Iran mock US over India-Russia Oil: রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের হাতে-পায়ে ধরছেন ট্রাম্পরা! আমেরিকাকে খোঁচা ইরানের
ট্রাম্প প্রশাসন কি চাপে? মধ্য-প্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান দাবি করল, ভারত-সহ বিশ্বকে রুশ তেল কিনতে ‘কাকুতি-মিনতি’ করছে হোয়াইট হাউস। কেন রাতারাতি অবস্থান বদলাল আমেরিকা? জানুন এই চাঞ্চল্যকর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের নেপথ্যে কাহিনী।
মধ্য-প্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যে ‘যুদ্ধ’ চলছে, তাতে ইতি পড়ার আপাতত কোনও ইঙ্গিত মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, যে আমেরিকা একসময় রাশিয়ার তেল বিক্রির উপর কঠোর বিধিনিষেধ চাপিয়েছিল, এখন তারাই ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে ভ্লাদিমির পুতিনদের কাছ থেকে তেল কেনার জন্য রীতিমতো কাকুতি-মিনতি করছে।

ফেঁসে গিয়েছে আমেরিকা?
ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক নীতিকে 'বিপর্যস্ত' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এমন এক গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে, যেখানে একদিকে বন্ধুদের স্বার্থরক্ষা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার উপর পরোক্ষভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে। ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, হোয়াইট হাউস এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে উৎসাহিত করছে, যাতে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে। তবেই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক থাকবে এবং আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ভারতের হাতেপায়ে ধরছে আমেরিকা, খোঁচা ইরানের
ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার জন্য মাসের পর মাস ধরে ভারতকে হুমকি দিয়ে আসছে আমেরিকা। কিন্তু ইরানের সঙ্গে দু'সপ্তাহ যুদ্ধ হতে না হতেই রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারত-সহ বিশ্বের হাতেপায়ে ধরছে হোয়াইট হাউস। ইউরোপ ভেবেছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে বেআইনি যুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন করলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন সমর্থন পাবে। জঘন্য।’
রাশিয়ার তেল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ইউ-টার্ন কেন?
আর তিনি সেই মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া ঘোষণার পরে। আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়েছে যে আপাতত রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়টির পিছনে গভীর অর্থনৈতিক সমীকরণ আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি রাশিয়া থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। আর তেলের দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়বে মার্কিন অর্থনীতির ওপর, যা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামাতে পারে।
এই কারণেই হোয়াইট হাউস এখন 'কৌশলগত নীরবতা' পালন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, তারা একদিকে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার বুলি আওড়াচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে ভারত বা চিনের মতো বৃহৎ আমদানিকারকদের রুশ তেল কেনা থেকে আটকাতে কঠোর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ইরানের ভাষায়, এটি আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি এবং চরম অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper











