H-1B Visa: ফের চর্চায় H-1B ভিসা! US সেনেটরের নিশানায় হায়দরাবাদের চিলকুর বালাজি মন্দির, তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

H-1B Visa: 'চিলকুর বালাজি' মন্দির দক্ষিণ ভারত বিশেষ করে তেলাঙ্গানা-অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষজনের কাছে নতুন নাম নয়। হায়দরাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রঙ্গা রেড্ডি জেলার চিলকুর-এ রয়েছে।

Published on: May 15, 2026, 23:26:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

H-1B Visa: এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির সমালোচনা করতে গিয়ে হায়দরাবাদের বিখ্যাত চিলকুর বালাজি মন্দির নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন মার্কিন সেনেটর এরিক শ্মিট। এই মন্দিরটি ‘ভিসা টেম্পল’ নামেও পরিচিত। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ একাধিক পোস্টে এরিক স্মিট মার্কিন অভিবাসন এবং কর্মসংস্থান-ভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেছেন, এইচ-১বি, এল-১, এফ-১ এবং অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি)-এর মতো কর্মসূচিগুলো আমেরিকান কর্মীদের চাকরি ও বেতনকে প্রভাবিত করছে।

US সেনেটরের নিশানায় চিলকুর বালাজি মন্দির (সৌজন্যে টুইটার)
US সেনেটরের নিশানায় চিলকুর বালাজি মন্দির (সৌজন্যে টুইটার)

মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর এরিক শ্মিটের অভিযোগ, এই ভিসা কর্মসূচিগুলো আমেরিকান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে 'ক্ষয়িষ্ণু' করে তুলছে। নিজের দাবির সমর্থনে এরিক শ্মিট হায়দরাবাদের চিলকুর বালাজি মন্দিরের একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যা জনমুখে 'ভিসা টেম্পল' নামে পরিচিত। এক্স বার্তায় তিনি বলেছেন, 'এই 'ভিসা সিন্ডিকেটের' নিজস্ব 'ভিসা টেম্পল' রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার ভারতীয় মার্কিন ওয়ার্ক ভিসার জন্য প্রার্থনা করেন এবং তাদের পাসপোর্টের জন্য আশীর্বাদ চায়। আমেরিকান কর্মীদের এমন একটি কারসাজিপূর্ণ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামানো উচিত নয়।' তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, ভারতে এআই প্রশিক্ষণে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যা আমেরিকান করদাতাদের ওপর বোঝা হিসেবে চাপানো হচ্ছে।

অন্য একটি পোস্টে এরিক শ্মিট বলেছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা, যাদের প্রায় অর্ধেকই ভারতীয়, করদাতাদের ভর্তুকিপ্রাপ্ত কাজের অনুমতিপত্র পান। তিনি লিখেছেন, 'তারা এইচ-১বি ভিসা ও পরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করে, অন্যদিকে ঋণে জর্জরিত মার্কিন শিক্ষার্থীরা সস্তা শ্রমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে বাধ্য হয়।' এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, ভারতীয় ভিসাধারীরা অন্যান্য আবেদনকারীদের সঙ্গে ইন্টারভিউয়ের প্রশ্ন আদান-প্রদান করেন এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আমেরিকান কর্মীদের আউটসোর্স করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, এরিক শ্মিটের বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেক ভারতীয় ইউজার এটিকে ভারতীয় সম্প্রদায় এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর অভিঘাত বলে দাবি করেছেন। অনেকে উল্লেখ করেছেন যে চিলকুর বালাজি মন্দির কেবলই একটি উপাসনালয়, যেখানে ছাত্রছাত্রী ও পেশাজীবীরা বিদেশে ভ্রমণের আগে বা ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য আশীর্বাদ চাইতে যান।

চিলকুর বালাজি মন্দির কেন বিখ্যাত?

'চিলকুর বালাজি' মন্দির দক্ষিণ ভারত বিশেষ করে তেলাঙ্গানা-অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষজনের কাছে নতুন নাম নয়। হায়দরাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রঙ্গা রেড্ডি জেলার চিলকুর-এ রয়েছে। এই চিলকুর বালাজিকেই ভিসার দেবতা বলা হয়। প্রতিদিন কম করে হলেও তিন থেকে চার হাজার মানুষ পৌঁছন পুজো দিতে। বেশিরভাগ লোকেরই দাবি থাকে, 'ভিসাটা পাইয়ে দাও।' তাই মন্দিরে গেলে ব্যাগে অবশ্যই রাখেন পাসপোর্ট। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি আগে ছিল একটা তীর্থস্থান। কিন্তু দেশের বহু মানুষের কাছে আজ ভিসা বালাজি। প্রচলিত বিশ্বাস, এখানে প্রার্থনা করলে বিদেশযাত্রার অনুমতি বা ভিসা অ্যাপ্রুভাল দ্রুত মিলতে পারে। অভিবাসন-আইন যতোই কঠোর হোক, বালাজি কাউকে ফেরান না ফলে মন্দিরটির প্রতি ভরসা রাখা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।