UPSC Prelims 2026 Expected Cut-Off: ইউপিএসসি (ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন) সিভিল সার্ভিসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কাট-অফ কত হবে? কত নম্বর পেলে প্রিলিমিনারির গন্ডি পেরিয়ে মেইনস পরীক্ষায় বসা যাবে? গত রবিবার দেশজুড়ে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পরে সেই আলোচনা চলছে। প্রতিবারই সেই চর্চা হয়। কিন্তু এবার যেরকম প্রশ্ন এসেছে, তাতে কাট-অফ নিয়ে আলোচনা আরও বেড়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২০২৬ সালের ইউপিএসসি প্রিলিমস পরীক্ষা অন্যতম কঠিন। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন এসেছে। জেনারেল স্টাডিজ পেপার ১-তে যেরকম প্রশ্ন এসেছে এবং যতটা বড় ছিল, তা অনেক পরীক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির রণকৌশলকে কার্যত ভেস্তে দিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এবার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কাট-অফ নম্বর অনেকটাই কম হতে পারে।
৫৬ পাতার দীর্ঘ প্রশ্নপত্র

এবার ইউপিএসসি প্রিলিমস পরীক্ষার সবচেয়ে বড় চমক ছিল এর প্রশ্নপত্রের দৈর্ঘ্য। গত বছর জেনারেল স্টাডিজ পেপারটি ছিল ৪৮ পাতার। কিন্তু এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৫৬ পাতা। এত দীর্ঘ প্রশ্নপত্র পড়ার কারণে পরীক্ষার্থীদের গতি, মনোযোগ এবং সময় ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। অনেক পরীক্ষার্থীর দাবি, দীর্ঘ প্রশ্নগুলো পড়তেই সিংহভাগ সময় চলে যায়। ফলে শেষের দিকের প্রশ্নগুলো সমাধান করার সময় তারা তীব্র মানসিক ক্লান্তি ও সময়ের অভাব বোধ করেন।
রেকর্ড পতনের মুখে কাট-অফ মার্কস
প্রশ্নপত্রের এই কঠিন ও জটিল রূপ দেখে শিক্ষাবিদ ও দেশের প্রথম সারির কোচিং ইনস্টিটিউটগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবারের কাট-অফ মার্কস অনেকটাই নিচে নেমে যেতে পারে। নেক্সট আইএএসের সিএমডি বি. সিং জানান, প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী এবারের জেনারেল ক্যাটেগরির কাট-অফ ৭০ থেকে ৭৫ নম্বরের মধ্যে নেমে আসতে পারে।
অন্যদিকে, পিএমএফ আইএএসের প্রতিষ্ঠাতা মঞ্জুনাথ থম্মিনিডি বলেন, প্রশ্নপত্রটি এতটাই অনিশ্চিত ছিল যে অনেক মেধাবী পড়ুয়াও তাঁদের স্কোর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে পারছেন না। তাঁর মতে, যাঁরা নেগেটিভ মার্কিং এড়িয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রশ্ন চয়ন করেছেন, তাঁদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এবার অনেক বেশি।
অর্থনীতিতে গভীর জ্ঞানের কঠিন পরীক্ষা
শ্রীরাম আইএএসের ডিরেক্টর শ্রীরাম স্যার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানান, অর্থনীতি বা ইকোনমি বিভাগের প্রশ্নগুলো কেবল তথ্যভিত্তিক ছিল না, বরং তার জন্য বিষয়ের গভীরে গিয়ে বোঝার প্রয়োজন ছিল। পরীক্ষায় মালহোত্রা কমিটি, উর্জিত প্যাটেল কমিটি, এনবিএফসি, এমএসএমই, ক্রাউডিং আউট এবং ব্লকচেইনের মতো জটিল বিষয়গুলোকে যুক্ত করে বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। ফলে শুধু নোট মুখস্থ করে যাঁরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া অসম্ভব ছিল।
ইউপিএসসির নতুন চাল: ব্যর্থ এলিমিনেশন টেকনিক
{{/usCountry}}শ্রীরাম আইএএসের ডিরেক্টর শ্রীরাম স্যার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানান, অর্থনীতি বা ইকোনমি বিভাগের প্রশ্নগুলো কেবল তথ্যভিত্তিক ছিল না, বরং তার জন্য বিষয়ের গভীরে গিয়ে বোঝার প্রয়োজন ছিল। পরীক্ষায় মালহোত্রা কমিটি, উর্জিত প্যাটেল কমিটি, এনবিএফসি, এমএসএমই, ক্রাউডিং আউট এবং ব্লকচেইনের মতো জটিল বিষয়গুলোকে যুক্ত করে বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। ফলে শুধু নোট মুখস্থ করে যাঁরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া অসম্ভব ছিল।
ইউপিএসসির নতুন চাল: ব্যর্থ এলিমিনেশন টেকনিক
{{/usCountry}}বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে, এবার UPSC প্রশ্নের বিকল্প বা অপশন তৈরির পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষার্থীরা যে চেনা প্যাটার্ন বা ‘এলিমিনেশন টেকনিক’ ব্যবহার করে আসছিলেন, কমিশন এবার তা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই টেকনিক কাজ করলেও, বেশিরভাগ প্রশ্নে সম্পূর্ণ ও নির্ভুল ধারণা ছাড়া উত্তর দেওয়া সম্ভব ছিল না। এই কারণে ভুল উত্তর ও নেগেটিভ মার্কিংয়ের ভয়ে অনেক পরীক্ষার্থী বেশি প্রশ্ন অ্যাটেম্পট করার সাহস পাননি।
ইতিহাস ও বিজ্ঞানের বড় চমক, ধাক্কা খেল পলিটি
এবারের পরীক্ষায় সাবজেক্ট-ভিত্তিক ওয়েটেজ বা নম্বরের বিভাজনেও ছিল বিশাল চমক। ইতিহাস এবং শিল্প ও সংস্কৃতি থেকে প্রায় ২০টি প্রশ্ন এসেছিল, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ থেকেও প্রায় ১৮টি প্রশ্ন করা হয়। অপরদিকে, তুলনামূলকভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা পলিটি বিভাগের প্রশ্নের সংখ্যা এবার কম ছিল। ফলে যারা বিগত বছরের ট্রেন্ড দেখে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভরসা করে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাঁরা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন।
শুধু মুখস্থবিদ্যায় আর হবে না পার, বার্তা বিশেষজ্ঞদের
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শুভ্রা রঞ্জন এই পেপারটিকে শুধু একটি কঠিন পরীক্ষা নয়, বরং একটি ‘পার্সোনালিটি টেস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, UPSC এখন এমন আমলা বা প্রার্থী চাইছে যাঁরা চরম মানসিক চাপের মধ্যেও শান্ত থাকতে পারেন এবং জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তিনি স্পষ্ট জানান যে, শর্টকাট বা কেবল মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করে এই পরীক্ষা পাশ করার দিন ঘনিয়ে আসছে। এবারের পরীক্ষায় সেই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরাই সুবিধা পাবেন যাঁদের গভীর ধারণা এবং যে কোনও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ক্রিকেটের উদাহরণ টেনে তিনি একটি চমৎকার কথা বলেন- ‘একজন ভালো ব্যাটার কখনও বলের পিচ নিয়ে অভিযোগ করেন না, সে শুধু বলটি খেলে’ (বিরাট কোহলির মতো)। UPSC-ও এই পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঠিক এই মানসিকতাই যাচাই করতে চেয়েছে।