জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সন্তানলাভে বিলম্ব বা সমস্যা হওয়ার পিছনে গ্রহের অবস্থান, বিভিন্ন যোগ এবং জন্মছকের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলির দুর্বলতা দায়ী হতে পারে। দেখে নিন প্রধান প্রধান কারণগুলি কী কী।
১. দুর্বল পঞ্চমত ক্ষেত্র

পঞ্চমত ক্ষেত্র: জন্মছকের পঞ্চম ক্ষেত্রটি সন্তান, বুদ্ধি, সৃজনশীলতা এবং পূর্বজন্মের পুণ্য নির্দেশ করে। এই ক্ষেত্রটি দুর্বল বা পীড়িত হলে সন্তানধারণে সমস্যা হতে পারে।
কারক গ্রহ: সন্তান উৎপাদনের প্রাকৃতিক কারক গ্রহ হলো বৃহস্পতি। বৃহস্পতি দুর্বল, পাপগ্রহ দ্বারা পীড়িত বা নীচস্থ হলে সন্তানপ্রাপ্তিতে দেরি হতে পারে।
২. পাপগ্রহের প্রভাব
পঞ্চমে পাপগ্রহ: যদি পঞ্চম স্থানে শনি , রাহু , কেতু , বা মঙ্গল -এর মতো পাপগ্রহ অবস্থান করে, তবে তা সন্তানসুখে বাধা সৃষ্টি করে। শনি ও কেতু প্রায়শই বিলম্ব ঘটায়, আর মঙ্গল বা রাহু ক্ষেত্রটিকে পীড়িত করলে গর্ভপাত বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পঞ্চমেশ-এর দুর্বলতা: পঞ্চম ক্ষেত্রের অধিপতি (পঞ্চমেশ) যদি দুর্বল, নীচস্থ বা ষষ্ঠ, অষ্টম বা দ্বাদশ স্থানে অবস্থান করে, তবে সন্তানসুখ পেতে কষ্ট হয়।
৩. বিশেষ অশুভ যোগ
সন্তানহানি যোগ: কিছু ক্ষেত্রে, পঞ্চম স্থানে শনি ও মঙ্গলের মতো গ্রহের সংযোগ সন্তানহানি বা গর্ভপাতের প্রবণতা বাড়ায়।
নাগ দোষ বা সর্প দোষ: যদি রাহু বা কেতু পঞ্চম স্থানে, বিশেষত লগ্নের সঙ্গে বা কারক গ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে এটিকে প্রায়শই 'নাগ দোষ' বা 'সর্প দোষ' বলা হয়, যা সন্তানলাভে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
{{/usCountry}}নাগ দোষ বা সর্প দোষ: যদি রাহু বা কেতু পঞ্চম স্থানে, বিশেষত লগ্নের সঙ্গে বা কারক গ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে এটিকে প্রায়শই 'নাগ দোষ' বা 'সর্প দোষ' বলা হয়, যা সন্তানলাভে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
{{/usCountry}}কাল সর্প দোষ: যদি জন্মছকের সমস্ত গ্রহ রাহু ও কেতুর মধ্যে অবস্থান করে, তাহলে কাল সর্প দোষ তৈরি হয়, যা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষত সন্তানসুখে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
আরও পড়ুন - Vivah Panchami 2025: বিবাহ পঞ্চমী ২০২৫ সালে কবে, কখন? জানুন তিথি, শুভক্ষণ ও পুজো বিধি
আরও পড়ুন - Vastu Tips: বিয়ের কার্ড ছাপানোর সময় ভুলেও করবেন না এই ৪ বাস্তুদোষ! দাম্পত্য সুখী করতে জানুন এখনই
৪. দম্পতির ছকে গ্রহের অসামঞ্জস্য
একজনের জন্মছকে সন্তান লাভের অনুকূল সময় চলছে, কিন্তু অন্যজনের ছকে প্রতিকূল দশা বা গোচর চললে, সন্তানলাভে সামগ্রিকভাবে দেরি হতে পারে। দম্পতির উভয় ছকের বিচার প্রয়োজন। জ্যোতিষ মতে এই সমস্যাগুলির প্রতিকারের জন্য গ্রহের শান্তি, রত্ন ধারণ, নির্দিষ্ট মন্ত্র জপ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়।