Universe ending sooner research: অনেক আগেই ধ্বংস হবে মহাবিশ্ব! নতুন তথ্যে তোলপাড়, পালটে গেল মহাপ্রলয়ের সময়রেখা

Dark Energy Big Rip theory: ডার্ক এনার্জির এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব মহাবিশ্বকে এতোটাই দ্রুত প্রসারিত করছে যে, গ্যালাক্সি, নক্ষত্র এমনকি পরমাণুগুলোও একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। আর তাতেই আসবে শেষের সে দিন! 

Published on: Apr 16, 2026 2:53 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Deep time cosmological predictions: মহাবিশ্বের জন্ম যেমন একটি রহস্য, এর শেষ বা পরিণতি ঠিক কবে—তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এতদিন পর্যন্ত আমরা জানতাম যে, মহাবিশ্ব ধ্বংস হতে এখনও কোটি কোটি বা ট্রিলিয়ন বছর বাকি। কিন্তু সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মহাবিশ্বের আয়ু আমরা যা ভাবতাম, তার চেয়ে অনেক কম। অর্থাৎ, 'কসমোলজিক্যাল ডিপ টাইম' বা মহাজাগতিক সময়রেখার যে ভবিষ্যৎবাণী এতদিন করা হয়েছিল, তা সংশোধন করার সময় এসেছে।

অনেক আগেই ধ্বংস হবে মহাবিশ্ব! নতুন তথ্যে তোলপাড়, পালটে গেল মহাপ্রলয়ের সময়রেখা
অনেক আগেই ধ্বংস হবে মহাবিশ্ব! নতুন তথ্যে তোলপাড়, পালটে গেল মহাপ্রলয়ের সময়রেখা

কেন মহাবিশ্বের আয়ু কমে আসছে?

মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিজ্ঞানী এডউইন হাবল প্রথম এটি আবিষ্কার করেছিলেন, যা আজ 'ডার্ক এনার্জি' (Dark Energy) তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়। নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ডার্ক এনার্জি স্থির নয়; বরং এটি সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী বা অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। ডার্ক এনার্জির এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব মহাবিশ্বকে এতোটাই দ্রুত প্রসারিত করছে যে, গ্যালাক্সি, নক্ষত্র এমনকি পরমাণুগুলোও একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

বিগ রিপ (Big Rip) এবং মহাপ্রলয়ের নতুন তারিখ

আগে ধারণা করা হতো মহাবিশ্ব শেষ হবে ‘বিগ ফ্রিজ’ (Big Freeze) বা তাপীয় মৃত্যুর মাধ্যমে। কিন্তু নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘বিগ রিপ’ বা ‘মহাচ্যুতি’-র দিকে। এই তত্ত্বে বলা হয়, মহাবিশ্বের প্রসারণের বেগ একসময় অসীম হয়ে যাবে এবং স্থান-কাল (Space-time) নিজেই ছিঁড়ে যাবে। গবেষকদের মতে, এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়াটি আগে যা অনুমান করা হয়েছিল, তার চেয়ে কয়েক বিলিয়ন বছর আগেই ঘটতে পারে। যদিও এই ‘আগে’ শব্দটিও মানুষের আয়ুর তুলনায় বিশাল, তবুও মহাজাগতিক হিসেবে এটি এক বড় পরিবর্তন।

মহাজাগতিক শূন্যতা এবং অস্থিতিশীলতা

গবেষণাটি মূলত কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন এবং মহাজাগতিক শূন্যতার (Vacuum Instability) ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, হিগস বোসন কণা বা ‘গড পার্টিকেল’-এর স্থায়িত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তা আরও জোরালো হচ্ছে। যদি হিগস ফিল্ডের পতন ঘটে, তবে মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আলোর গতিতে একটি ‘বাবল’ বা বুদবুদ ছড়িয়ে পড়বে, যা মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। এই প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আগের চেয়ে বেশি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

আমাদের ওপর এর প্রভাব কী?

সাধারণ মানুষের জন্য আশার কথা হলো, এই ধ্বংসযজ্ঞ এখনই ঘটছে না। কোটি কোটি বছর পর পৃথিবী বা সৌরজগৎ যখন বিলীন হয়ে যাবে, তারও অনেক পরে এই মহাজাগতিক সমাপ্তি ঘটবে। তবে মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এটি আমাদের বর্তমান মহাজাগতিক মডেল বা 'স্ট্যান্ডার্ড মডেল'-কে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

শেষ কথা

মহাবিশ্বের সমাপ্তি সংক্রান্ত এই নতুন তথ্য বিজ্ঞানীদের মহাকাশ পর্যবেক্ষণের ধরন বদলে দিচ্ছে। যদি ডার্ক এনার্জি সত্যিই আরও দ্রুত কাজ করে, তবে আমাদের গ্যালাক্সির প্রতিবেশী নক্ষত্রগুলো হয়তো আমরা যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক আগেই আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাবে। অন্ধকার মহাবিশ্বের এই রহস্যময় সমাপ্তি আমাদের অস্তিত্বের ক্ষণস্থায়ী রূপকেই বারবার মনে করিয়ে দেয়।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More