Tamil Nadu Assembly elections: নায়ক থেকে জননায়ক! দুই মেরুর রাজনীতিতে 'তৃতীয় শক্তি' বিজয় কী ঝড় তুলবে?

Tamil Nadu Assembly elections: বৃহস্পতিবার পেরাম্বুরে ভোট পড়েছে ৮৯.১২ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে, তিরুচিরাপল্লি পূর্ব-এ ভোটের হার ৮১.৫১ শতাংশ। দুটি বিধানসভা আসনে এই ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

Published on: Apr 23, 2026, 23:12:38 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Tamil Nadu Assembly elections: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক মোড়। বহু দশক ধরে রাজ্যটি মূলত দুই প্রধান দল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবারের ভোটে সেই চিরাচরিত দ্বিমুখী লড়াই ভেঙে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা-থেকে-রাজনীতিক বিজয়। যার দল দল 'তামিলাগা ভেট্রি কাঝাগম' ভোটের সমীকরণ আমূল বদলে দিয়েছে। এবার বিজয় তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি পূর্ব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন। আর এই দুটি আসনেই বিপুল সংখ্যক ভোট পড়ায়, এখন সকলের মনে একটাই প্রশ্ন উঠছে, সুপারস্টার কী তাঁর ভক্তদের সমর্থনকে একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদে পরিণত হতে পারবেন?

বিজয় কী ঝড় তুলবে?
বিজয় কী ঝড় তুলবে?

বৃহস্পতিবার পেরাম্বুরে ভোট পড়েছে ৮৯.১২ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে, তিরুচিরাপল্লি পূর্ব-এ ভোটের হার ৮১.৫১ শতাংশ। দুটি বিধানসভা আসনে এই ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আর দুটি আসনে বিজয় প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় জনমানসে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বলে রাখা ভালো, তামিলনাড়ুতে মোট ভোট পড়েছে ৮৪.৫১ শতাংশ।

বিজয়ের জনপ্রিয়তা কী জয় ছিনিয়ে আনবে?

নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বছরের পর বছর ধরে তামিলনাড়ুতে, বিশেষ করে তরুণ এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শহুরে ভোটারদের মধ্যে বিজয়ের অন্যতম বৃহত্তম ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। তাঁর ছবি মুক্তি প্রায়শই রাজনৈতিক ধাঁচে উদযাপন করা হতো এবং সেই জনপ্রিয়তাই তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশের জল্পনাকে উস্কে দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন আর সিনেমার মুক্তি এক জিনিস নয়। এটি নির্ভর করে বুথ ব্যবস্থাপনা, দলীয় কর্মী, ভোটার সমাবেশ এবং স্থানীয় জাতি-সম্প্রদায়গত সম্পর্কের ওপর। আর এখানেই ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলো এখনও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চেন্নাইয়ের শ্রমিক-শ্রেণি ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত আসন পেরাম্বুরে, বিজয়ের তারকা খ্যাতি তরুণ এবং নতুন ভোটারদের মধ্যে প্রবলভাবে সাড়া ফেলতে পারে। ২০২১ সালে এই আসনটিতে ডিএমকে-র আরডি শেখর জয়ী হয়েছিলেন। সামগ্রিকভাবে চেন্নাই জেলায় তামিলনাড়ুর অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ভোটদানের হার ৮৬ শতাংশে উন্নীত হওয়াটা এই লড়াইয়ে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তিরুচিরাপল্লি পূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বহুমুখী। এই আসনে শহুরে ভোটার, ব্যবসায়ী, সংখ্যালঘু এবং দলের একনিষ্ঠ অনুগতরা রয়েছেন। ২০২১ সালে ডিএমকে-র ইনিগো এস ইরুদয়রাজ এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। বিজয় যদি এখানে ভালো ফল করেন, তবে তা প্রমাণ করবে যে তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু শহুরে সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আরও ব্যাপকতা রয়েছে।

প্রথমবার বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন বিজয়?

প্রথমবার যারা প্রার্থী হন এমনকী খ্যাতিনামারাও, প্রায়শই পরিচিতিকে নির্বাচনী জয়ে রূপান্তরিত করতে হিমশিম খান। কিন্তু বিজয় রাজনীতিতে অপরিচিত মুখ হিসেবে প্রবেশ করেননি। তিনি এসেছেন একটি সুসংগঠিত ভক্তগোষ্ঠী এবং কয়েক মাসের প্রচারের ঢেউ নিয়ে। পেরাম্বুরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি যদি প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়া ভোটার, মহিলা এবং তরুণ বাসিন্দাদের নীরব সমর্থনের প্রতিফলন হয়, তবে বিজয় অপ্রত্যাশিতভাবে বড় ব্যবধানে জয়ী হতে পারেন। তিরুচিরাপল্লি পূর্বে, প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্ধিতা করা একজন নবাগতের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হবে।

বিজয় কি রেকর্ড জয় পাবেন?

পেরাম্বুর সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিতে পারে। চেন্নাইয়ের একটি শহুরে নির্বাচনী এলাকায় ৮৯ শতাংশ ভোটদানের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, এই ধরনের ভোটদানের হার কখনও কখনও এমন প্রার্থীকে সুবিধা করে দেয়, যিনি নীরব ভোটারদেরও উজ্জীবিত করে তোলেন। বিজয়ের বহিরাগত ভাবমূর্তি এবং তারকা খ্যাতি ঠিক তাই করতে পারে। এই মুহূর্তে শুধুমাত্র ভোটদানের সংখ্যা দিয়ে ফলাফল বলা সম্ভব নয়। তবে আগামীদিনে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক অপ্রতিরোধ্য নতুন শক্তির আগমন ঘটতে পারে।