US-Iran Peace Talk in Islamabad: বর্তমান বিশ্ব-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক সর্বদাই একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো। আজ পাকিস্তানে এই দু'দেশের মধ্যে যে 'শান্তি আলোচনা' শুরু হয়েছে, তা নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন অভিজ্ঞ প্রাক্তন কূটনীতিক কে.পি. ফ্যাবিয়ান। তাঁর মতে, এই শান্তি প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং এর পিছনে কাজ করছে 'Tail wags the dog' (লেজ যখন কুকুরকে নাড়ায়) নামক এক বিচিত্র কৌশল। যখন কোনও অপ্রধান বা ছোটো শক্তি (এখানে পাকিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠী) কোনও বড় শক্তিকে (আমেরিকা বা ইরান) নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন সেই তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়।

সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্যাবিয়ান বলেছেন যে পাকিস্তান নিজেকে এই শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে বিশ্ব দরবারে গুরুত্ব বাড়াতে চাইছে। পাকিস্তান বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের 'শান্তিপ্রিয়' দেশ হিসেবে তুলে ধরা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা হল যে পাকিস্তান নিজেই অনেক সময় জঙ্গিগোষ্ঠীর মাধ্যমে বড় দেশগুলোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, যা এই শান্তি আলোচনার স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন কূটনীতিবিদ।
‘কূটনীতি হল সম্ভাবনার শিল্প'
তিনি বলেন, ‘কূটনীতি হল সম্ভাবনার শিল্প। এই মুহূর্তে আমি কল্পনাও করতে পারি না যে ইরানি এবং ইজরায়েলিরা একই ঘরে বা এমনকী একই ভবনে একসঙ্গে বসবে। কিন্তু আমি মনে করি না যে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আসল বিষয় হলেন প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্প।একমাত্র সমস্যা হল, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে লেজ কুকুরকে নাড়ায়। ট্রাম্পের উপর (বেঞ্জামিন) নেতানিয়াহুর এমন এক প্রভাব আছে যা ব্যাখ্যা করা সহজ নয়। আমার ধারণা, তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করে সেই প্রভাব খাটিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প এখন ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মূল্য বুঝতে পারছেন এবং নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছেন।’
'আমেরিকা ও ইরান - সাফল্য চায় ২ দেশই'
{{/usCountry}}'আমেরিকা ও ইরান - সাফল্য চায় ২ দেশই'
{{/usCountry}}প্রাক্তন কূটনীতিবিদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই সাফল্য চায়, যদিও তাদের কারণ ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের কারণে চালিত হচ্ছেন। অন্যদিকে এক্ষেত্রে ইরান স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল পক্ষ। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। তবে এই বোমা হামলায় ইতিমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি চলতে থাকলে ইরান গাজার মতো একটি রাষ্ট্র গঠনের ঝুঁকিতে পড়বে। তবে, প্রধানমন্ত্রী (বেঞ্জামিন) নেতানিয়াহুই হলেন আলোচনার অন্তরায়—সেই অপ্রিয় সত্য যিনি চান না এই আলোচনা সফল হোক। আমার ধারণা, এই আলোচনা সীমিত সাফল্য পাবে।'