Asim Munir: ইরানের 'চর!' পাক জেনারেল মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্যতা কীসের? US প্রশাসনে ‘বিপজ্জনক সঙ্কেত’...
Asim Munir: ইরানের সঙ্গে আসিম মুনিরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬-১৭ সালে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় তিনি ইরানের সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
Asim Munir: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকা সমালোচনার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি তিনি ইরান সফর শেষ করেছেন। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিদেশমন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। সরকারিভাবে একে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা বলা হলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সফরের সময়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা চরমে এবং ইসলামাবাদ আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের সঙ্গে আসিম মুনিরের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬-১৭ সালে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় তিনি ইরানের সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আহমেদ সাঈদ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানিয়েছেন, মুনির ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল ইরানের প্রভাবশালী সামরিক নেতাদের সঙ্গে, যার মধ্যে রয়েছেন ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত কুডোস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেমানি এবং ২০২৫ সালে ইজরায়েলি হামলায় নিহত আইআরজিসি কমান্ডার হোসেন সালামি। মুনিরের প্রসঙ্গে আহমেদ সাঈদ আরও বলেন, 'আন্তর্জাতিকভাবে তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যার ইরানের গোয়েন্দা মহলে, সামরিক নেতৃত্বে, কূটনৈতিক মহলে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেও ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্পর্ক রয়েছে।'
ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস-এর সিনিয়র ফেলো বিল রোগিও এক আলোচনায় বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। তিনি আইআরজিসি-র সঙ্গে মুনিরের সম্পর্ককে একটি ‘বিপজ্জনক সঙ্কেত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, 'ট্রাম্পের পাকিস্তানিদের বিশ্বাস করা উচিত নয়। আফগানিস্তানে পাকিস্তান ছিল এক বিশ্বাসঘাতক 'মিত্র', যারা আমাদের বন্ধু সাজার ভান করে তালিবানদের সমর্থন করেছিল। আইআরজিসি-র সঙ্গে মুনিরের সম্পর্ক ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় বিদেশ সঙ্কেত।' অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান বিশেষজ্ঞ রাজা রুমি বলেন, মুনিরের মতো ব্যক্তিদের উত্থান এটাই প্রমাণ করে যে পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী কীভাবে বেসামরিক নেতৃত্বকে 'ক্রমশই ম্লান করে দিচ্ছে।' ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় তিন দিনের তেহরান সফর শেষ করেছেন আসিম মুনির। যেখানে তিনি শীর্ষ নেতা ও আলোচকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতি অনুসারে, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া। আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
E-Paper

