...
...
Next Story

UPSC Civil Serivces Success Story: UPSC-তে ২ বার ফেল, ধাক্কা কাটিয়ে কোন মন্ত্রে IPS অফিসার হলেন অঙ্কিতা? রইল টিপস

UPSC Civil Serivces Success Story: ছত্তিশগড় ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হলেন অঙ্কিতা শর্মা। যিনি ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় দু'বার উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে কীভাবে আইপিএস হলেন অঙ্কিতা শর্মা?

Published on: May 20, 2026, 15:16:18 IST
Advertisement

UPSC Civil Serivces Success Story: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা এমন একটা স্বপ্ন, যা পূরণের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে হয়। অনেকে বারবার ব্যর্থ হয়ে মাঝপথেই আশা হারিয়ে ফেলেন, আবার কেউ-কেউ সেই ব্যর্থতাকেই নিজের মূল শক্তি বানিয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। তেমনই এক অদম্য সাহসের কাহিনী ছত্তিশগড় ক্যাডারের সাহসী আইপিএস (IPS) অফিসার অঙ্কিতা শর্মার। যিনি প্রথম দুই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও নড়েননি। আজ তিনি লাখ-লাখ যুবক-যুবতীর অনুপ্রেরণার আলো।

MBA গোল্ড মেডেলিস্ট থেকে দেশের সেবার অঙ্গীকার

ছত্তিশগড় ক্যাডারের সাহসী আইপিএস (IPS) অফিসার অঙ্কিতা শর্মা। (ফাইল ছবি)
ছত্তিশগড় ক্যাডারের সাহসী আইপিএস (IPS) অফিসার অঙ্কিতা শর্মা। (ফাইল ছবি)

অঙ্কিতা ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলার বাসিন্দা। ছোটোবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি ছত্তিশগড় স্বামী বিবেকানন্দ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি (ভিল্লাই) থেকে ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর অর্থাৎ এমবিএ (MBA) ডিগ্রি অর্জন করেন। শুধু তাই নয়, এমবিএতে তিনি গোল্ড মেডেল বা স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন।

স্বর্ণপদক পাওয়ার পর অঙ্কিতার সামনে দেশের এবং বিদেশের বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেট কোম্পানিগুলিতে কেরিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল অঙ্কিতার। কিন্তু অঙ্কিতার মন পড়েছিল অন্য কোথাও। কর্পোরেট দুনিয়ার চকমকে আলো আর মোটা অঙ্কের বেতনের হাতছানিকে অনায়াসে ছেড়ে দিয়ে তিনি বেছে নেন দেশের সেবা করার কঠিন পথ। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, কর্পোরেট ম্যানেজার নয়, বরং খাকি উর্দি গায়ে চাপিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, হবেন একজন আইপিএস অফিসার।

দিল্লি থেকে ঘরে ফেরা ও ব্যর্থতার অন্ধকার

নিজের স্বপ্নের পিছনে ছুটতে অঙ্কিতা দিল্লির কোচিং হাবে গিয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে বেশিদিন তিনি সেখানে থাকতে পারেননি। কিছু পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণে খুব দ্রুতই তাঁকে ছত্তিশগড়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। তবে দিল্লি ছাড়লেও অঙ্কিতা তাঁর স্বপ্নকে ছাড়েননি। বাড়িতে বসেই সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়, সেলফ-স্টডির ওপর ভরসা করে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান।

কিন্তু ইউপিএসসির পথ এতটা সহজ ছিল না। প্রথমবার পরীক্ষায় বসে প্রিলিমিনারি পাশ করলেও মেইনস পরীক্ষায় আটকে যান তিনি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ধাক্কাটা ছিল আরও জোরালো- সেই বছর তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। পরপর দু’বার এই ধরনের ব্যর্থতা যে কোনও পরীক্ষার্থীকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। অঙ্কিতাও সাময়িক ধাক্কা খেয়েছিলেন, কিন্তু ভেঙে পড়েননি।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: ১৮ বছরে দৃষ্টিহীন হন, মা লেখেন UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায়, ছেলে হলেন IAS অফিসার

তৃতীয় প্রচেষ্টায় ঐতিহাসিক জয়

অঙ্কিতা তাঁর ব্যর্থতাকে নিজের দুর্বলতা হতে দেননি, বরং সেটিকে এক নতুন রণকৌশলে রূপান্তরিত করেন। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করেন তাঁর আগের ভুলত্রুটিগুলি কোথায় ছিল। নিজের খামতিগুলো শুধরে নিয়ে, দ্বিগুণ উৎসাহ ও নতুন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর তৃতীয় লড়াইয়ে। অবশেষে ২০১৮ সালে অঙ্কিতার কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং জেদ রঙের দেখা পায়। তাঁর তৃতীয় প্রচেষ্টায় ২০৩ র‍্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ করেন এবং ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে (IPS) যোগ দেন।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: 'বড় কালেক্টর নাকি?', ডাক্তারির সময় কটাক্ষ শুনে চাপে জেদ, IAS হলেন প্রিয়াঙ্কা

নকশাল দমন ও ছত্তিশগড়ের 'লেডি সিংঘম'

আইপিএস অফিসার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর অঙ্কিতা খুব দ্রুত নিজের কাজের মাধ্যমে প্রশাসনিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নেন। তাঁর কর্মদক্ষতা এবং নির্ভীক মনোভাবের কারণে অপরাধীরা কাঁপতে শুরু করে। বিশেষ করে ছত্তিশগড়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নকশাল প্রভাবিত বস্তার অঞ্চলে একাধিক সফল নকশাল বিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe