PM Modi: ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক, অগ্রাধিকার গ্লোবাল সাউথ! জি-৭ সম্মেলনে PM মোদীর কর্মসূচি কী কী?
PM Modi: ছ’দিনের সফরে ফ্রান্স এবং স্লোভাকিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, জি-৭ মঞ্চে ভারত শুধু নিজের হয়েই কথা বলবে না, বরং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আকাঙ্ক্ষাকেও তুলে ধরবে।
PM Modi: জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনা করতে গত শনিবারই ফ্রান্স এবং স্লোভাকিয়ার উদ্দেশ্যে এক সপ্তাহের সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়েছেন, ওই সম্মেলনে ভারত শুধু নিজের কথাই বলবে না, বরং সমগ্র ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির আশা-আকাঙ্ক্ষাও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। অন্যদিকে, এই সফরেই দীর্ঘ কয়েক মাস পর ফের একবার মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এই মুহূর্তে ফলে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকের আলোচ্য বিষয় এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তুঙ্গে।

আগামী ১৬ ও ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে এই জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জি-৭ বা ‘গ্রুপ অফ সেভেন’ হল বিশ্বের ‘আধুনিক অর্থনীতির’ অধিকারী হিসেবে বিবেচিত সাতটি দেশের একটি গোষ্ঠী। এই দেশগুলি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান, ইতালি, কানাডা এবং জার্মানি। জি ৭ গোষ্ঠীর সরাসরি সদস্য নয় ভারত। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি এক নজরে-
গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর
ছ’দিনের সফরে ফ্রান্স এবং স্লোভাকিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, জি-৭ মঞ্চে ভারত শুধু নিজের হয়েই কথা বলবে না, বরং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আকাঙ্ক্ষাকেও তুলে ধরবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'জি-৭ সম্মেলনে ভারতের উপস্থিতি আমাদের অংশীদারদের আমাদের প্রতি আস্থা এবং বিশ্বমঞ্চে আমাদের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করে। এটি টানা অষ্টম জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন যেখানে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনে ভারত কেবল নিজের পক্ষেই কথা বলবে না, বরং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর আকাঙ্ক্ষাগুলোও তুলে ধরবে।'
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাঁদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রাঙ্গনেও ভারতের ভূমিকা আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে নয়া সহযোগিতার দোর খুলে দেবে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই ইউরোপ সফরকে ভারতীয় কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মুখোমুখি হবেন মোদী-ট্রাম্প
শনিবার হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, জি৭ সম্মেলনের ফাঁকেই বৈঠক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও এ ব্যাপারে নয়া দিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির জল্পনার মাঝে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। পাশাপাশি, এই বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে সেই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বৈঠকে সেই অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হতে পারে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
E-Paper

