Akshaya Tritiya: এই তো সবে শুরু! ২০২৭-এ অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে? দেখে নিন এক ঝলকে
Akshaya Tritiya: বিগত এক মাস ধরে সোনার দাম কখনও কমছে, আবার বাড়ছে। ২০২৫ সালে ১৫ এপ্রিল ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রায় ৯৫,৫০০ টাকা । চলতি বছরে তা বেড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার উপরে পৌঁছেছে।
Akshaya Tritiya: আজ, ১৯ এপ্রিল দেশজুড়ে অক্ষয় তৃতীয়া উৎসব পালিত হচ্ছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ দিনটি সোনা-রুপো কেনা এবং নতুন কোনও বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত শুভ। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে মূল্যবান ধাতু ক্রয় করলে পরিবারে সমৃদ্ধি আসে অর্জিত সম্পদ হয় অক্ষয় বা চিরস্থায়ী। উৎসবের এই আবহে সোনা-রুপোর বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যাপক তৎপরতা।
বিগত এক মাস ধরে সোনার দাম কখনও কমছে, আবার বাড়ছে। ২০২৫ সালে ১৫ এপ্রিল ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রায় ৯৫,৫০০ টাকা । চলতি বছরে তা বেড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার উপরে পৌঁছেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে সোনার দাম প্রায় ৬৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় আজ ১০ গ্রাম সোনা কিনতে আপনাকে সরাসরি প্রায় ৬০,০০০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে। উৎসবের এই মরসুমে বিনিয়োগকারীরা দামের ওপর কড়া নজর রাখছেন। কেডিয়া অ্যাডভাইজরির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) অক্ষয় তৃতীয়ার আশেপাশে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী পারফর্ম করেছে এবং গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য রিটার্ন দিয়েছে। MCX-এ সোনা গত বছরের অক্ষয় তৃতীয়ার তুলনায় প্রায় ৬৩.৪ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। MCX-এ সোনার দাম ৩০ এপ্রিল ২০২৫-এ প্রায় ৯৪,৬১১ টাকা থেকে বেড়ে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রায় ১,৫৪,৬০৯ তাকে পৌঁছয়। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে হিসেব করলে, সোনার দাম ২০২১ সালে ২.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে, পরবর্তী বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে।
সোনার দাম কোথায় পর্যন্ত পৌঁছতে পারে?
ভেন্টুরা সিকিউরিটিজের সিআরএম ও কমোডিটিজ বিভাগের প্রধান এন এস রামাস্বামী মনে করেন, আগামী বছর অক্ষয় তৃতীয়ার মধ্যে MCX সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ২ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে । তাঁর আশঙ্কা, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ নাগাদ MCX -এ সোনার দাম ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১,৭৫,০০০ টাকায় পৌঁছাবে। রামাস্বামী বলেছেন, অক্ষয় তৃতীয়ার সময়, বিশেষ করে যখন সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় থাকে, তখন ক্রেতারা ওজন বা পরিমাণের দিকে না তাকিয়ে বাজেটের মধ্যে সর্বোত্তম মানের সোনা কেনার চেষ্টা করেন। ভারী গহনার পরিবর্তে, ক্রেতারা প্রায়শই নিজেদের বাজেটের মধ্যে এই শুভ দিনে কেনাকাটার ঐতিহ্য বজায় রাখতে সোনার মুদ্রা, বার বা হালকা ওজনের (১৮-ক্যারেট) গয়নার দিকে ঝোঁকেন। এটি ঐতিহ্যের সঙ্গে আপস না করেও বাজেটের মধ্যে থাকার একটি বুদ্ধিমান কৌশল।
অন্যদিকে আইটিআই গ্রোথ অপরচুনিটিজ ফান্ডের সিআইও এবং ম্যানেজিং পার্টনার মোহিত গুলাটি বলেছেন, '৬৩ শতাংশ দাম বাড়ার পর মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি সোনা নিয়ে চিন্তিত কিনা। আমি চিন্তিত নই। আমি বরং ডলার নিয়ে বেশি চিন্তিত। যতক্ষণ পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি বাড়তে থাকবে এবং বাণিজ্য নীতি অনিশ্চিত থাকবে, সোনা কোনও ট্রেড নয়, এটি একটি পজিশন। আগামী অক্ষয় তৃতীয়ার মধ্যে ২,০০,০০০ টাকা? আমি এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেব না। যারা এই ধাতুকে অবমূল্যায়ন করে, তাদের অবাক করে দেওয়ার ক্ষমতা এর আছে। উল্লেখ্য, আজকাল, সোনার উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ হালকা ওজনের গয়না কিনছে। এছাড়াও, সোনা ও রুপোর মুদ্রা আগে থেকে বুকিং করা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা মানুষকে আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট মূল্য নিশ্চিত করার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিচক্ষণতার সঙ্গে এবং পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ করা হলে, সোনা আপনার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সম্পদ হতে পারে।
E-Paper

