Cockroach Janta Party: ‘বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে!’ সিজেপি-র মুখপাত্র পদ থেকে ছাঁটাই হতেই বিস্ফোরক বিজেতা দহিয়া

Cockroach Janta Party: বিজেতা দহিয়া জানান, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগেই সিজিপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকের একটি ফোন পান তিনি। ফোনে তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রতিবাদের স্থানে তাঁর আসার কোনও প্রয়োজন নেই এবং একই সঙ্গে তাঁকে মুখপাত্রের পদ থেকে অপসারিত করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।

Published on: Jul 23, 2026, 18:50:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Cockroach Janta Party: সোমবার উত্তাল ছিল নয়াদিল্লি। নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস ছুঁড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই পরিস্থিতিতে বার্গার খেতে দেখা গিয়েছিল সিজেপির এক মুখপাত্রকে। বিজেতা দহিয়ার বার্গার খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এরপরেই আন্দোলনের সময় সংগঠনের অন্যতম মুখপাত্রের বার্গার খাওয়ার ঘটনাকে ‘চরম অসংবেদনশীল’, ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ’দায়িত্বজ্ঞানহীন’ অভিহিত করে বিজেতা দহিয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সিজেপি। আর এই ‘বার্গার বিতর্ক’ শুরুর ঠিক দু’দিনের মাথায় অবশেষে মুখ খুললেন ককরোচ জনতা পার্টির বহিষ্কৃত মুখপাত্র বিজেতা দহিয়া। তাঁকে দলীয় মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে দহিয়া দাবি করেছেন, এই পুরো ঘটনায় তাঁকে অন্যায্যভাবে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।

সিজেপি-র মুখপাত্র পদ থেকে ছাঁটাই হতেই বিস্ফোরক বিজেতা দহিয়া (PTI)
সিজেপি-র মুখপাত্র পদ থেকে ছাঁটাই হতেই বিস্ফোরক বিজেতা দহিয়া (PTI)

বিজেতা দহিয়া জানান, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগেই সিজিপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকের একটি ফোন পান তিনি। ফোনে তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রতিবাদের স্থানে তাঁর আসার কোনও প্রয়োজন নেই এবং একই সঙ্গে তাঁকে মুখপাত্রের পদ থেকে অপসারিত করার সিদ্ধান্তও জানানো হয়। সংগঠনের এই সিদ্ধান্তে তাঁর ‘হৃদয় ভেঙে গেছে’ উল্লেখ করে সিজিপি-র প্রাক্তন মুখপাত্র বলেন, পুলিশি অভিযানের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বিগত দুটি রাত তিনি টানা আন্দোলনস্থলেই ছিলেন। তিনি আরও বলেন, পূর্বে সিজিপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে যখন তাঁর বিতর্কিত ‘কচুরি সংক্রান্ত ভিডিও’ এবং প্রতিবাদ মিছিলের সময় একটি ট্রাকে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, তখন তিনি নিজে শক্ত হাতে দীপকের পক্ষ নিয়েছিলেন।

সোমবার সিজিপি-র নেতৃত্বে আয়োজিত সংসদ অভিযান চলাকালীনই এই ঘটনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও (যদি ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা) দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, দিল্লি পুলিশ যখন যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছিল এবং তাঁদের আটক করছিল, তখন দহিয়া আন্দোলনস্থলে না থেকে দিল্লির একটি নামী ফাস্টফুড দোকানে নিশ্চিন্তে সময় কাটাচ্ছিলেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর পদ হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

'ভেবেছিলাম সহানুভূতি জানাতে ফোন করেছেন অভিজিৎ দীপকে'

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় ককরোচ জনতা পার্টির অপসারিত মুখপাত্র বিজেতা দহিয়া জানান, যন্তর মন্তরে যাওয়া-আসার পথে তিনি দু’টি অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। এরপরই তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিবার-পরিজন সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁকে ফোন করতে শুরু করেন। ভিডিওতে দহিয়া বলেন, 'সিজেপি থেকে বরখাস্ত করার পর আমার কেমন লেগেছিল? সত্যি বলতে, আমার মন ভেঙে গিয়েছিল। আসলে একদিনের মধ্যেই আমার সঙ্গে দুটি ঘটনা ঘটে। প্রথমবার যখন যন্তর মন্তর থেকে বাড়ি ফিরছিলাম, তখন মেট্রোতে সমস্যা হয়। আর দ্বিতীয়বার যখন আবার যন্তর মন্তরে ফিরছিলাম, তখন কিছু মানুবাদের সমর্থক সেখানে এসে আমাকে হেনস্থা করতে শুরু করে।' তিনি আরও জানান, 'বন্ধু-বান্ধবদের ফোন আসতে থাকে যে কোনও বিপদ হয়েছে কিনা, সবাই আমাকে নিরাপদে থাকতে বলছিল এবং পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছিল। ঠিক সেই সময়ই অভিজিৎ দীপকের ফোন আসে। আমি ভেবেছিলাম উনিও হয়তো পাশে দাঁড়ানোর জন্যই ফোন করেছেন।'

দহিয়ার কথায়, 'আমি তখন কেবল বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম অভিজিৎ হয়তো বলবে, ‘চিন্তার কিছু নেই, আমরা একসঙ্গে লড়াই করছি।’ কিন্তু ফোন ধরতেই অভিজিৎ এবং সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা আমাকে সোজা যন্তর মন্তরে আসতে বারণ করেন। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘না না, ওই বার্গারের ঘটনাটা ঘটেছে।’

‘অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার পুরস্কার পেলাম বলির পাঁঠা হয়ে!’

দহিয়া আক্ষেপ করে বলেন, যখন দলের বিরুদ্ধে ওঠা অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব দিচ্ছিলেন এবং সিজেপি-র হয়ে শক্ত হাতে লড়াই করছিলেন, ঠিক তখনই তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হলো। অভিজিৎ দীপকেকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে দহিয়া বলেন, 'যদি সাধারণ একটা ছবি বা ভিডিওই এত বড় সমস্যা হয়, তবে আপনার ‘কচুরি খাওয়ার ভিডিও’ তো ভাইরাল হয়েছিল! আমি আপনাকে শক্তভাবে সমর্থন করেছিলাম। এমনকী প্রতিবাদ মিছিলে ট্রাকে দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা নিয়েও যখন আপনাকে আক্রমণ করা হচ্ছিল, তখনও আমি আপনার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি নিজে হুমকির মুখে পড়েছি, পুলিশের নির্মমতার শিকার হয়েছি, তাও সিজেপি-কে রক্ষা করেছি। আর বিনিময়ে আমাকেই সরিয়ে দেওয়া হলো।' দহিয়া দাবি করেন, পুলিশি অভিযানের আশঙ্কায় পদচ্যুত হওয়ার আগের দুটি রাত তিনি টানা যন্তর মন্তরে কাটিয়েছেন এবং সংসদ অভিযান শুরু হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই উপস্থিত ছিলেন। অভিজিৎ দীপকে সেই খবর ভালভাবেই জানতেন।

তিনি আরও বলেন, 'ট্রোলা যা খুশি রটাতে পারে, কিন্তু আপনি তো জানতেন আমি গত দু’রাত ধরে সেখানেই ছিলাম। যখন কেরল হাউসের কাছে কাঁদানে গ্যাসের জন্য আমাদের চোখ জ্বলছিল, তখনও তো আমি, শীতল এবং সৌরভ একসঙ্গে ছিলাম। আমি ফোনে অভিজিৎকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম ‘এই ত্যাগগুলো কী আপনি দেখতে পাচ্ছেন না?'