US-Iran peace talks: পরমাণু ছাড়ের বিনিময়ে ইরানকে ‘ফ্রোজেন' সম্পদ ফেরত দিতে পারে US

US-Iran peace talks: গত এপ্রিলে ইসলামাবাদের সম্মেলনের পর এটিই হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা। এই বৈঠকের মাধ্যমেই ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক শুরু হতে চলেছে। 

Published on: Jun 21, 2026, 13:07:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

US-Iran peace talks: পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রবিবার সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টক স্কি রিসোর্টে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

পরমাণু ছাড়ের বিনিময়ে ইরানকে ‘ফ্রোজেন' সম্পদ ফেরত দিতে পারে US (Elizabeth Frantz/POOL REUTERS vi)
পরমাণু ছাড়ের বিনিময়ে ইরানকে ‘ফ্রোজেন' সম্পদ ফেরত দিতে পারে US (Elizabeth Frantz/POOL REUTERS vi)

গত এপ্রিলে ইসলামাবাদের সম্মেলনের পর এটিই হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা। এই বৈঠকের মাধ্যমেই ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক শুরু হতে চলেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিজস্ব সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন প্রশাসন আশা করছে তেহরান তার পরমাণু স্থাপনাগুলোতে রাষ্ট্রসংঘের পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হবে। এর বিনিময়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে পূর্বে ফ্রোজেন করা কিছু সম্পদে প্রবেশাধিকার দিতে ইচ্ছুক। বিশেষ করে, অ্যাক্সিওসের সূত্রটি জোর দিয়ে বলেছে, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য রাষ্ট্রসংঘের পরিদর্শকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা শেষ করার আশা করছে- যে স্থাপনাগুলো অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিমান হামলার শিকার হয়েছে।' প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাতারে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে ইরানের ফ্রোজেন তহবিলের একটি অংশ ছাড় করতে প্রস্তুত। ইরানকে এই তহবিল অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে।

সুজারল্যান্ডের পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান

শনিবার সকালেই হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছান। একই দিনে স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলও সে দেশে পৌঁছেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধিও এই আলোচনায় যোগ দেবেন। এদিকে, এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতাগুলো হয়েছে, পাকিস্তান সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে সমর্থন ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেডি ভ্যান্স বলেন, এই আলোচনা 'কয়েক দিন' চলতে পারে এবং তিনি সেখানে 'এক বা দুই দিন' থাকবেন। তাঁর কথায়, 'আমরা আশা করছি পরমাণু ইস্যুতে অগ্রগতি হবে, একইসঙ্গে লেবানন যুদ্ধবিরতির বিষয়েও অগ্রগতি হবে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা

লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু আলোচনা শুরুর অন্যতম শর্ত। কিন্তু যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার ইজরায়েলি হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স। ইজরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর হামলার জবাব দিয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা লেবাননে ইজরায়েলকে ‘অবাধ চলাচলের সুযোগ’ দেবে না। এই আবহে আলোচনার আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনায় লেবাননের যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর অবস্থা এবং চুক্তিটিকে কার্যকর করতে যতটা সম্ভব একে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের বিষয়টি যেমন স্থান পাবে, তেমনই ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই পদক্ষেপগুলোর ওপরেও বিশেষ নজর দেবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই পদক্ষেপ ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির জন্য নয়, বরং কেবল পরমাণু অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হবে।

জেডি ভ্যান্স আরও জানান, ইরানি প্রতিনিধিরাও তাদের নিজস্ব অগ্রাধিকারের তালিকা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন বলে তিনি আশা করছেন। তবে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে তৈরি হওয়া ৬০ দিনের এই মেয়াদে মূলত উভয় পক্ষ আসলে কী অর্জন করতে চায়, তা একে অপরের সামনে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য এই আলোচনাকেই প্রথম সুযোগ হিসেবে দেখছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।