দেশজুড়ে প্রতি বছর লাখ-লাখ তরুণ-তরুণী সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার স্বপ্ন দেখেন। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) আয়োজিত এই পরীক্ষাটি ভারতের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। পরীক্ষায় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক কৌশলের। আর যখন ইউপিএসসি প্রস্তুতির কথা আসে, তখন ভারতের ছাত্রছাত্রীদের মনে যে নামটি সবার আগে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন ‘দৃষ্টি আইএএস’-র প্রতিষ্ঠাতা এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকাশ দিব্যাকীর্তি। নিজের সহজ, সরল এবং রসাত্মক শিক্ষণশৈলীর জন্য তিনি পড়ুয়াদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

সম্প্রতি ২০২৬ সালের ইউপিএসসি প্রিলিমস পরীক্ষাকে সামনে রেখে তিনি পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ও বাস্তবিক পাঁচটি মূলমন্ত্র বা ‘গোল্ডেন রুল’ শেয়ার করেছেন। তাঁর মতে, এই নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে প্রথমবারেই আইএএস (IAS) বা আইপিএস (IPS) হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।
পরীক্ষার প্যাটার্ন ও গঠনশৈলী গভীরভাবে বুঝুন
তিনি জানিয়েছেন, ইউপিএসসি প্রস্তুতির প্রথম এবং প্রধান ধাপ হল পরীক্ষার সম্পূর্ণ কাঠামো এবং এর সূক্ষ্মতাগুলোকে ভালোভাবে অনুধাবন করা। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেন। পরীক্ষার সিলেবাস এবং বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন পদ্ধতি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রিলিমস, মেনস এবং ইন্টারভিউ—এই তিন স্তরের পরীক্ষার চাহিদা আলাদা, তাই এদের প্রতিটির রূপরেখাকে নিজের নখদর্পণে রাখা জরুরি।
জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় 'ট্রিপল ৮' (৮-৮-৮) ফর্মুলা
পরীক্ষার্থীরা প্রায়শই দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ার ভুল চেষ্টা করে মানসিক অবসাদের শিকার হন। তিনি এই সমস্যার সমাধানে এক চমৎকার ‘৮-৮-৮’ বা ‘ট্রিপল ৮’ ফর্মুলা দিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টাকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন।
১) ৮ ঘণ্টা ঘুম: মস্তিস্ককে সতেজ ও কার্যক্ষম রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
{{/usCountry}}১) ৮ ঘণ্টা ঘুম: মস্তিস্ককে সতেজ ও কার্যক্ষম রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
{{/usCountry}}২) ৮ ঘণ্টা পড়া: প্রতিদিন মনোযোগ সহকারে আট ঘণ্টা মানসম্পন্ন পড়াশোনাই ইউপিএসসি ক্র্যাক করার জন্য যথেষ্ট।
৩) ৮ ঘণ্টা বিনোদন ও অন্যান্য কাজ: বাকি আট ঘণ্টা কাটুক খাওয়া-দাওয়া, পরিবারের সাথে আড্ডা, শরীরচর্চা বা নিজের কোনও শখের কাজে। এই ভারসাম্য পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করবে।
CSAT এবং সঠিক সময় ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর
প্রিলিমসের দ্বিতীয় পেপার অর্থাৎ সিস্যাট (CSAT) নিয়ে অনেক পরীক্ষার্থীর মনেই একটা ভয় কাজ করে, বিশেষ করে যাঁদের গণিত কিছুটা দুর্বল। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, গণিতে দুর্বল হলে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। পরীক্ষার্থীরা চাইলে রিজনিং এবং রিডিং কমপ্রিহেনশনের ওপর নিজেদের দখল মজবুত করে অনায়াসে এই পেপার কোয়ালিফাই করতে পারেন। এছাড়া, পরীক্ষায় ১২০ মিনিটে ৮০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্য সময় পাওয়া যায় মাত্র ১ থেকে ১.৫ মিনিট। তাই দ্রুত ও নিখুঁত উত্তর দেওয়ার জন্য ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ ও মক টেস্টের অভ্যেস করা অত্যন্ত দরকার।
মেনস উত্তর লিখনে কাল্পনিক কথা নয়, তথ্যের ব্যবহার
ইউপিএসসি মেনস পরীক্ষার মূল চাবিকাঠি হল উত্তর লিখন বা অ্যানসার রাইটিং। এই বিষয়ে তাঁর কড়া পরামর্শ—'হাওয়ায় ভাসানো বা কাল্পনিক কোনও কথা লিখবেন না।' উত্তর লেখার সময় যতটা সম্ভব প্রাসঙ্গিক তথ্য, ডেটা, ফ্যাক্টস এবং লজিক যুক্ত করতে হবে। পরীক্ষার্থী যত বেশি বাস্তবসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ উত্তর লিখবেন, পরীক্ষকের কাছ থেকে তত বেশি নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। এর জন্য নিয়মিত লেখার অভ্যাস বজায় রাখা দরকার।
প্রথম থেকেই কথা বলার জড়তা কাটানো - মক ইন্টারভিউ
সাফল্যের একদম শেষ ধাপ হল পার্সোনালিটি টেস্ট বা ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউ নিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি একদম শেষ মুহূর্তে হয় না। ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতির শুরু থেকেই নিজেদের ‘কমিউনিকেশন স্কিল’ বা যোগাযোগ দক্ষতার ওপর কাজ করা উচিত। নিজের মতামতকে যুক্তিযুক্ত, ভদ্র এবং মার্জিতভাবে উপস্থাপনের অভ্যেস করতে হবে। যদি আপনার সামাজিক মেলামেশা এবং কথা বলার ধরন উন্নত হয়, তবে ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে কোনওপ্রকার ভয় বা দ্বিধা গ্রাস করবে না।