ্গে রাজুও চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। পরিবারের আর্থিক হাল ধরতে কম বয়স থেকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। প্রথম সুযোগেই ভারতীয় রেলের গ্রুপ-ডি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে রক্সৌল রেলওয়ে স্টেশনে পয়েন্টসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন।
IGNOU থেকে স্নাতক, শুরু PSC-র প্রস্তুতি
তবে রেলের চাকরির শারীরিক ধকল এবং দৈনিক ডিউটি সত্ত্বেও রাজু বড় সরকারি অফিসার হওয়ার স্বপ্নকে কখনওই ম্লান হতে দেননি। ২০২০ সালে সিদ্ধান্ত নেন যে PSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু চাকরি ছেড়ে পড়াশোনা করার কোনও সুযোগ ছিল না, তাই ডিউটির মধ্যেই কোনওক্রমে সময় বের করতে প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
আরও পড়ুন: Success Story: বেঁটে হওয়ায় হাসাহাসি করা হত, সেই মেয়েই PSC পরীক্ষায় বাজিমাত করে হলেন অফিসার
কাজের ফাঁকেই ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে দূরশিক্ষার মাধ্যমে স্নাতকে ভর্তি হন। ২০২৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যখন BPSC-র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, তখন আবেদন করেন। ডিউটির পর অবশিষ্ট যেটুকু সময় পেতেন, তার এক মুহূর্তও নষ্ট করতেন না রাজু। বন্ধুদের পরামর্শ নিয়ে তিনি কাজ ও পড়াশোনার মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করেন এবং একটি কঠোর শৃঙ্খলাবদ্ধ রুটিন মেনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন।
কীভাবে PSC-র প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
প্রথমদিকে বিশাল সিলেবাস বুঝতে কিছুটা সমস্যা হলেও পুরো পাঠ্যক্রমকে ছোটো-ছোটো অংশে ভাগ করে নেন রাজু। ছোটো-ছোটো লক্ষ্যপূরণ করতে থাকেন। পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। তার এই নিরলস সাধনার ফলস্বরূপ তিনি প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই BPSC-তে ৭২ তম স্থান অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


