UPSC Success Story: কথায় আছে, ‘হার আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়।’ কিন্তু হারের পর যদি নিজের সঙ্গে এই প্রতিজ্ঞা করা যায় যে পরেরবার জয় নিশ্চিত করতেই হবে, তবে সেই জেদ মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে। ঠিক এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হায়দরাবাদের মেয়ে মৃদুপাণি নাম্বি। যিনি দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটে দেশের অন্যতম কঠিন ‘ইউপিএসসি ইন্ডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস’ পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ২১ নম্বর স্থান অর্জন করে তিনি আজ একজন আইইএস (IES) অফিসার।
কে এই মৃদুপাণি নাম্বি?

মৃদুপাণি নাম্বি হলেন ২০২২ ব্যাচের ইউপিএসসি ইন্ডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের একজন অফিসার। তাঁর জন্ম হায়দরাবাদে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং সবসময়ই ব্যতিক্রমী কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রশ্নাতীত। দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পরই তিনি নিজের লক্ষ্য স্থির করে নিয়েছিলেন এবং আইআইটির প্রস্তুতি শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘জি নারায়ণ ইনস্টিটিউট’ থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ECE) নিয়ে বিটেক (B.Tech) ডিগ্রি লাভ করেন।
বিটেক থেকে ইউপিএসসি আইইএসের যাত্রা
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়ই মৃদুপাণি ইউপিএসসি-র বিভিন্ন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে পারেন। সাধারণত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ইউপিএসসি বলতে আইএস (IAS) বা আইপিএসকে বোঝেন। কিন্তু এর পাশাপাশি যে ইন্ডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (IES), ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল সার্ভিসেস (ISS) বা ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসেস (IFS)-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ টেকনিক্যাল পরীক্ষাও ইউপিএসসি পরিচালনা করে, তা মৃদুপাূণিকে আকর্ষণ করে। নিজের টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে দেশের সেবা করার জন্য তিনি আইইএস (IES) পরীক্ষাকেই নিজের জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন এবং কলেজ শেষ করেই কোমর বেঁধে প্রস্তুতিতে নেমে পড়েন।
১ নম্বরের ধাক্কা এবং জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট
{{/usCountry}}১ নম্বরের ধাক্কা এবং জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট
{{/usCountry}}২০২০ সালে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মৃদুপাণি প্রথমবারের জন্য UPSC IES পরীক্ষায় বসেন। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল আসতেই বড় ধাক্কা খান তিনি। মাত্র এক নম্বরের ব্যবধানে প্রিলিমস পরীক্ষায় বাধা অতিক্রম করতে পারেননি। মাত্র একটা নম্বরের জন্য পুরো একটা বছরের পরিশ্রমের কোনও দাম থাকল না—এই ভাবনায় সাময়িকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মৃদুপাণি। কিন্তু তিনি দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না।
এরপরই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ও কঠিন সিদ্ধান্তটি নেন। মৃদুপাণি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রতিযোগিতার এই বাজারে সামান্যতম মনোযোগ এদিক-ওদিক হলেই স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তিনি তৎক্ষণাৎ নিজের স্মার্টফোন, সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং জীবনের বাকি সব অপ্রয়োজনীয় বিনোদন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে নেন। ইন্টারনেটকে শুধুমাত্র পড়াশোনা ও মক টেস্টের জন্য ব্যবহার করতেন, কোনও সামাজিক যোগাযোগের জন্য নয়।
আরও পড়ুন: UPSC Success Story: বাবার হত্যার পরে প্রতিজ্ঞা করেন, UPSC-তে সাফল্য পেয়ে IPS অফিসার হলেন বজরং প্রসাদ
স্মার্টফোন ত্যাগ এবং অভাবনীয় সাফল্য
ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার ত্যাগ করার পর মৃদুপাূণির সম্পূর্ণ মনোযোগ চলে আসে স্রেফ পড়াশোনায়। দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেকনিক্যাল সিলেবাস রিভিশন, খামতিগুলো শুধরে নেওয়া এবং নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়াই হয়ে উঠেছিল তাঁর দৈনিক রুটিন। এই কঠোর পরিশ্রমের ফল পেতে বেশিদিন সময় লাগেনি। ২০২২ সালের ইউপিএসসি আইইএস পরীক্ষার ফলাফল যখন প্রকাশিত হয়, তখন দেখা যায় মৃদুপাণি নাম্বি শুধু পরীক্ষায় পাশই করেননি, বরং সারা ভারতের মধ্যে ২১ তম স্থান অর্জন করেছেন।