West Asia conflict update: ফের সংঘাতের ইঙ্গিত! ইরানের ৬ সামরিক নৌকা ধ্বংসের দাবি US-র, মৃত ৫

West Asia conflict update: ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী পার করেনি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের দাবি মিথ্যা।

Published on: May 05, 2026 1:35 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

West Asia conflict update: মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে এবং একাধিক ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলা প্রতিহত করেছে। এর আগে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও হামলার দাবি করে ইরান। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তেহরান নতুন মার্কিন নৌ অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ইরানের ৬ সামরিক নৌকা ধ্বংসের দাবি US-র (AFP)
ইরানের ৬ সামরিক নৌকা ধ্বংসের দাবি US-র (AFP)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই অভিযান শুরু করেন। এর মাধ্যমে তিনি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সংঘাত শুরু করার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রাণলী বন্ধ করে দিয়েছিল। গত ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে কিনা-এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এরই মধ্যে, সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে কুপার স্বীকার করেন, ট্রাম্পের অভিযানে বাধা দিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আইআরজিসি আমাদের সুরক্ষায় থাকা জাহাজগুলোর দিকে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা পাঠিয়েছে। আমরা প্রতিটি হুমকি প্রতিরক্ষামূলক গোলাবারুদের অত্যন্ত নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে পরাজিত করেছি।’

কুপার জানান, ওয়াশিংটন যখন এই অভিযান শুরু করেছে, তখন তিনি ইরানি বাহিনীকে ‘দৃঢ়ভাবে পরামর্শ’ দিয়েছেন যেন তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছাকাছি না আসে। তিনি বলেন, এই অভিযানে ১৫ হাজার মার্কিন সেনা, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার, ১০০টির বেশি স্থল ও সমুদ্র ভিত্তিক বিমান এবং জলের নিচের সামরিক অস্ত্র নিযুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের মার্কিন কমান্ডারদের কাছে তাদের ইউনিট এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ক্ষমতা রয়েছে।’ সোমবার হরমুজ প্রণালীতে একটি দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না এবং সম্ভবত ইরানের কাছাকাছি জাহাজ চলাচল সুরক্ষার মার্কিন প্রচেষ্টায় তাদের যোগ দেওয়া উচিত। ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাতটি ইরানি দ্রুতগতির নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে মার্কিন অভিযানে একাধিক পর্যায় ছিল। প্রথমে ইরানের পাতা মাইন সরিয়ে একটি নিরাপদ পথ তৈরি করা। এরপর সোমবারের শুরুতে সেই পথ নিরাপদ প্রমাণ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করানো হয়।

অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী পার করেনি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের দাবি মিথ্যা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছে। কুপার বলেন, এ অভিযান প্রচলিত অর্থে শুধু জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার মিশন নয়। বরং এটি বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যেখানে জাহাজ, হেলিকপ্টার, বিমান এমনকী ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করা যায়। এই অভিযান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ইরানের অবরোধজনিত বিঘ্ন বন্ধে ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপ। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। কুপার বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকির কারণে ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরে আটকে পড়েছে। এরপরও মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজগুলোকে এই পথ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে।

হরমুজে মার্কিন হামলায় মৃত্যু

হরমুজ প্রণালীতে গত সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক অভিযানে ধ্বংস হওয়া নৌযানগুলো কোনও সামরিক বোট ছিল না বলে দাবি করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়া ছয়টি বোট ছিল বেসামরিক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী নৌযান এবং এই হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের দিকে আসা দুটি ছোট পণ্যবাহী নৌযানের ওপর মার্কিন বাহিনী হামলা ও গুলি চালিয়েছে।