India-US trade talk: পুনর্বিবেচনা হবে বাণিজ্য চুক্তির খসড়া! ভারত-মার্কিন মেগা বৈঠক ঘিরে বাড়ছে পারদ

India-US trade talk: বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈনের নেতৃত্বে ভারত থেকে প্রায় ১২ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের একটি প্রতিনিধিদল পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। 

Published on: Apr 20, 2026 1:05 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India-US trade talk: বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে ফের একবার মুখোমুখি বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। সোমবার থেকে ওয়াশিংটনে শুরু হচ্ছে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তিনদিনের উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা। তবে এই বৈঠক অন্যবারের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল, ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এই তিন দিনের বৈঠকে লক্ষ্য হল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করা।

ভারত-মার্কিন মেগা বৈঠক ঘিরে বাড়ছে পারদ
ভারত-মার্কিন মেগা বৈঠক ঘিরে বাড়ছে পারদ

বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈনের নেতৃত্বে ভারত থেকে প্রায় ১২ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের একটি প্রতিনিধিদল পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এর আগেও ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ভারতীয় প্রতিনিধিদল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছে। আবার মার্কিন প্রতিনিধিদলও এ দেশে এসেছে। তবে গত তিন-চার মাসে দু’দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক হয়নি। তবে গত কয়েক মাস সরাসরি বৈঠক না হলেও ভার্চুয়ালি আলোচনা চলেছে দু’দেশের মধ্যে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এবারের মুখোমুখি বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর ওপর নির্ভর করছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ।

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি :

১. ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের ২০, ২১ এবং ২২ এপ্রিল বৈঠক হবে। ভারতীয় দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দর্পন জৈন। এই দলে শুল্ক এবং বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

২. আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) মাধ্যমে ভিন্ন দেশের উপরে যে বাড়তি শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে বাতিল করে দেওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসছে দুই দেশ।

৩. ‘পারস্পরিক শুল্কনীতি’র বিরুদ্ধে মার্কিন শীর্ষ আদালত রায় দেওয়ার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য বিশ্বের সমস্ত দেশের ওপর ১০ শতাংশ ঢালাও শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৪. এখন সব দেশের উপরেই ট্রাম্প প্রশাসন ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোয় ভারত-মার্কিন চুক্তির পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা ছিল। বিনিময়ে ভারতও বেশ কিছু মার্কিন পণ্যে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তখন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ভারত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, এখন ট্রাম্পের '১০ শতাংশ সার্বিক শুল্ক’ কার্যকর হওয়ায় ভারতের সেই বিশেষ সুবিধা কার্যত অস্তিত্বহীন হওয়ার পথে।

৫. পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের আলোচনাটি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামোর প্রেক্ষিতে 'পুনর্বিন্যাস ও পুনর্খসড়া' করা হবে।

৬. মার্কিন বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পুনরুদ্ধার করাই নয়া দিল্লির প্রধান লক্ষ্য।

৭. গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ভারত মার্কিন শিল্প পণ্য এবং ডিস্টিলার্স ড্রাইড গ্রেইনস (ডিডিজি), পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত লাল জোয়ার, বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিট-সহ বেশ কয়েকটি কৃষি পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহার করে। এই প্রতিশ্রুতিগুলির অনেকগুলি এখন পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

৮. এর আগে আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল ভারত। এনার্জি প্রোডাক্ট থেকে শুরু করে বিমান ও তার যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, উচ্চপ্রযুক্তি সামগ্রী এবং কোকিং কয়লা-বিস্তৃত এই কেনাকাটার তালিকা দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়। দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি নতুন করে খসড়া করার সময় এটিও পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

৯. মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) কর্তৃক ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ধারা ৩০১-এর অধীনে যে তদন্ত শুরু হয়েছে, তা ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ভারত এই তদন্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং এগুলো প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে।

১০. শুল্ক সংক্রান্ত অস্থিরতার কারণে প্রধান আলোচকদের মধ্যে ফেব্রুয়ারির একটি বৈঠক স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমান ওয়াশিংটন পর্বটি মূলত একটি নতুন সূচনা। সম্পূর্ণ পরিবর্তিত এক বৈশ্বিক বাণিজ্য মানচিত্রের আবহে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, তিনদিনের এই ম্যারাথন বৈঠকে কী কোনও সমাধানসূত্র বেরোবে? নাকি শুল্কের বেড়াজালে আরও জটিল হবে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতি আর ভারতের নিজস্ব স্বার্থের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী থাকে, এখন সেটাই দেখার।