UPSC Success Story: বাবা ছিলেন কামার। কাজ করতেন লোহার। সেই ছেলেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দিয়ে হলেন আইএএস অফিসার। তিনি হলেন গুজরাটের স্মিত পাঞ্চাল। ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৩০ তম স্থান অধিকার করেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, তারপর মা'কে বলেন, ‘মা, এতদিন যারা খোঁচা দিয়ে কথা বলত, তাদের সামনে তুমি মাথা নিচু করে চুপ করে থাকতে। আর তোমাকে চুপ থাকতে হবে না, এবার মুখ খুলে গর্ব করার দিন এসেছে। তোমার ছেলে আজ আইএএস অফিসার হয়েছে।’ আর বাবাকে বলেন, ‘আর নয় বাবা! এবার এই কঠিন কাজ বন্ধ করে অবসর নাও।’
UPSC-র স্বপ্ন দেখা শুরু করেন ছোটো থেকেই

২০১৭ সালে দশম শ্রেণির পরীক্ষা পাশ করার পরপরই স্মিত স্থির করেন তিনি আইএএস (IAS) অফিসার হবেন। স্থানীয় সরকারি কার্যালয়ে গিয়ে জেলাশাসক বা কালেক্টরের কাজ ও সাধারণ মানুষের জীবন পরিবর্তনের ক্ষমতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সঙ্গে বাবার জীবন পরিবর্তনেরও লক্ষ্য ছিল।
আরও পড়ুন: Success Story: মা বেচতেন সবজি, বাবা দিনমজুর, সেই ছেলেরই টানা ৩ বার UPSC-তে বাজিমাত, হলেন IPS
সেই লক্ষ্যে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে আর্টস বেছে নেন স্মিত। পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক করেন। প্রথম স্থান অধিকার করেন পুরো কলেজে। কিন্তু তাঁর আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের মধ্যে কোনও সিভিল সার্ভিস অফিসার ছিলেন না। ফলে সঠিক নির্দেশিকা এবং অর্থাভাব ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় বাধা। তারইমধ্যে ২০২২ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের প্রস্তুতি দিল্লিতে যান স্মিত।
হাতখরচের জন্য টাকা চাইতে কুণ্ঠাবোধ, ফেরেন দিল্লি থেকে
{{/usCountry}}হাতখরচের জন্য টাকা চাইতে কুণ্ঠাবোধ, ফেরেন দিল্লি থেকে
{{/usCountry}}কিন্তু প্রথম অ্যাটেম্পটে সাফল্য আসেনি স্মিতের। কিন্তু দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পরিবারের থেকে টাকা নিতে চাননি। তাই কাউকে কিছু না জানিয়ে দিল্লি থেকে আমদাবাদ ফিরে আসেন। প্রস্তুতির খরচের জন্য স্থানীয় কোচিং ইনস্টিটিউটে রিসেপশনিস্ট এবং কাউন্সেলরের চাকরি শুরু করেন। চাকরি করার সময় তাঁকে চারপাশে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য ও তাচ্ছিল্য শুনতে হত।
UPSC-তে বাজিমাত, আসে সাফল্য
তবে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়েননি স্মিত। চাকরি করার পাশাপাশি প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা কঠোর পড়াশোনা করতেন। প্রয়োজনীয় টাকা জমতেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনায় পড়াশোনা শুরু করেন। ফিরে যান দিল্লিতে। সারাদিন ওল্ড রাজিন্দর নগরের একটি লাইব্রেরিতে কাটাতেন। রাতে ছয় ঘণ্টা শোওয়ার জন্য ভাইয়ের বাড়িতে আসতেন। আর সেইসব লড়াই থেকেই একদিন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস ক্র্যাক করেন।