India's startup ecosystem: 'ভারতের...,' চিনকে অনুকরণ করে লাভ নেই কেন? নিখিল কামাথকে বোঝালেন গ্লোবাল বিজনেসম্যান

India's startup ecosystem: ভারতে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করা মার্টিন এসকোবারি বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জানান, তিনি যখন প্রথম চিন সফরে গিয়েছিলেন, তখন দেশটির জিডিপি ব্রাজিলের চেয়ে মাত্র ২০ শতাংশ বেশি ছিল।

Published on: Jun 11, 2026, 23:33:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India's startup ecosystem: যখন 'জিরোধা'র সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থা জেনারেট আটলান্টিক-এর কো-প্রেসিডেন্ট মার্টিন এসকোবারির কাছে জানতে চান যে, চিনের অর্থনৈতিক উত্থান থেকে ভারতের কী শেখার আছে-তখন এসকোবারি কিন্তু বেজিংকে হুবহু অনুকরণ করার কোনও সহজ দাওয়াই বা 'প্লে-বুক' বাতলে দেননি। বরং তাঁর উত্তর ছিল অনেক বেশি সতর্ক এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: ভারতকে তার নিজস্ব পথ খুঁজে নিতে হবে, আর বিনিয়োগকারীদের রাখতে হবে ধৈর্য।

জেনারেট আটলান্টিক-এর কো-প্রেসিডেন্ট মার্টিন এসকোবারি (সৌজন্যে টুইটার)
জেনারেট আটলান্টিক-এর কো-প্রেসিডেন্ট মার্টিন এসকোবারি (সৌজন্যে টুইটার)

ভারতে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করা এসকোবারি বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জানান, তিনি যখন প্রথম চিন সফরে গিয়েছিলেন, তখন দেশটির জিডিপি ব্রাজিলের চেয়ে মাত্র ২০ শতাংশ বেশি ছিল। বিগত ২৫ বছরে চিনের অভাবনীয় রূপান্তরের ব্যাপকতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'আর আজ, চিনের অর্থনীতি ব্রাজিলের চেয়ে ১৪ গুণ বড়।' কামাথ তাঁর কাছে জানতে চান যে, চিন ঠিক কোন কোন জায়গায় বাজিমাত করেছে? জবাবে এসকোবারি বলেন, চিন মূলত ব্যাপক 'শিল্পায়ন' করেছে, পরিকাঠামো বা ইনফাস্ট্রাকচার তৈরি করেছে, ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আপন করে নিয়েছে এবং রপ্তানি-ভিত্তিক উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে নিজেদের মূল পরিচিতি হিসেবে গড়ে তুলেছে। এর জবাবে নিখিল কামাথ চিনের আরেকটি বড় সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর কোনও নির্বাচন হয় না, তাই তারা চার বছরের মেয়াদি পরিকল্পনার বদলে দীর্ঘমেয়াদি '৪০ বছরের পরিকল্পনা' অনায়াসে করতে পারে।

এসকোবারি কামাথের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে জানান, ভারতের সমাধান বা কৌশল কখনোই চিনের মডেলের হুবহু ‘কপি-পেস্ট’ হতে পারে না। তিনি বলেন, 'আপনাদের সমাধানটি হতে হবে অনেক বেশি সূক্ষ্ম এবং ভারতের নিজস্ব অনন্য সমৃদ্ধি, ঐতিহ্য ও জটিলতাগুলোর ওপর ভিত্তি করে কাস্টম-মেড বা বিশেষভাবে তৈরি।' তবে ভারতের সামগ্রিক অগ্রগতির অভিমুখ নিয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। ভারতের প্রবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, '৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কোনও ছোট কথা নয়। টানা ১০ বছর ধরে ৮ শতাংশের চক্রবৃদ্ধি হারে এই বৃদ্ধি ঘটতে থাকা অনেক বড় বিষয়। তাই নিজের দেশের ওপর একটু আস্থা ও ধৈর্য রাখুন।' কামাথ জানান, তিনি ভারতের বাজারের ওপর 'সম্পূর্ণ ভরসা' রাখছেন; আংশিকভাবে এর কারণ হলো তিনি এই দেশ থেকেই নিজের ভাগ্য গড়েছেন, আর আংশিকভাবে তাঁর বিশ্বাস যে ভারত একদিন নিশ্চিতভাবেই ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তাঁর কথায়, 'এটি হয়তো পাঁচ বছরে হবে না। হয়তো আট বছর বা ১০ বছরেও হবে না, তবে তা ঘটবেই।' তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে তিনি আইটি পরিষেবা এবং ব্যাঙ্কিং খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে নিজের পোর্টফোলিও নতুন করে সাজাচ্ছেন।

তিনি স্বীকার করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-প্রধান এই যুগে আইটি পরিষেবা সংস্থার শেয়ার কেনা অনেকের কাছেই স্রোতের বিপরীতে হাঁটার মতো মনে হতে পারে; তবে যেসব ভারতীয় কোম্পানির শক্তিশালী ব্যবসায়িক সুরক্ষা বলয় বা ‘মোট’ রয়েছে এবং যাদের মূল্যায়ন আয়ের ১২ থেকে ১৫ গুণ, সেগুলোতে বিনিয়োগ করা তাঁর কাছে এখনও যুক্তিযুক্ত মনে হয়। এরপরই আলোচনার মোড় ঘোরে এমন একটি প্রশ্নের দিকে, যা বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে ভাবিয়ে তুলছে: ভারত কেন এখনও বিশ্বমঞ্চে বড় আকারের কোনও ‘গ্লোবাল কোম্পানি’ বা বৈশ্বিক স্তরের প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারল না? এর জবাবে এসকোবারি বলেন, এই ধরনের ‘রোল মডেল এফেক্ট’ বা উদাহরণ তৈরি করতে কেবল একজন পথপ্রদর্শকের প্রয়োজন। তিনি বলেন, 'এটি করা সম্ভব। কারণ এখন পুঁজি বা ক্যাপিটালের অভাব নেই। তার ওপর সঠিক সময়ে এআই-প্রশিক্ষিত বিপুল পরিমাণ দক্ষ মানবসম্পদের এক অভাবনীয় সুবিধা রয়েছে ভারতের হাতে। এখন শুধু প্রয়োজন এমন কিছু করার সাহস, যা আগে কেউ কখনও করেনি।' তিনি আরও যোগ করেন, একবার যদি কোনও একটি ভারতীয় কোম্পানি বিশ্বমঞ্চে এই বাধা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারে, তবে তা বাকিদেরও সাহস জোগাবে। তবে এর পাশাপাশি ভারতের একটি প্যারাডক্সের দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি। তাঁর মতে, ১৩০ কোটি মানুষের এই বিশাল বাজার একই সঙ্গে যেমন আশীর্বাদ, তেমনই এক মস্ত বড় ফাঁদও বটে। একে 'অভ্যন্তরীণ বাজারের অভিশাপ' বলে অভিহিত করে এসকোবারি বলেন, এর ফলে কোম্পানিগুলো কেবল ভারতের বাজারেই পরিষেবা দিতে দিতে বড্ড বেশি ‘কমফোর্ট জোন’ বা আরামদায়ক বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, 'একটি নতুন দেশে যাওয়া, বহু-দেশীয় টিম তৈরি করা এবং নিজের চেনা আরামদায়ক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসাটা সত্যিই কঠিন ও অস্বস্তিকর।' তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন যে, ভারতের বাজার জয় করাও কিন্তু কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশ জয় করার মতো সহজ বিষয় নয়। তিনি বলেন, 'আপনাদের দেশের বৈচিত্র্য এতটাই বিশাল যে, যিনি ভারত ঘুরে দেখেননি তাঁর পক্ষে তা অনুধাবন করা অসম্ভব। এটি স্রেফ একটি দেশ নয়, বরং এটি হলো একাধিক সভ্যতার এক অনন্য মেলবন্ধন।'