UP bridge collapse: উত্তরপ্রদেশে ঝড়-বৃষ্টির রাতে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু, মৃত্যু ৬ শ্রমিকের
UP bridge collapse: এক প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অত্যাধিক বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে সেতুর স্ল্যাবটি ধসে পড়ে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া খারাপ ছিল। হামিরপুরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিমি বেগের একটি ঝড় বয়ে যায়। তারপর এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে।
UP bridge collapse: উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সময় বেতওয়া নদীর উপর একটি নির্মীয়মাণ সেতু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে মৃত্যু হল অন্তত ৬ জন নির্মাণ শ্রমিকের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সুরক্ষায় চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতওয়া নদীর উপরের নির্মাণাধীন সেতুটি মোরাকন্দর ও কানদৌর গ্রামকে সংযুক্ত করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত ২টো নাগাদ এলাকায় প্রবল ঝড় শুরু হয়। সেই সময় নির্মীয়মাণ সেতুর বড় একটি স্ল্যাব নিচে পড়ে যায়, এতে নিচে থাকা শ্রমিকদের ওপর কংক্রিটের বিশাল অংশ ও লোহার কাঠামো ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার সময়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সেতুর উপর এবং নীচে কাজ করছিলেন। বিকট শব্দে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এই ঘটনা নিয়ে হামিরপুরের এএসপি অরবিন্দ কুমার ভার্মা বলেন, 'আজ রাত প্রায় ২টার দিকে আমরা খবর পাই যে এখানকার একটি সেতুর স্ল্যাব ধসে পড়েছে, যাতে কিছু লোক আটকে পড়েছেন। এই খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ এবং আমরা সবাই সঙ্গে সঙ্গে এখানে পৌঁছেছি। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, তিনজন লোক পিলারের ওপর আটকে আছেন, তাঁদের উদ্ধারের জন্য এসডিআরএফ এবং আমাদের দল চেষ্টা করছে..., আমরা আটকে পড়া ৬ জনের মধ্যে ৫ জনকে শনাক্ত করেছি। আমরা স্ল্যাবটি সরিয়ে তাঁদের উদ্ধার করব।'
উদ্ধারকারী দল এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বাকিদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য জোরকদমে তল্লাশি চলছে। পুলিশের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপ সরানোর সাথে সাথে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এক প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অত্যাধিক বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে সেতুর স্ল্যাবটি ধসে পড়ে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া খারাপ ছিল। হামিরপুরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিমি বেগের একটি ঝড় বয়ে যায়। তারপর এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন বান্দার এবং দুজন হামিরপুরের বাসিন্দা ছিলেন। মৃতরা হলেন-লোকেন্দ্র নিষাদ (২২), কুলদীপ নিশাদ (১৯), সাওয়ান্ত যাদব (২৮), সভাজিৎ (৩০), পুষ্পেন্দ্র সিং চৌহান (৩৪), রাজেশ পাল (৪২ বছর)। অন্যদিকে, এখনও পিলারের নীচে আটকে রয়েছেন অবধেশ নিষাদ, কল্লু যাদব এবং রাজেশ নিষাদ। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। হামিরপুরের এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসা এবং মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় নির্মাণ সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঝড়ের সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও কেন খোলা জায়গায় বা অনিরাপদ অবস্থায় শ্রমিকদের ঘুমানোর অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, তীব্র ঝড়-বৃষ্টির কারণেই সেতুর অংশ ভেঙে পড়েছে। যদিও নির্মাণ সামগ্রীর গুণমান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
E-Paper

