Raja Raghuvanshi Murder Case: মেঘালয় হানিমুন হত্যাকাণ্ডে বড় আপডেট! সোনমের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের 'সুপ্রিম' নির্দেশ
Raja Raghuvanshi Murder Case: বৃহস্পতিবার বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং পি বি বরলের বেঞ্চ জানায়, আগামী ছ’মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া যদি সম্পন্ন না হয়, তা হলে জামিনের আবেদন করতে পারবেন সোনম রঘুবংশী।
Raja Raghuvanshi Murder Case: দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা মেঘালয়ের বহুল আলোচিত 'হানিমুন হত্যা মামলা'-য় প্রধান অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশীর জামিন বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তাঁকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং পি বি বরলের বেঞ্চ জানায়, আগামী ছ’মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া যদি সম্পন্ন না হয়, তা হলে জামিনের আবেদন করতে পারবেন সোনম রঘুবংশী। এর পরই আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে সোনমকে। আদালত স্পষ্ট জানায়, সোনম রঘুবংশীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সেই কারণেই নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে মত প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দেশে যৌথ পরিবার ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সময়ে বৈবাহিক অশান্তি ও বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। আগে যৌথ পরিবারে বাড়ির কর্তারা পারিবারিক সমস্যার সমাধান করতেন। এখন সেই সুযোগ কমে যাওয়ায় দাম্পত্য সঙ্কট, মানসিক চাপ এবং বিষণ্ণতার মত সমস্যাও বাড়ছে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ মন্তব্য করেন, বর্তমান প্রজন্ম হয়ত প্রযুক্তি ও জ্ঞানে অনেক এগিয়ে, কিন্তু জীবনের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তারা আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি ভঙ্গুর। প্রায় ১০ মাস বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল একটি ট্রায়াল কোর্ট সোনমকে জামিন দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, গ্রেফতারের নথিতে একাধিক গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। খুনের অভিযোগের পরিবর্তে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ভুল ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল এবং গ্রেফতারের সময় তাকে সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি যে খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
মেঘালয় সরকার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে হাইকোর্টে এবং পরে সুপ্রিম কোর্টে যায়। গ্রেফতার সংক্রান্ত সমস্ত নথিতে রয়েছে গ্রেফতারের মেমো, যৌক্তিকতা যাচাইয়ের তালিকা (জাস্টিফিকেশন চেকলিস্ট), পরিদর্শন মেমো এবং কেস ডায়েরির সারাংশ ভুলবশত 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'-র ৪০৩(১) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে অথচ খুনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধারাটি হলো ১০৩ (১)। এরপর মেঘালয় সরকার নিম্ন আদালতের আদেশটিকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে জানায় যে, ভুলটি ছিল নিছক মুদ্রণজনিত এবং এর ফলে অভিযুক্তের কোনও ক্ষতি হয়নি। যদিও হাইকোর্ট সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি এবং একাধিক সরকারি নথিতে একই ভুল নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় সোনম রঘুবংশীকে দুটি পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করা অথবা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হওয়া। অবশেষে শীর্ষ আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।
E-Paper

