US Expert on Pakistan: কেন ভারতের সঙ্গে সংঘাত চায় পাকিস্তান? কাশ্মীর নয়, 'আসল কারণ' জানালেন মার্কিন বিশ্লেষক

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ফেয়ার। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের ফলে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হয় এবং দেশটি তার প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হারায়।

Published on: Jul 27, 2026, 08:21:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কার্গিল বিজয় দিবসের আবহে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা ফেয়ার। তাঁর দাবি, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সংঘাতের মূল কারণ শুধু কাশ্মীর নয়। বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তিই ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হলেও পাকিস্তানের ভারতবিরোধী নীতি বদলাবে না বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।

কার্গিল বিজয় দিবসের আবহে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা ফেয়ার। (PTI)
কার্গিল বিজয় দিবসের আবহে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা ফেয়ার। (PTI)

গত সাত দশকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিকবার শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলেও সীমান্ত সন্ত্রাস, সামরিক সংঘর্ষ, অবিশ্বাস এবং কৌশলগত দ্বন্দ্বের কারণে সেই উদ্যোগগুলি বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্রিস্টিনা ফেয়ারের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁর মতে, পাকিস্তানের কাছে কাশ্মীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলেও সেটিই একমাত্র বা প্রকৃত সমস্যা নয়। প্রকৃত উদ্বেগ হল দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারতের উত্থান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাড়তে থাকা ভূমিকা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে নেতৃত্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা পড়েছে।

ফেয়ারের বক্তব্য, যদি আগামীকাল কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধানও হয়ে যায়, তাহলেও পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাতের নীতি থেকে সরে আসবে না। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিতে ভারত একটি 'অস্তিত্বগত প্রতিদ্বন্দ্বী'। কাশ্মীর সেই বৃহত্তর প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি প্রতীক এবং কৌশলগত হাতিয়ার মাত্র।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ফেয়ার। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের ফলে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত হয় এবং দেশটি তার প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হারায়। এটি পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম বড় সামরিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হলেও, ফেয়ারের দাবি, পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব এবং সরকারি প্রচারব্যবস্থা আজও সেই পরাজয়কে সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করতে চায় না।

তাঁর মতে, পাকিস্তান এখনও নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের উত্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম একমাত্র শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। এই ধারণাই পাকিস্তানের সামরিক নীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ানের কেন্দ্রবিন্দু। এর মাধ্যমে ভারতবিরোধী অবস্থানকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

ক্রিস্টিনা ফেয়ারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য কেবল কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রাখা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাবকে সীমিত করা এবং তাকে একচ্ছত্র আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে বাধা দেওয়া। সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ, প্রক্সি যুদ্ধ এবং ধারাবাহিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডকেও তিনি এই বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বাস্তবতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More