‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবেই’, এমন নাকি বলেছিলেন বাবা ভাঙ্গা! ফের ভাইরাল তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী
বাবা ভাঙ্গা কি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অনেক আগেই? এই বছরেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধতে পারে, এমন কথা কি তিনি বলেছিলেন? অনেকের মনেই দানা বাঁধছে সেই সন্দেহ।
বাবা ভাঙ্গা—বুলগেরিয়ার এই অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা, যাঁর করা বহু ভবিষ্যদ্বাণী অতীতে হুবহু মিলে গেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া অশান্তি, ইসরায়েল-ইরান সংঘাত এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্ববাসীকে ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে বাবা ভাঙ্গার সেই ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তার কথা। ২০২৬ সালের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেন এই ভবিষ্যদ্বাণীটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হচ্ছে, তা বিস্তারিত জেনে নিন এখান থেকে।

বাবা ভাঙ্গার ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী কি ইঙ্গিত দিয়েছিল ২০২৬-এ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার? ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে তেমনই উদ্বেগ বাড়ছে মানুষের মনে।
(আরও পড়ুন: নামেও চমক, কাজেও তেমনই! কলাত্মক রাজযোগ ৩ রাশির ভাগ্য বদলে জৌলুস ও অঢেল সম্পদ দেবে মার্চ থেকেই)
বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা দেখে অনেকেই মনে করছেন, আমরা হয়তো এক বিধ্বংসী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। বাবা ভাঙ্গা, যাঁকে 'বলকানের নস্ট্রাডামাস' বলা হয়, তিনি মৃত্যুর আগে ২০২৬ সাল এবং তার পরবর্তী সময় নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার হস্তক্ষেপ সেই পুরনো ভবিষ্যদ্বাণীকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
কেন আলোচনায় বাবা ভাঙ্গা?
বাবা ভাঙ্গা ৯/১১ হামলা, বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং ব্রেক্সিট নিয়ে যা বলেছিলেন, তা হুবহু মিলে গিয়েছে। ২০২৬ সাল নিয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছিল যে, এই সময়কালে এক বিশাল ইউরোপীয় দেশ অন্য কোনো দেশের ওপর জৈবিক অস্ত্রের (Biological Weapons) প্রয়োগ করতে পারে। একইসাথে তিনি এক বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যার কেন্দ্রবিন্দু হবে মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রগুলো।
(আরও পড়ুন: অস্ত যাচ্ছেন শনিদেব, যেতে যেতে ৩ রাশির উপর থেকে বিপদের মেঘ সরিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন তিনি! কারা তারা)
বর্তমান পরিস্থিতি ও যুদ্ধের মেঘ
বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে রণংদেহি মেজাজ তৈরি হয়েছে, তা কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে চলা উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরান-ইসরায়েল ফ্যাক্টর: ইরানের ওপর ইসরায়েলের বিমান হামলা এবং পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি বিশ্ব অর্থনীতিকে সংকটে ফেলেছে। বাবা ভাঙ্গার অনুসারীরা মনে করেন, এই সংঘাতই সেই ফুলকি যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে।
পারমাণবিক ও জৈবিক যুদ্ধের আশঙ্কা: বাবা ভাঙ্গার মতে, ২০২৬ সালে পৃথিবী এমন এক যুদ্ধের সাক্ষী হতে পারে যেখানে প্রথাগত অস্ত্রের বদলে আধুনিক মারণাস্ত্র ও ভাইরাসের ব্যবহার বাড়বে।
(আরও পড়ুন: গুরুদেব সোজা পথে চললেই জীবন বদলাবে ৩ রাশির! ১১ মার্চে মার্গী হবেন সেই বৃহস্পতি, সুফল পাবেন কারা)
২০২৬ নিয়ে আরও কিছু সতর্কবার্তা
বাবা ভাঙ্গা কেবল যুদ্ধের কথা বলেননি, তিনি পৃথিবীর কক্ষপথের পরিবর্তন এবং ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মতে, ২০২৬ সালে মহাকাশ থেকে আগত কোনো বিপদের কারণে পৃথিবীর জলবায়ুতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এসবের অনেক কিছুই প্রমাণিত নয়, তবুও বিশ্বজুড়ে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে।
বাস্তবতা না কি নিছক আতঙ্ক?
ভবিষ্যদ্বাণী অনেক সময় রূপক অর্থে প্রকাশ করা হয়। তবে বর্তমানের ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল টানাপোড়েন এবং এশিয়ার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোটেও উপেক্ষা করার মতো নয়। বাবা ভাঙ্গার কথা সত্যি হবে কি না তা সময়ই বলবে, তবে শান্তিকামী মানুষ এখন কেবলই যুদ্ধের এই মেঘ কেটে যাওয়ার অপেক্ষা করছে। বিশ্বনেতাদের কূটনৈতিক প্রজ্ঞা যদি এই সংকটে ব্যর্থ হয়, তবে বিংশ শতাব্দীর সেই অন্ধ সন্ন্যাসিনীর কথা হয়তো চরম সত্য হয়েই ধরা দেবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


