দিল্লিতে ককরোচদের আন্দোলন শেষ হলেও তাদের সমর্থনে ব্রিটেনে সমাবেশ, ‘গণতন্ত্রের লড়াই’, ভাষণ গ্রেটা থুনবার্গের
গত সপ্তাহে ভারতে ছাত্রদের আন্দোলন এবং তার জেরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রতিবাদে ব্রিটেনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ছাত্রদের ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের লড়াই শুধু ভারতের নয়, সারা বিশ্বের মানুষেরও লড়াই। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Greta Thunberg on CJP Delhi Protest: সুইডিশ পরিবেশকর্মী তথা আন্দোলনজীবী গ্রেটা থুনবার্গ এবার ভারতের ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সরব হলেন। গত সপ্তাহে ভারতে ছাত্রদের আন্দোলন এবং তার জেরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রতিবাদে ব্রিটেনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ছাত্রদের ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের লড়াই শুধু ভারতের নয়, সারা বিশ্বের মানুষেরও লড়াই। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে উপস্থিত হয়ে গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, 'ভারতের ছাত্রদের ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আমাদেরও সংগ্রাম।' তাঁর মতে, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠলে আন্তর্জাতিক সংহতি গড়ে তোলা জরুরি। সেই কারণেই তিনি এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন বলে জানান।
গত সপ্তাহে ভারতে ছাত্রদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে। অনেক মহলেই প্রশ্ন উঠেছে, ককরোচদের আন্দোলনে বিদেশি 'হস্তক্ষেপ' রয়েছে কি না? এবার সেই আন্দোলনকে সামনে রেখেই ব্রিটেনে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং সামাজিক কর্মীরা প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেন। সেই কর্মসূচিতেই অংশ নেন গ্রেটা থুনবার্গ।
পরিবেশ আন্দোলনের মুখ হিসেবে পরিচিত হলেও, গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক ইস্যুতেও সরব হতে দেখা গিয়েছে গ্রেটাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাত, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ব্রিটিশ এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়, যেখানে ছাত্রদের অধিকারের পক্ষে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দাবিতে স্লোগান লেখা ছিল। বক্তারা দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। সেই অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহলেরও ভূমিকা থাকা উচিত। তবে প্রশ্ন উঠছে, ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন প্রত্যাহারের পরে কেন ব্রিটেনে এই ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হল?
এদিকে সেই সমাবেশে অংশ নিয়েই গ্রেটা থুনবার্গ তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সংহতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোনও দেশের মানুষের ন্যায়বিচারের দাবি বা গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাগরিকদের যে লড়াই চলছে, সেগুলি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং পরস্পরের প্রতি সমর্থন জানানো প্রয়োজন।
তবে গ্রেটার এই মন্তব্য এবং প্রতিবাদে অংশগ্রহণ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গ্রেটা থুনবার্গ এর আগেও ভারতের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। কৃষক আন্দোলনের সময় তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবার ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থানও নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে। তাঁর মন্তব্য ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


