Indian Good Maharaja Jaam Saheb: পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সাংবাদিক বৈঠকে নরেন্দ্র মোদীর মুখে শোনা গেল ‘ভালো মহারাজা’-র নাম। তাঁকে আজও পোল্যান্ডে ‘ভালো মহারাজা’ বা ‘Good Maharaja’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশয়ে তাঁর মূর্তিও আছে। আর সেই উপাধি এবং সম্মান প্রদর্শনের পিছনে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের এক ঘটনা। সেই ঘটনা ভারত এবং পোল্যান্ডের বন্ধুত্বের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
জামনগর ও কোলাপুরের রাজপরিবারের কথা উল্লেখ মোদীর

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়, ভারত এবং পোল্যান্ডের বন্ধুত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছে মানবিকতা এবং সংবেদনশীলতার উপরে দাঁড়িয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জামনগর এবং কোলাপুরের রাজপরিবার পোল্যান্ডের হাজার বাচ্চা এবং পরিবারকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছিল।'
‘গুড মহারাজা’ হিসেবে জাম সাহেবকে স্মরণ মোদীর
সেই রেশ ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, 'আজও পোল্যান্ডের মানুষ জাম সাহেবকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ডোবরি মহারাজা অর্থাৎ গুড মহারাজা নামে স্মরণ করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেন থেকে আমাদের পড়ুয়াদের সুরক্ষিতভাবে ফেরানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে পোল্যান্ডও মানবিকতার এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।’
আরও পড়ুন: INDIA bloc next plans: ১ নভেম্বর দিল্লিতে ‘প্রতিবাদ সমাবেশ!’ রূপরেখা ঠিক করতে আলোচনায় ইন্ডিয়া জোট
‘জাম সাহেব’ আসলে কে?
আর তৎকালীন নবাবনগর এবং অধুনা জামনগরের রাজা সেই 'জাম সাহেব'-র আসলে নাম হল দিগ্বিজয়সিংজি রঞ্জিতসিংজি জাদেজা। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১,০০০ জনের বেশিও পোলিশকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। অধিকাংশই ছিল শিশু। যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পালাতে বাধ্য হয়েছিল। সেই মানবিক কাজকে স্মরণ করে পোল্যান্ডের কমপক্ষে আটটি স্কুলের নামকরণ করা হয়েছে 'জাম সাহেব'-র নামে।
{{/usCountry}}আর তৎকালীন নবাবনগর এবং অধুনা জামনগরের রাজা সেই 'জাম সাহেব'-র আসলে নাম হল দিগ্বিজয়সিংজি রঞ্জিতসিংজি জাদেজা। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১,০০০ জনের বেশিও পোলিশকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। অধিকাংশই ছিল শিশু। যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পালাতে বাধ্য হয়েছিল। সেই মানবিক কাজকে স্মরণ করে পোল্যান্ডের কমপক্ষে আটটি স্কুলের নামকরণ করা হয়েছে 'জাম সাহেব'-র নামে।
{{/usCountry}}পোল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পোলিশ শিশুদের জন্য বিশেষ শিবির তৈরি করা হয়েছিল। আর তা নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে জড়িয়ে ছিলেন জাম সাহেব। সেখানকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার জন্য প্রচুর গাছ বসানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিশেষত কলা চারা, পেঁপের চারা এবং ফুল গাছের উপর জোর দিয়েছিলেন মহারাজা। আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন পোল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: PHP flaws found: সাইবার হামলার শঙ্কা! বিশ্বজুড়ে দেশি-বিদেশি সংস্থার একাধিক ওয়েসাইট বন্ধের হিড়িক
তারইমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন জাম সাহেব। ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব সামলেছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্য কেএস রঞ্জিতসিংজির নামেই ভারতের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের নামকরণ করা হয়েছে রঞ্জি ট্রফি।