UPSC Civil Services Success Story: উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করা ছেলেই হলেন IPS, জলপাইগুড়িতেও ছিলেন WB ক্যাডারের অফিসার
UPSC Civil Services Success Story: পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। ছিলেন জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার। সেই মানুষটাই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বাজিমাত করেন।
UPSC Civil Services Success Story: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। সেই ছেলেই আজ আইপিএস অফিসার। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা ক্র্যাক করে আইপিএস অফিসার হন মহারাষ্ট্রের নাসিকের উমেশ গণপত খণ্ডবাহাল। তিনি আবার ২০১৫ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অফিসার। ছিলেন জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপারও। আর কীভাবে সেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেন তিনি?

উচ্চমাধ্যমিকে ফেল, পড়াশোনা বন্ধ ২ বছর
উমেশ নাসিকের দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। ইংরেজিতে মাত্র ২১ নম্বর পেয়েছিলেন। আর সেই ব্যর্থতা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরীক্ষায় ফেল করার পর উমেশের প্রথাগত পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে দু'বেলা পেট চালানোই দায় হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে বাবার ডেয়ারি ব্যবসায় সাহায্য করতে শুরু করেছিলেন। প্রতিদিন নিজের গ্রাম থেকে নাসিক শহরে গিয়ে বাড়ি বাড়ি দুধ বিক্রি করতেন। কখনও-কখনও দিনমজুরের কাজও করতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় দু'বছর পড়াশোনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থেকে এভাবেই দিন কেটেছিল উমেশের।
দুধ বিক্রি করতে যাওয়ার পথেই একদিন একটি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে উমেশ জানতে পেরেছিলেন। সেখান থেকেই মনে আবার পড়াশোনা শুরু করার ইচ্ছা জেগে উঠেছিল। ২০০৫ সালে ওপেন স্কুলিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। এবার সাফল্যের সঙ্গে পাশ করে যান। নাসিকের কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং পরবর্তীতে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তৃতীয় অ্যাটেম্পটে বাজিমাত করেন উমেশ
পরবর্তীতে ২০১২ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দিল্লিতে চলে গিয়েছিলেন উমেশ। প্রথম দুটি অ্যাটেম্পটে কাঙ্খিত সাফল্য না মিললেও ভেঙে পড়েননি। অবশেষে ২০১৫ সালে তৃতীয় অ্যাটেম্পটে সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা ক্র্যাক করেন। অধিকার করেন ৭০৪ তম স্থান। আইপিএস (IPS) অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন। উমেশ তাঁর গ্রামের প্রথম ব্যক্তি, যিনি আইপিএস হয়েছেন।
সাফল্যের মূল মন্ত্র: ‘রিস্টার্ট’
আইপিএস অফিসার উমেশের মতে, জীবনের যে কোনও ব্যর্থতার পর আবার নতুন করে শুরু করা বা ‘রিস্টার্ট’ করাই হল আসল মূলমন্ত্র। সিনেমার 'টুয়েলভথ ফেল' ছবির গল্পের সাথে নিজের জীবনের হুবহু মিল পেয়ে উমেশ নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন।়
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


