TCS Nashik case: অশ্লীল ভাষায় পাসওয়ার্ড সেট! নাসিক TCS-র ‘কর্পোরেট জিহাদ’এর নেপথ্যে ভয়ঙ্কর তথ্য
TCS Nashik case: শুধু মহিলারা নন, এক পুরুষ কর্মীও অফিসে ধর্মান্তরকরণের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং টিসিএস কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রত্যেককে সাসপেন্ড করেছে।
TCS Nashik case: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর নাসিক ইউনিটে যৌন হেনস্থা এবং জোর করে ধর্মান্তরকরণের যে অভিযোগ উঠেছিল, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা তথ্য। সম্প্রতি এক নির্যাতিতা যা জানিয়েছেন, তা শুনে রীতিমতো স্তম্ভিত তদন্তকারীরা। তিনি দাবি করেছেন, অফিসের ওয়াই-ফাই থেকে শুরু করে ইন্টারনাল নেটওয়ার্কের সমস্ত পাসওয়ার্ড রাখা হতো অত্যন্ত 'অশ্লীল ভাষায়।'
সম্প্রতি রাজ্য মহিলা কমিশনের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে ওই নির্যাতিতা বলেন, ট্রেনিংয়ের দিনগুলো থেকেই তাঁকে ক্রমাগত মানসিক হেনস্থা এবং অশালীন আচরণের শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি সরাসরি রাজা মেমন নামে এক অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজা তাঁকে কেবিনে ডেকে অশ্লীল ভাষায় কথা বলত। পাশাপাশি তাঁর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কুরুচিকর শব্দ ব্যবহার করা হতো। টিসিএস-এর নাসিক ইউনিটের যে সকল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সি রাজা মেমনও রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, বারবার নাসিকের টিসিএস-এর বিপিও ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রাজার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা পাননি ওই তরুণী। উল্টে তাঁর অভিযোগগুলিকে পাত্তাই দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। এর কিছু দিন পর থেকেই রাজা এবং দানিশ নামে অপর এক অভিযুক্ত তাঁর ওপর অনলাইন নজরদারি চালাতেন এবং তাঁর চরিত্র নিয়ে কুরুচিকর গুজব রটিয়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করতেন।
নাসিকের টিসিএস-কাণ্ড
নাসিকের এই বিপিও ইউনিটটি গত এপ্রিলের শুরুতে প্রথম শিরোনামে আসে, যখন এক মহিলা কর্মী দানিশ শেখ নামে এক সফটওয়্যার পেশাদারের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও ধর্মান্তরকরণের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। যদি অভিযুক্ত দানিশ আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও বেশ কয়েকজন মহিলা কর্মী এগিয়ে এসে একই ধরনের ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ আনতে শুরু করেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রে দানিশ শেখের পাশাপাশি তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসারির মতো কর্মীরা যুক্ত ছিলেন। এমনকী এইচআর ম্যানেজার নিদা খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল উঠেছে। জানা গেছে, এই ঘটনাগুলি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ঘটেছে।
শুধু মহিলারা নন, এক পুরুষ কর্মীও অফিসে ধর্মান্তরকরণের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সাতজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং টিসিএস কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রত্যেককে সাসপেন্ড করেছে। তবে গোটা বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে কারণ এই মামলার সঙ্গে যুক্ত অপর এক মহিলা কর্মী বর্তমানে নিখোঁজ বলে জানা গেছে। এই মুহূর্তে গোটা ঘটনায় মোট ৯টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের জাল কতদূর বিস্তৃত ছিল। একজন প্রথম সারির আইটি সংস্থার অন্দরে এমন অন্ধকার জগত কীভাবে দিনের পর দিন টিকে ছিল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মিডিয়া ট্রায়াল আর আইনি প্রক্রিয়ার এই টানাপড়েনে নাসিকের এই কর্পোরেট জগত এখন উত্তাল।
E-Paper

