Opposition Attacks PM Modi: 'ব্যর্থতার প্রমাণ!' প্রধানমন্ত্রীর সংযমের বার্তায় কটাক্ষ রাহুল-সহ বিরোধীদের
Opposition Attacks PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরমও। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন ‘গুরুতর নির্দেশ’ জারির কারণ কী এবং অবিলম্বে সংসদ আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।
Opposition Attacks PM Modi: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধীরা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। রবিবার রাতে সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে করোনাকালের কথা উল্লেখ করে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, বিদেশযাত্রা এবং সোনা কেনায় হ্রাস টেনে বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার সংরক্ষণেরও আর্জি জানান। আর তারপরেই রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী
সোমবার সকালেই এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেছেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস নেতা লিখেছেন, ‘মোদীজি গতকাল জনতার থেকে ত্যাগ চেয়েছেন- সোনা কিনবেন না, বিদেশ যাবেন না, পেট্রল কম খরচ করুন, খাবারে তেল কম দিন, মেট্রো চড়ুন, বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলো উপদেশ নয়-ব্যর্থতার প্রমাণ।' রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন, 'গত ১২ বছরে দেশকে এমন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে যে, দেশের মানুষকে এখন বলে দিতে হচ্ছে তাঁরা কী কিনবেন, কী কিনবেন না, কোথায় যাবেন, কোথায় যাবেন না। সব সময় জনতার উপরে দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় যাতে নিজেকে কোনও জবাবদিহি করতে না হয়। দেশ চালানো এখন ‘কম্প্রোমাইজড পিএম’-এর কাজ নয়।’
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরমও। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন ‘গুরুতর নির্দেশ’ জারির কারণ কী এবং অবিলম্বে সংসদ আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'এর পিছনের কারণ কী? সরকারকে অবশ্যই দেশবাসীকে প্রকৃত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে হবে।’ এ নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও। দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল প্রধানমন্ত্রীকে 'দিশাহারা' বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'যুদ্ধের এতদিন পরেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনও ধারণা নেই। সাধারণ মানুষকে অসুবিধার মধ্যে ঠেলে দেওয়ার বদলে সরকারের উচিত ছিল আগেভাগে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুতের ব্যবস্থা করা।' তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাকেত গোখলেও প্রশ্ন তুলেছেন যে, ভারত বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্কট বা লেনদেন ভারসাম্যের সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছে কিনা, তা অবিলম্বে জানাতে হবে। তাঁর প্রশ্ন, 'যদি মন্ত্রীরা বায়ুসেনার বিমানে চড়ে এবং বিশাল কনভয়ে ভ্রমণ করতে থাকেন, তাহলে শুধু নাগরিকদেরই কেন ত্যাগ স্বীকার করতে বলা হবে?'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের যৌথভাবে হামলা করে ইরানে। বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি চললেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশই মাঝেমধ্যে নানা অজুহাতে তা লঙ্ঘন করছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কট অব্যাহত। গত দুই মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ভারত বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয় ও বিদেশি মুদ্রা সংরক্ষণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলা, এক বছরের জন্য সোনা কেনায় হ্রাস, পেট্রোল-ডিজেলের সংযত ব্যবহার এবং যথাসম্ভব 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, গাড়ির বদলে গণপরিবহণ বা কারপুল ব্যবহার করার আর্জিও জানান।
E-Paper

