Women’s Reservation Act 2023: ১৬ এপ্রিল থেকেই বলবৎ! সংসদে বিতর্কের মধ্যেই মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর কেন্দ্রের

Women’s Reservation Act 2023: এখন নরেন্দ্র মোদী সরকার ফের সংবিধান সংশোধন করে নতুন জনগণনার ব্যাপারটি তুলে দিতে চাইছে। সরকার চাইছে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে অথবা বর্তমান আসনের আনুপাতিক হারে আসন পুনর্বিন্যাস করে দিতে।

Published on: Apr 17, 2026 11:45 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Women’s Reservation Act 2023: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। শাসক-বিরোধী জোর তরজা। প্রবল আপত্তি বিরোধীদের। অবস্থানে অনড় শাসক শিবির। মধ্যরাত পর্যন্ত বিতর্ক। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংরক্ষণ সংশোধনী আইন আদৌ পাশ হবে কিনা সেটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শুক্রবার। এদিন বিকালেই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এরই মধ্যে হঠাতই বৃহস্পতিবার রাতে একটি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই কার্যকর করা হল ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রায় আড়াই বছর পর এই আইনটি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। এখন প্রশ্ন উঠছে লোকসভায় প্রস্তাবিত মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করানো সম্ভব নয় আঁচ করেই কী রাতারাতি পুরনো বিল কার্যকর করল সরকার?

মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর কেন্দ্রের (PTI)
মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর কেন্দ্রের (PTI)

আসলে ২০২৩ সালেই সংবিধান সংশোধন করে দেশের সব আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইন পাশ করায় নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেবার বিরোধীরাও ওই বিলটিকে সমর্থন করে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। যেহেতু ২০১১ সালের পর আর কোনও জনগণনা হয়নি, তাই ওই আইন আর কার্যকর হয়নি। বিলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর একবার গেজেট নোটিফিকেশন করেছিল কেন্দ্র। সেখানে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকার যখন মনে করবে তখন গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে এই বিলকে আইন হিসেবে লাগু করবে। এবার সেই পুরনো পাশ হওয়া বিলকেই এবার আইন হিসেবে কার্যকর করল কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, 'সংবিধান (১০৬তম সংশোধনী) আইন, ২০২৩-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখটিকে এই আইনের কার্যকরের দিন হিসেবে নির্ধারণ করছে।' সংসদে বর্তমানে ডিলিমিটেশন বিল (আসন পুনর্বিন্যাস) এবং মহিলা সংরক্ষণের আরও কিছু সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলছে। আজ বিকেল ৪টের সময় এই সংক্রান্ত বিলের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই পুরনো আইনটি কার্যকর করে কেন্দ্র কৌশলগতভাবে এক কদম এগিয়ে থাকল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এখন কেন আইন হিসেবে কার্যকর হল?

এখন নরেন্দ্র মোদী সরকার ফের সংবিধান সংশোধন করে নতুন জনগণনার ব্যাপারটি তুলে দিতে চাইছে। সরকার চাইছে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে অথবা বর্তমান আসনের আনুপাতিক হারে আসন পুনর্বিন্যাস করে দিতে। শুধু তাই নয়, এরপর কবে আসন পুনর্বিন্যাস হবে, সেটা কীসের ভিত্তিতে হবে সবটাকেই সরকারের হাতে করে নিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন আইন পাশ হলে আর সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে না। তাতেই তীব্র আপত্তি বিরোধীদের। সেই নিয়ে বিতর্ক চলছে। বেনজিরভাবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত সংসদে বিতর্ক চলেছে। আজ ভোটাভুটিও হওয়ার কথা। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে ২০২৩ সালের আইনটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? সরকারের তরফে কিছু জানানো হয়নি। তবে বিরোধীদের দাবি, সংসদে যখন এই সংক্রান্ত নতুন বিল ও সংশোধন নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন পুরনো আইন কার্যকর করে সরকার সংসদকে এড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রস্তাব (ডিলিমিটেশন বিল) নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন এই পদক্ষেপে রাজনীতির গন্ধ দেখছেন অনেকেই।

প্রসঙ্গত, লোকসভায় এনডিএ সদস্য সংখ্যা ২৯৩। এদিকে যদি ৫৪৩ জন সাংসদই উপস্থিত থাকেন তবে বিল পাশ করাতে প্রয়োজন ৩৬০ জনের সমর্থন। বাকি ৬৭ জন সাংসদের সমর্থন সরকার কীভাবে জোগাড় করবে কেন্দ্র, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে ডিলিমিটেশন বিলকে রুখতে মরিয়া বিরোধী শিবির। আজ সকাল দশটায় ফের বৈঠকে বসেছে ইন্ডিয়া জোটের সংসদীয় দলের নেতারা।