Elon Musk: একদিনেই ৫০০ ধনকুবেরের সম্পদে যোগ হলো ৩১৭২৫৬৭৪৪০০ টাকা! কে ধরলেন সবচেয়ে বড় বাজি?
Elon Musk: এই রেকর্ড র্যালিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি বিলিয়নেয়াররা। তাঁদের মধ্যেও ইলন মাস্কের সম্পদ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। স্পেসএক্সের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির পর সংস্থার মূল্যায়ন ব্যাপক হারে বেড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের উপর।
Elon Musk: সোমবার (১৫ জুন) এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন দিন উপভোগ করলেন বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনকুবেরের। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদ একদিনেই রেকর্ড ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার বাড়লো। এই অভূতপূর্ব উত্থান মূলত যুদ্ধে ইতি টানার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি ঘোষণার পরই বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে শক্তিশালী র্যালি, প্রযুক্তি স্টকের উত্থান এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা বাড়ার কারণে ঘটেছে।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুসারে, নিউইয়র্কে ১৫ জুন লেনদেন শেষে বিশ্বের ৫০০ জন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদ একদিনে রেকর্ড ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে এক অভূতপূর্ব ১৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি অস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর পর লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে তেজিভাব দেখা দেয়। এই আশাবাদের ফলে ডাও জোন্স সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছয়, অন্যদিকে নাসডাক ১০০ এবং এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড ইনডেক্স উভয়ই সর্বকালের সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। লেনদেন শেষে মার্কিন শেয়ারবাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.৭ শতাংশ এবং নাসডাক ৩.১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
ইলন মাস্কের সম্পদ
এই রেকর্ড র্যালিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি বিলিয়নেয়াররা। তাঁদের মধ্যেও ইলন মাস্কের সম্পদ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তাঁর সম্পদের মূল উৎস এখনও টেসলা এবং স্পেসএক্স। স্পেসএক্সের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির পর সংস্থার মূল্যায়ন ব্যাপক হারে বেড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের উপর। মাত্র একটি ট্রেডিং সেশনে ইলন মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১৬৪.৮ বিলিয়ন ডলার। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ১৪.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি। বিশ্বের প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মোট সম্পদে পৌঁছানো ইলন মাস্ক, তার মোট সম্পদ ১০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ১.২৭ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার মাধ্যমে নিজের ব্যবধান আরও বাড়িয়েছেন।
এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে স্পেসএক্সের শেয়ার বাজারে প্রবেশ। গত ১২ জুন সংস্থাটি ন্যাসড্যাকে তালিকাভুক্ত হয়। রকেট, স্যাটেলাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা স্পেসএক্সের আইপিও থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার তোলা হয়েছে বলে দাবি। বিনিয়োগকারীদের বিপুল আগ্রহই সংস্থার মূল্যায়নকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। এই মুহূর্তে মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, কারণ ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা এর শেয়ার কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে এর চিত্তাকর্ষক প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাস্কের মোট সম্পদ ১৬৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সূচকে থাকা অন্য ৪৯৯ জনের সম্মিলিত সম্পদ বৃদ্ধির প্রায় সমান এবং এযাবৎকালের রেকর্ডকৃত অন্যতম বৃহত্তম এক দিনের বৃদ্ধি।
বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় দীর্ঘ দিন ধরেই শীর্ষে রয়েছেন ইলন মাস্ক। তবে স্পেসএক্সের বাজারে আত্মপ্রকাশের পর তাঁর সম্পদ বৃদ্ধির গতি নতুন নজির গড়েছে। প্রযুক্তি ও মহাকাশ শিল্পে তাঁর সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভবিষ্যতেও এই সম্পদের অঙ্ক আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
E-Paper

