Karnataka: রাজ্যসভার পথে সিদ্দারামাইয়া! মুখ্যমন্ত্রী নাও হতে পারেন শিবকুমার, কর্ণাটকে এবার কোন মোড়?
Karnataka: কর্ণাটকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই তীব্র গুঞ্জনের মাঝেই হাইকমান্ডের পাশে দাঁড়িয়ে আসরে নেমেছেন কংগ্রেস বিধায়ক বি কে হরিপ্রসাদ। তিনি এই গোটা পরিস্থিতির জন্য বিজেপির ‘ট্রোল আর্মি’কে কাঠগড়ায় তুলেছেন।
Karnataka: কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে দীর্ঘদিনের দড়ি টানাটানিতে অবশেষে ইতি পড়তে চলেছে! কংগ্রেস হাইকমান্ড-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের দিল্লি সফরের পর কর্ণাটকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা নতুন করে গতি পেয়েছে। দল এই বৈঠককে ‘রুটিন’ বা সাধারণ সাক্ষাৎ বলে দাবি করলেও, গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানিয়েছে যে হাইকমান্ড কর্ণাটকে 'ক্ষমতা হস্তান্তরের' পক্ষেই সওয়াল করছে। একই সঙ্গে সিদ্দারামাইয়ার জন্য একটি বিকল্প পথের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

২০২৩ সালে কর্ণাটকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের খবর প্রায়শই সামনে এসেছে। এমনকি দলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক শীর্ষ পদের (মুখ্যমন্ত্রী) জন্য ডিকে শিবকুমারকে প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তবে রাজনীতির অলিন্দে নতুন জল্পনা শোনা যাচ্ছে যে, সিদ্দারামাইয়া অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন এবং কর্ণাটকেও বিহারের মতো একটি বিশেষ রাজনৈতিক কৌশল নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি ছাড়ার বিনিময়ে কংগ্রেস হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যে প্রস্তাবগুলো দেওয়া হতে পারে, তা নিচে দেওয়া হলো:
১. সিদ্দারামাইয়ার জন্য একটি রাজ্যসভা আসন
২. তাঁর পুত্র ওয়াই. সিদ্দারামাইয়ার জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ
এই রফাসূত্রটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে তা কিছুদিন আগে বিহারে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গেই অদ্ভুতভাবে মিলে যাবে। নীতীশ কুমার সম্প্রতি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে রাজ্যসভায় গিয়েছেন এবং তাঁর জায়গায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বিহারের কুর্সিতে বসেছেন। এর পাশাপাশি, নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমার পাটনায় বিহারের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নে ডিকে শিবকুমারের মুখে হাসি
দিল্লিতে পা রাখতেই সংবাদমাধ্যম ডিকে শিবকুমারের কাছে জানতে চেয়েছিল, তিনি কর্ণাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন কিনা। বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা মুখে কুলুপ আঁটলেও, গাড়িতে চড়ে রওনা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। তবে এই হাসির আড়ালে অন্য একটি রাজনৈতিক অঙ্কও দেখছেন খোদ সিদ্দারামাইয়া শিবিরের সমর্থকেরা। ঘটনাক্রমের ওপর নজর রাখছেন এমন কিছু সূত্রের দাবি, সিদ্দারামাইয়ার অনুগামীরা আসলে মনেপ্রাণে চাইছেন শিবকুমার এখনই এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁদের ধারণা, এই মুহূর্তে দায়িত্ব নিলে রাজ্যের প্রতিষ্ঠান-বিরোধী তীব্র হাওয়ার মুখে পড়তে হবে শিবকুমারকে। ফলে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল হেরে গেলে তাঁর নেতৃত্বের সমস্ত দাবি চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
এদিকে কর্ণাটকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই তীব্র গুঞ্জনের মাঝেই হাইকমান্ডের পাশে দাঁড়িয়ে আসরে নেমেছেন কংগ্রেস বিধায়ক বি কে হরিপ্রসাদ। তিনি এই গোটা পরিস্থিতির জন্য বিজেপির ‘ট্রোল আর্মি’কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে তিনি স্পষ্ট জানান, দুর্নীতি বা অন্য কোনও বড় অভিযোগ সামনে না আসা পর্যন্ত সিদ্দারামাইয়া নিজের পদেই বহাল থাকছেন। বার্তা সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী হরিপ্রসাদ বলেন, 'সিদ্দারামাইয়াজি যখন মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন তাঁকে পুরো পাঁচ বছরের জন্যই বেছে নেওয়া হয়েছিল। যদি কোনও দুর্নীতি বা গুরুতর অভিযোগ ওঠে, কেবল তখনই দল এই নিয়ে নতুন করে ভাববে। বিজেপির ট্রোল আর্মির ছড়ানো বিভ্রান্তির জবাব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন আমাদের নেই।'
কেন এখন রাজ্যসভার পথ?
২০২৩ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিপুল জয় পাওয়ার পর যখন সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন একাধিক রিপোর্টে একটি অলিখিত ক্ষমতা-বণ্টন চুক্তির কথা সামনে এসেছিল। সেই রফাসূত্র অনুযায়ী কথা ছিল, সিদ্দারামাইয়া তাঁর মেয়াদের আড়াই বছর (অর্ধেক সময়) পূর্ণ করার পর মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাটন তুলে দেবেন ডিকে শিবকুমারের হাতে। কিন্তু গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে মেয়াদের সেই আড়াই বছর পূর্ণ হয়ে গেলেও কর্ণাটকের শীর্ষ নেতৃত্বে কোনও রদবদল দেখা যায়নি। সেই সময় দুই নেতার মধ্যকার একাধিক ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং’ বা প্রাতঃরাশ বৈঠক নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনাকে তীব্র করে তুললেও, বাস্তবে ক্ষমতার অলিন্দে কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। তবে এবার ৭৭ বছর বয়সি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার জন্য রাজ্যসভার হাত ধরে জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ইনিংস শুরুর সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। কারণ আগামী জুন মাসে কর্ণাটক থেকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আসন-সহ মোট চারটি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন হতে চলেছে। আর সংখ্যার অঙ্কে এর মধ্যে অন্তত তিনটি আসনে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
E-Paper

