UPSC Civil Services Success Story: বাবা ট্যাক্সিচালক, নিজে পশু চরাতেন, সেই মেয়ে UPSC পরীক্ষায় ক্র্যাক করে IAS হলেন
UPSC Civil Services Success Story: বাবা ট্যাক্সিচালক ছিলেন। নিজে পশু চরাতেন। সেই মেয়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ক্র্যাক করে আইএএস অফিসার হলেন। চাকরি করতে করতেই পড়াশোনা করেছিলেন। কীভাবে পড়াশোনা করেছিলেন?
UPSC Civil Services Success Story: বাবা ট্যাক্সি চালাতেন। ছোটোবেলায় পশু চরাতেন। সেই মেয়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ক্র্যাক করে আইএএস অফিসার হলেন। মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধার জেলাশাসক হিসেবে কর্মরত আইএএস অফিসার সি. বনমথি। তামিলনাড়ুর ইরোড জেলার একটি অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর বাবা পেশায় একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার ছিলেন। সংসার চালাতে তাঁদের পশুপালনের ওপর নির্ভর করতে হত। স্কুল থেকে ফিরে নিয়মিত মাঠে গিয়ে পশুর দেখভাল করতেন।

IAS অফিসার হওয়ার অনুপ্রেরণা
আর বনমথি আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন তাঁর গ্রামে একজন মহিলা জেলা কালেক্টরের সফরের সময়। একজন মহিলাকে পুরো জেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে দেখে এবং তাঁর প্রতি মানুষের সম্মান দেখে বনমথি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। তিনি বুঝতে পারেন, কঠোর পরিশ্রম করলে তিনিও এই জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়া, ছোটবেলায় দূরদর্শনে প্রচারিত 'গঙ্গা যমুনা সরস্বতী' নামক একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক তিনি দেখতেন, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রটি ছিল একজন আইএএস অফিসারের। সেই চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব এবং কাজ দেখেও তাঁর মনে দেশের সেবা করার স্বপ্ন গেঁথে গিয়েছিল।
চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি এবং চতুর্থ অ্যাটেম্পটে সাফল্য
স্বপ্ন দেখা সহজ হলেও তা পূরণ করার পথটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। ইউপিএসসি প্রস্তুতির খরচ এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বনমথি একটি ব্যাঙ্কিং পরীক্ষা পাশ করেন এবং ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। কিন্তু ফুল-টাইম চাকরি করেও তিনি নিজের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি।
প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে তিনি ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি। প্রথম দুটি অ্যাটেম্পটেও তিনি কাঙ্খিত সাফল্য পাননি। কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্রী ছিলেন না বনমথি। অবশেষে ২০১৫ সালে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগ সফল হয়। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সারা ভারতের মধ্যে ১৫২ তম স্থান অর্জন করে তিনি আইএএস অফিসার হন এবং তাঁকে মহারাষ্ট্র ক্যাডার দেওয়া হয়।
ইন্টারভিউয়ের ২ দিন আগে জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
বনমথির জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় এসেছিল তাঁর ইউপিএসসি ইন্টারভিউয়ের ঠিক দু’দিন আগে। হঠাৎ তাঁর বাবার শরীর ভীষণ খারাপ হয়ে পড়ে এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেই সংকটময় মুহূর্তে হাসপাতালে বাবার দেখভালের সমস্ত দায়িত্ব ছিল একার বনমথির কাঁধেই। একদিকে বাবার অসুস্থতার চিন্তা, অন্যদিকে জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি মানসিক ভারসাম্য হারাননি। হাসপাতালে বাবার সেবা করার পাশাপাশি তিনি ইন্টারভিউয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেন এবং ইন্টারভিউ বোর্ডে সফল হন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


