UPSC Civil Services Success Tips: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস হল এক স্বপ্নের পরীক্ষা। আর সেই স্বপ্নের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইএএস বা আইপিএস হওয়ার জন্য অনেকেই বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভরতি হন। দিল্লির মতো বড় শহরে গিয়ে লাখ-লাখ টাকা খরচ করে নামীদামী কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে কোমল পুনিয়া প্রমাণ করে দিলেন যে সাফল্যের জন্য সবসময় কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন নেই। নিজের জেদ, সঠিক কৌশল আর আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে তিনি মেধাতালিকায় নিজের নাম খোদাই করেছেন। ইউপিএসসি (ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কোমল পুনিয়া সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে এক অভাবনীয় নজির তৈরি করেছেন।
অনুপ্রেরণা কোমল পুনিয়া
উত্তরপ্রদেশের এক অতি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম কোমলের। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন গ্রামেরই একটি সাধারণ স্কুল থেকে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিকাঠামোগত অনেক খামতি ছিল। কিন্তু কোমলের এই রূপকথার মতো সাফল্য আজ কোটি-কোটি মধ্যবিত্ত ও পিছিয়ে পড়া যুবসমাজের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন, বাহ্যিক সম্পদের অভাব থাকলেও যদি মনের ভিতর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকে, তবে যে কোনও বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
দামি কোচিংকে ‘না’: সাফল্যের মূল চাবিকাঠি যখন ‘সেলফ স্টাডি’
১) সীমিত এবং নির্দিষ্ট সিলেবাস: কোমল বাজারচলতি শত-শত বইয়ের পিছনে না ছুটে নিজের পড়ার টেবিলকে গোছানো রেখেছিলেন। তিনি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত থাকা এনসিইআরটি বইগুলিতে ফোকাস করেছিলেন। একই বই বারবার রিভিশন দেওয়াকেই তিনি শ্রেয় মনে করতেন।
২) ডিজিটাল বিপ্লব ও ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার: কোচিং সেন্টারের অভাব তিনি পূরণ করেছিলেন ইন্টারনেট দিয়ে। কঠিন বিষয়গুলো সহজে বোঝার জন্য তিনি ইউটিউব এবং বিভিন্ন ফ্রি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নিয়েছিলেন। এছাড়া প্রতিদিনের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বা সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর জন্য তিনি নিয়মিত অনলাইন তথ্য যাচাই করতেন।
৩) কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও মক টেস্ট: তিনি প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। নিজেকে যাচাই করার জন্য কোমল কোনও বড় ইনস্টিটিউটে না গিয়ে অনলাইনেই নিয়মিত 'মক টেস্ট' দিতেন এবং নিজের ভুলগুলো সংশোধন করতেন।
ভবিষ্যৎ ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কোমলের পরামর্শ
নতুন প্রজন্মের পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্র শেয়ার করেছেন। কোমল বলেন, ‘সাফল্য পাওয়ার জন্য কোনও বড় শহরে যাওয়া বা লাখ-লাখ টাকা খরচ করে নামী কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যদি আপনার মনের মধ্যে দৃঢ় সংকল্প থাকে এবং নিজের ভুলগুলো থেকে প্রতিনিয়ত শেখার মানসিকতা থাকে, তবে আপনি আপনার ঘরের একটা ছোট কোণে বসেই ইতিহাস তৈরি করতে পারেন।’