Gautam Adani: ৯৬,৩১৪ কোটি বিনিয়োগের শর্ত! গৌতম আদানিকে জালিয়াতি মামলা থেকে মুক্তি দিল US
Gautam Adani: গত ২৭ এপ্রিল প্রকাশ্যে আসা নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের জেলা আদালতের নথি অনুযায়ী, আদানির আইনজীবীরা মার্কিন এসইসির প্রতারণা-সংক্রান্ত অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেন।
Gautam Adani: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধমূলক জালিয়াতি ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের মামলায় অবশেষে বড় স্বস্তি পেলেন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি ও তাঁর ভাইপো সাগর আদানি। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। অভিযোগগুলোর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই-প্রসিকিউটররা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর নিউ ইয়র্কের বহুল আলোচিত সিকিউরিটিজ এবং ওয়্যার ফ্রড মামলার পুরো অবসান ঘটল। এসব মামলা দেখভাল করছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নিয়ন্ত্রক ও তদন্ত সংস্থা।
গত সপ্তাহে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ভারতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া তথ্য (ডিসক্লোজার) নিয়ে দুজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, দোষ স্বীকার বা অস্বীকার না করেই গৌতম আদানি ৬০ লক্ষ ডলার এবং সাগর আদানি এক কোটি ২০ লক্ষ ডলার দিতে সম্মত হয়েছেন। এরপর আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ইরান থেকে এলপিজি আমদানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নেয় মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল। ভারতীয় এই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীটি তদন্তে ‘সহযোগিতা’ এবং ‘স্বপ্রণোদিত’ তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি ২৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হওয়ার পর এই রফা হয়।
এবার নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের প্রসিকিউটররা গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানির বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আদালতের কাছে পেশ করা আবেদনে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট আদানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্র স্থায়ীভাবে খারিজ করার আবেদন জানায়। সেখানে বলা হয়, জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এ মামলা পর্যালোচনা করেছে এবং বিচারিক বিবেচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের পেছনে আর কোনও সম্পদ বা শ্রম ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর আদালত আদানি ও অন্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্থায়ীভাবে খারিজের নির্দেশ দেয়। এই এ মামলা বন্ধ হওয়াকে একটি নাটকীয় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আদানি গ্রুপের বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে ব্যাহত করার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে দায়ের করা এসইসি ও মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট-র মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়, সৌরবিদ্যুৎ চুক্তি নিশ্চিত করতে আদানিরা ভারতীয় কর্মকর্তাদের ২৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তহবিল সংগ্রহের সময় এ বিষয়টি মার্কিন বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের কাছে তারা গোপন রেখেছিলেন।
অভিযোগ খারিজে যে আদেশে এসেছে, তার অর্থ হল, আর কখনই এসব অভিযোগ আর তোলা হবে না।মার্কিন ফৌজদারি কার্যবিধিতে এই ধরনের খারিজ হওয়ার ঘটনা বেশ বিরল এবং এর সাধারণ অর্থ হল, বিস্তৃত পর্যালোচনার পর মামলা চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও যৌক্তিকতা মেলেনি। এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের মতে, প্রসিকিউটররা স্পষ্ট কোনও মার্কিন যোগসূত্র না পাওয়ায় এবং অভিযোগগুলো টিকিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় মামলা আদানির পক্ষে চলে যায়। মার্কিন প্রসিকিউটর ও আদানির পক্ষে গঠিত একটি শক্তিশালী আইনজীবী দলের মধ্যে কয়েক মাসের আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ‘সুলিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েল’এর পাঁচজন মার্কিন আইনি পরামর্শদাতার পাশাপাশি ল ফার্ম নিক্সন পিবডি, হেকার ফিঙ্ক, নর্টন রোজ ফুলব্রাইট ব্রেসওয়েল পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিক আবেদন ও উপস্থাপনা পেশ করে। এই পর্যালোচনায় গৌতম ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ টিকিয়ে রাখার মত কোনও উপাদান মেলেনি। ফলে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট মীমাংসার পথে হাঁটে।
গত ২৭ এপ্রিল প্রকাশ্যে আসা নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের জেলা আদালতের নথি অনুযায়ী, আদানির আইনজীবীরা মার্কিন এসইসির প্রতারণা-সংক্রান্ত অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা এসইসির উদ্যোগকে মার্কিন সিকিউরিটিজ আইনের ‘সীমার বাইরে গিয়ে অন্য দেশের ওপর অননুমোদিত হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রতিরক্ষা পক্ষ যুক্তি দেয় যে, এই মামলায় এমন সিকিউরিটিজকে জড়ানো হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয় না এবং কথিত ওই ঘুষের ঘটনা ‘কেবলই ভারতে’ ঘটেছে। তাদের আবেদনে ছিল, এ মামলা চালাতে ‘প্রয়োজনীয় এখতিয়ারের অভাব’আছে এসইসির। আদানিরা বিনিয়োগকারীদের ভুল তথ্য দিয়েছিল বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা প্রমাণ করতেও এসইসি ব্যর্থ হয়েছে এবং বন্ড অফারিংয়ের সঙ্গে কোনও বিবাদীর যোগসূত্র তারা প্রমাণ করতে পারেনি। আইনজীবীরা দাবি করেন, এসইসি কথিত ঘুষ-বিরোধী অভিযোগগুলোকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতির অভিযোগে রূপান্তর করেছে। আবেদনে এও বলা হয়, সেখানে কোনও বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হয়নি, সমস্ত বন্ডের বাধ্যবাধকতা পূরণ করা হয়েছে এবং গৌতম আদানি নিজে বন্ড ইস্যু করার কোনও অনুমোদন দেননি।
বিদেশে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে প্রসিকিউটররা সিকিউরিটিজ আইনের পরিধি জোর করে বাড়িয়েছেন কিনা তা নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের তরফে মামলাটি ক্রমবর্ধমান যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। গৌতম আদানি, সাগর আদানি ও বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে কেবল সিকিউরিটিজ এবং ওয়্যার ফ্রড বিধির অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছিল। অন্যদের বিরুদ্ধে বিদেশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ঘুষের অভিযোগ বা বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার মত অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। কোম্পানির দাবি ছিল, তারা সব নিয়মকানুন মেনেই ‘সততার সঙ্গে’ ব্যবসা চালায় এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই তারা অভিযোগের মোকাবিলা করবে। আদানি ও অন্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তফাত এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনও যোগসূত্র না থাকায় মার্কিন সরকারের আইনি পদক্ষেপ নিয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এসইসির প্রাক্তন কমিশনার লরা উঙ্গার বলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ এমন ঘুষের অভিযোগের ওপর নির্ভর করে শেয়ার বাজার জালিয়াতি মামলার ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করেছে, যা খোদ ভারতেই কখনও প্রমাণিত হয়নি বা সেখানে কোনও আনুষ্ঠানিক তদন্তও হয়নি।
E-Paper

