Supreme Court on Abortion Law: ‘প্রয়োজনে আইন বদলান!’ কেন্দ্রকে ভৎসর্না, কিশোরীর গর্ভপাত নিয়ে বেনজির 'সুপ্রিম' নির্দেশ

Supreme Court on Abortion Law: শীর্ষ আদালতের দাবি, 'ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার কোনও সময়সীমা থাকা উচিত নয়। আইনকে গতিশীল ও সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।'

Published on: Apr 30, 2026, 16:08:48 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Supreme Court on Abortion Law: ১৫ বছরের ধর্ষিতা কিশোরীর ৩১ সপ্তাহের গর্ভাবস্থার অবসান নিয়ে আদালতের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে সরকার যে সংশোধনী আবেদন করেছিল, তার তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। সরকারের কাছে আদালতের আহ্বান, নারীদের নিজেদের শরীরের উপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হতে পারে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের চেয়ে ওই কিশোরী ও তার পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান জানানো উচিত। স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কিত আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তাও জানানো হয়।

কিশোরীর গর্ভপাত নিয়ে বেনজির 'সুপ্রিম' নির্দেশ (HT_PRINT)
কিশোরীর গর্ভপাত নিয়ে বেনজির 'সুপ্রিম' নির্দেশ (HT_PRINT)

শীর্ষ আদালতের দাবি, 'ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার কোনও সময়সীমা থাকা উচিত নয়। আইনকে গতিশীল ও সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।' অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিকে কার্যত তিরস্কার করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, ‘ধর্ষণের পরে বাচ্চাটার উপরে দিয়ে যা যা গেছে, তার ক্ষতিপূরণ কেউ দিতে পারবে না।' সরকারি আইনজীবীকে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নাগরিকদের একটু তো সম্মান দিন ম্যাডাম।’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘(আদালতের পূর্ববর্তী গর্ভপাতের নির্দেশ) নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করার কোনও অধিকার নেই আপনার কাছে।' এরপরেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মতামতকে সম্মান করি, সেটা আপনারও করা উচিত...।' শীর্ষ আদালত আরও বলেছে, মেয়েটির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও ঝুঁকি অভিভাবকদের সামনে তুলে ধরার পরে যদি তাঁরা ভ্রূণটি রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাই হোক। কিন্তু যদি তাঁরা মনে করেন যে তাঁদের সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তবে সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও তাঁরাই নেবেন। সেখানে সংশোধনী দিয়ে জোর করা যাবে না।

এর আগে ঐশ্বর্যা ভাটি আদালতে বলেন, 'অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গেই সংশোধনী আর্জি জানাতে হচ্ছে আমাদের। এইমস থেকে এসেছে। গর্ভপাত সম্ভব নয়। শিশুটি জীবিত অবস্থাতেই ভূমিষ্ঠ হবে। শরীরে বিকলাঙ্গতা থাকতে পারে…নাবালিকা মাকে সারা জীবন শারীরিক জটিলতা পোহাতে হতে পারে। একটাই রাস্তা রয়েছে, শিশুটিকে দত্তক দিয়ে দেওয়া। শিশুটির জন্য সেটাই ভাল। আর মাত্র চারটি সপ্তাহ।' কিন্তু এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, 'নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা…সারা জীবন মনে ক্ষত থেকে যাবে, আঘাত থেকে যাবে। পরবর্তীতে বৈবাহিক জীবন জটিল হলেও, এই যন্ত্রণার চেয়ে কী তা বেশি হতে পারে? এইমস-এ অনেক ভাল চিকিৎসক রয়েছেন...মেয়েটির জীবন তাঁদের হাতে...একবার ভেবে দেখুন, মেয়েটি কী যন্ত্রণা সহ্য করছে। প্রত্যেক মুহূর্তে বয়ে বেড়াচ্ছে ভ্রূণটিকে। কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নারী হলে পরিস্থিতি হয়তো আলাদা হতো। কিন্তু ১৫ বছর বয়সি মেয়ে অবাঞ্ছিত গর্ভাবস্থা বয়ে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি যদি মেয়েটি এবং তার গর্ভে বেড়ে ওঠা ভ্রূণের মধ্যেকার লড়াইয়ে পরিণত হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও মেয়েটির সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ন্যায়ের স্বার্থে আইনকেও কড়া হতে হবে।' প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, 'এই বয়সে নিজের আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন নিয়ে ভাবার কথা মেয়েটির। তার জীবনে উচ্চাকাঙ্খা থাকার কথা। অথচ আমরা চাইছি ও মা হোক? কত অসম্মান এবং যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে ওকে...।'

গত সপ্তাহেই নাবালিকার গর্ভপাতে সায় দিয়েছিল আদালত। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া জানিয়েছিলেন, মেয়েটিকে সন্তান প্রসবে বাধ্য করা বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থী। প্রজননের স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। মেয়েটি দু’দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আছে তার। সেই সময়ও গর্ভপাতের বিরোধিতা করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর দাবি ছিল, বর্তমান অবস্থায় গর্ভপাত করালে তা মেয়েটি এবং ভ্রূণটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ২৪ সপ্তাহ পর গর্ভপাত করানোর অনুমতি নেই বলেও আদালতে জানান তিনি। কিন্তু নির্যাতিতার আইনজীবীর যুক্তি ছিল, এই গর্ভাবস্থা মেয়েটির জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার জোগাড়। প্রত্যেকটি মুহূর্ত যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে মেয়েটি।