NEET-UG: 'আবার ভালো করে...,' নিট প্রশ্নফাঁসে নিভে গেল মেধাবী ছাত্রীর প্রাণ, সরব বিরোধীরা
NEET-UG: ওই পরীক্ষার্থী মধ্যপ্রদেশের মৌগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা প্রায় দুই দশক ধরে নাগপুরে রাঁধুনির কাজ করেন। তবে ঘটনার সময় কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে হাতে লেখা ওই চিঠিটি খুঁজে পান।
NEET-UG: নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের মধ্যেই বলি আরও এক প্রতিভাবান প্রাণ। ঘটনাটি ঘটেছে নাগপুর। জানা গিয়েছে, সেখান থেকেই চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতকে ভর্তির প্রবেশিকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ২০ বছরের ওই ছাত্রী। কিন্তু নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় হাল ছেড়ে বেছে নিয়েছেন আত্মহননের পথ। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর ওই পরীক্ষার্থীর পরিবার দাবি করলেন, আবারও পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার হতাশা থেকেই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁদের মেয়ে। ওই ছাত্রীর একটি হাতে লেখা ‘সুইসাইড নোট’-এ এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই পরীক্ষার্থী মধ্যপ্রদেশের মৌগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা প্রায় দুই দশক ধরে নাগপুরে রাঁধুনির কাজ করেন। তবে ঘটনার সময় কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে হাতে লেখা ওই চিঠিটি খুঁজে পান। হাতে লেখা সেই চিঠিতে ওই পরীক্ষার্থী মা-বাবার উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, 'আমি প্রথম বারের পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়ার উপযুক্ত উত্তর লিখেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় বারে আবার ভালো করে লিখতে পারব কিনা, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। মা এবং বাবা, আমাকে ক্ষমা কোরো, আমি সব নষ্ট করে ফেললাম।' নাগপুরের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্রীর সুইসাইড নোট সামনে আসতেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
তরুণীর পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় তিনি ভালো ফল করবেন বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং ৬৫০-র বেশি নম্বর পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর আকাঙ্ক্ষা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ওই ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, নাগপুরে কোচিং করে আসা তার মেয়ে পরীক্ষার পর খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে ফোন করে আমার মেয়ে খুব খুশি ছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের খবর আসার পর সে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, এত দিনের সব পরিশ্রম বৃথা গেল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে খুব মেধাবী ছিল। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। আমরা ঋণ নিয়ে তার পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। পরীক্ষার পর সে নিশ্চিত ছিল যে নির্বাচিত হবে।’ পরিবারের দাবি, ওই ছাত্রীর কোচিং ও শিক্ষার খরচ চালাতে কৃষক ঋণ (কিষাণ ক্রেডিট কার্ড) এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকেও টাকা ধার করা হয়েছিল।
এই প্রথম নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কোনও পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর প্রকাশ্যে এল। তবে, এই পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পরই বহু পরীক্ষার্থী তাঁদের হতাশ হওয়ার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরাও। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এটি শুধুমাত্র আত্মহত্যা নয়, বরং একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থার ফল’। তাঁর অভিযোগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। তার পরেও কী ভাবে শিক্ষামন্ত্রী পদে রয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান, সেই প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া ন্যায়বিচার নয়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যে শিক্ষা মাফিয়া সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই প্রকৃত সমাধান।’
E-Paper

